1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

মানুষ মানুষের জন্য, এসো তবে দুর্যোগে যোগাই-গরীবের মুখে অন্ন

  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০
  • ১৩৫ Time View
Human Hand.

বরাবর,
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন,
উখিয়া উপজেলা পরিষদ,
অফিসার ইনচার্জ (ওসি),
এবং সকল জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।

আচ্ছালামু আলাইকুম।
প্রকৃতির বৈরীতায় করোনা নামক প্রাণসংহারকারী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বমানবতা আজ স্তম্ভিত, উৎকন্ঠিত এবং অবরুদ্ধ! ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের বহু উন্নত দেশ মৃত্যুপুরীতে রুপ নিয়েছে। বিশ্বের তাবদ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হিমসিম খাচ্ছেন এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিস্কার করতে গিয়ে। কিন্তু এখন অবদি আমাদের জন্য তেমন কোন আশাজাগানিয়া তথ্য নেই। যেহেতু, এই ভাইরাসটি ম্যান টু ম্যান সংক্রমিত হতে পারে তাই, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআর এবং দেশি-বিদেশী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেনতা এবং সংক্রমিত ব্যক্তি, স্থান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকা থেকে নিজেকে দূরে রেখে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘরে অবস্থানের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেইমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের গুরুত্বপূর্ন স্থানসহ সংক্রমিত এলাকাসমূহকে সম্পূর্ণরূপে লকডাউন এর আওতায় নিয়ে এসেছে। কোনকোন দেশ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকাতে ১৪৪ ধারা জারি করে লোকজনকে ঘরে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও সেই লক্ষ্যে গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গুটিকয়েক ছাড়া সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারন ছুটি ঘোষনা করেছে। ফার্মেসী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট ছাড়া বাকিসব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারী এই নির্দেশনা নিশ্চিত করতে পু্লিশ বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে। আমাদের উখিয়া উপজেলায়ও এসকল নির্দেশনা পালিত হচ্ছে। কিন্তু, আমরা খেয়াল করছি যে, সরকারী এই নির্দেশনা মানতে গিয়ে অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ তিনবেলার খাবার যোগাড় করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। যা নিতান্তই স্বাভাবিক। ফলে পেটের তাগিদে তারা সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে রোজগারের জন্য ঘর থেকে বাহির হচ্ছে। এতে করে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিনিয়ত পুলিশের শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে। যা এসব মানুষদের জন্য অনেকটা মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যাচ্ছে! এখন তাদেরকে বলতে শুনা যাচ্ছে যে, করোনাতে নয়, বরং; তারা খাদ্যের অভাবেই মরে যাবে। এমতাবস্থায় যদিও আমাদের জন্য আশাজাগানিয়া খবর হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসমস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কিন্তু, বাস্তবতা হল, এমন দুর্যোগে প্রায় বিশ কোটি মানুষের উন্নয়শীল এই বাংলাদেশে তিঁনি কতজনের দৈনিক চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবেন? পারলেও তা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বিধায় এই সময়ে কি আমরা নিম্ন আয়ের এসমস্ত লোকদের জন্য কিছু করতে পারিনা? চাইলে অবশ্যই করতে পারি। প্রয়োজন শুধু সবার এগিয়ে আসা। মনে রাখতে হবে, এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কেবল লাঠিচার্জ করে কিংবা শাস্তির ভয় দেখিয়ে সাধারন লোকদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখার মধ্যেই দায়িত্বের শেষ নয়। এর পাশাপাশি তাদের অন্নের নিশ্চয়তা বিধান করাটাও অন্যতম দায়িত্ব।

এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার মান্যবর এডিশনাল এসপি জনাব ইকবাল হোসাইন এসমস্ত নিম্ন আয়ের লোকদের আর্থিক সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ফান্ড সংগ্রহের একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এরিমধ্যে সেই ফান্ডে অনেক স্বচ্ছল মানুষ তাদের সাধ্যমত দান করেছেন। যেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।

আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের মত মহান ব্যক্তিত্বরা এগিয়ে আসলে এর চেয়ে ভাল কিছু করা সম্ভব। কারন, অতীতে আমাদের প্রিয় উখিয়াবাসীর জন্য এমন অনেক ভাল কাজ আপনারা করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে আমার বিনীত পরামর্শ, মান্যবর ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর নেতৃত্বে সকল ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ফান্ড সংগ্রহ করে তা প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে বন্টনের ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে নগদ অনুদান গ্রহণের পাশাপাশি যেকোন একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির পার্সোনাল বা এজেন্ট বিকাশ নম্বর সর্বসাধারনের জন্য প্রকাশ করা যেতে পারে। আমাদের সার্বিক সহযোগিতা পাশাপাশি প্রচার করার গুরুদায়িত্বও আমাদের। প্রয়োজন কেবল আপনাদের এগিয়ে আসা।

আমাদের উখিয়াতে অসংখ্য সামর্থবান ব্যক্তি রয়েছেন এবং অতীতে এমন অনেক মহতী কাজে আমরা তাঁদের সর্বাত্বক সহযোগিতাও পেয়েছি। তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এবারও আমরা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পাব।

আসুন, আর বিলম্ব না করে এই দুর্যোগকালীন সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ায়, তাদের মুখে দু’মুঠো আহার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আর এটাই হবে চলমান মহামারী থেকে নিরাপদে থাকার পূর্বশর্ত হিসেবে ঘরে অবস্থানের নিশ্চিতকরণ।

নিবেদক,
মোঃ জামাল উদ্দিন
তুতুরবিল, রাজাপালং,
উখিয়া, কক্সবাজার।
০১৮১৮৮০০০৯২

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com