1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে `লকডাউন’ বাস্তবায়ন নেই, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

  • Update Time : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪১ Time View

রাসেল চৌধুরী : প্রাণঘাতী করোনার ভয়াবহতা বিবেচনায় কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। এই লকডাউনের আওতায় রয়েছে ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পও। কিন্তু উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লকডাউনের প্রভাব পড়েনি  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কোন নির্দেশনাও মানছেনা রোহিঙ্গারা। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে তাদের। ক্যাম্পে দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা, দোকান পাট রয়েছে খোলা। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে একসঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছেন তারা।

প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বিশাল জনঘনত্ব ক্যাম্পগুলোতে করোনা সংক্রমণ ঘটলে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকে চোখে পড়ে লোকজনের আনাগোনা। এত লোকজনের ভিড়, কে কোথায় যাচ্ছেন বোঝা মুশকিল। খোলা রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, কাপড় ও চায়ের দোকান। আড্ডা জমজমাট। এ সময় এক চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায় ১০/১৫ জনের বেশি বয়স্ক লোকজনকে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি এমনই বলে জানা গেছে।

চায়ের দোকানে বসা একজন বয়স্ক রোহিঙ্গা হাসমত। তিনি বলেন, ‘সকালে বের হয়ে এখানে সবাই মিলে কথা-বার্তা বলছি। একবারে জোহরের নামাজ পড়ে ঘরে যাবো। করোনা ভাইরাস (অসুখ) রোগ একটা এসেছে বলে শুনেছি। কিন্তু কীভাবে তা থেকে রক্ষা পাবো তা জানি না। এ থেকে বাচঁতে যে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, তাও জানি না।

বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের বি ব্লকের মাঝি নূর বশর বলেন, ‘ক্যাম্পে ঘনবসতি হওয়ায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছি আমরা। কিন্তু করোনা রোধে ব্লকে ব্লকে গিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেকে নিয়ম মানছেন না। আগের মতো স্বাভাবিক চলাচল করছেন। এখানে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধরা।’

এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে ভয়ও বেড়েছে। কেননা করোনা ছোঁয়াচে রোগ। তাছাড়া ক্যাম্পে ঘিঞ্জি বসতি, তাই ঝুঁকিটাও বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে চোখে পড়ার মতো কোনও কার্যক্রম হয়নি। কীভাবে এই ভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায়, সেটি অনেকে জানেন না।’

বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প ৯ হেড মাঝি আবু তাহের বলেন, ‘করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় হাত ধোয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সচেতনমূলক কার্যক্রম করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু কিছু লোকজন তা অমান্য করে জীবন যাত্রা স্বাভাবিক রেখেছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. শাহ আলম বলেন,, ‌’করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এখানে জনঘনত্বে লোকজনের বসবাস। যদি এখানে কেউ আক্রান্ত হন, তবে তার থেকে সবখানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।’
তিনি বলেন, ‌’এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এখন সবার উচিত হবে, কোনোভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে যেন লোকজন বেরিয়ে না আসে তা নিশ্চিত করা । র‍্যাব ক্যাম্প তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা যেন স্ব স্ব এলাকায় করোনা বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে।’

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ঝুঁকিটা বেশি। তবে এ রোগ যেন শিবিরে না ছড়ায় সে ব্যাপারে প্রতিনিয়ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com