1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

স্থানীয়দের অগ্রাধিকার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

  • Update Time : সোমবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৬২ Time View

।।শামীমুল ইসলাম।।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওতে স্থানীয়দের চাকরীতে অগ্রাধিকার ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার ব্যানারে উখিয়ার কোটবাজারে ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বরণকালের বৃহৎ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। অন্যদিকে কক্সবাজার শহরে ও স্থানীয়দের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীত বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে।

গতকাল রবিবার চট্রগ্রামস্থ উখিয়া সমিতি চট্রগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানব-বন্ধন করেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের প্রতি উখিয়া -টেকনাফ তথা কক্সবাজার কে রক্ষা করতে অতি দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানান। পাশাপাশি বক্তারা সরকারের কাছে উখিয়া-টেকনাফের প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিধ্বস্থ অবকাঠামোর রক্ষণা-বেক্ষণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও তাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা, সড়কে নিরাপত্তার কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া, রোহিঙ্গাদের বাসস্থানের জন্য উজাড়কৃত বনাঞ্চল রক্ষায় নতুন বনায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন এনজিও আইএনজিওতে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের চাকুরীতে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করণসহ সরকারের কাছে তাদের নানা দাবী তুলে ধরেন।

উখিয়ার তরুণদের গড়ে তোলা আন্দোলনের সাথে শুরু থেকে সংহতি প্রকাশ করা উখিয়ার তরুণ জননেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা আসার কারণে উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষের সামাজিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগসহ অর্থনৈতিক ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এই ক্ষতি কোন ভাবে পুরণ করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওতে স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করা গেলে তাদের ক্ষতির কিছু হলেও নিরুপন করা যাবে। তাই এনজিও গুলোতে স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার আহবায়ক শরীফ আজাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার বার বার তালবাহানা করেছে। এই অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অবস্থানের কারণে উখিয়া টেকনাফের প্রাকৃতিক পরিবেশ, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হয়ে পড়েছে। তিনি এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতি সংঘের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে সরকারকে পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন,বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ক্যাম্পে কাজ করছে।এসব এনজিও সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিপুল পরিমান কর্মী প্রয়োজন।কিন্তু সংস্থা গুলোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা এসব কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কে বাদ দিয়ে তারা তাদের আত্মীয় স্বজনদের নিয়োগ দিচ্ছে। অথচ এই রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগণ।স্থানীয়দের ফসলি জমিতে পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের কে জায়গা দিতে হয়েছে। এর পরেও চাকরীর ক্ষেত্রে কেন স্থানীয়রা বঞ্চিত তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইতিমধ্যে যাদের কে বিভিন্ন এনজিও থেকে ছাঁটাই করেছে তাদের চাকরী ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানান।তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের জন্য ৮০% কোটা বরাদ্দের ও জোর দাবী জানান।

চট্রগ্রামস্থ ‘উখিয়া সমিতির’ সহ সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম নুরুল বশর সুজন বলেন তারা স্থানীয়দের চলমান আন্দোলকে সমর্থন করেন। তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের দাবী সমূহ মেনে নেওয়ার দাবী জানান।

চট্টগ্রামস্থ উখিয়া সমিতির সদস্য রফিকুল ইসলাম রাইসুল বলেন- রোহিঙ্গাদের আগমনের কারণে উখিয়া-টেকনাফের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। এর পরেও কেনোস্থানীয়দেরকে বঞ্চিত করা হবে। তিনি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার চলমান আন্দোলনকে আরো বেগমান করার জন্য চট্টগ্রামে পরে আরো বৃহৎ জমায়েতের কথা ঘোষণা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com