1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
শিরোনাম:

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মানুষকে ব্ল্যাক-মেইল করে ইউসুফ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৩৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানেন নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সহজসরল যাত্রীবাহী ও পথচারী মানুষকে ব্ল্যাক-মেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া ইউছুফ আলীর বিরুদ্ধে। ইউছুফ আলী বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু উত্তর পাড়া এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়দের মতে, পঞ্চম শ্রেণি পাস না করা ইউছুফ নিজেকে পুলিশের ওসি, কখনোবা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ওই ইউছুফ আলী বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তার এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত আছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা আরো বলেন, ইউছুফ আলী ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশেরও সোর্স পরিচয়ে মানুষকে ব্ল্যাক-মেইল করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনের চালকদেরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ‘হয়রানির’ পাহাড় সমান অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউছুফ আলীর বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় তিনটি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় দুটি মাদক কারবার ও চোরাচালানের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়া থানায় ২০২১ সালের ১৬ মার্চ তারিখে (এফআইআর নং–২৬/১৭৯) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর (জিআর নং–৩৪০/১৪) এবং ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর (এফআইআর নং–২০/৬০৭)। বাকি দুটি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ২০০৭ সালের ৮ মার্চ তারিখে (জিআরনং–৪২/০৭) বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং ২০১৫ সালের ২২ জুন (জিআর নং–১৩৮/১৫) তারিখে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউছুফ আলী অনেকদিন ধরে নিজ এলাকার (তুমব্রু) বাইরে। তার এলাকায় সাধারাণ মানুষ তাকে যেতে দেন না। চাঁদাবাজির জন্য নিজ এলাকায় তিনি একাধিকবার গণপিটুনি খেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সীমান্তে চোরাচালানে লিপ্ত থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও পিটুনি খেয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী। মূলত এরপর থেকেই এলাকার বাইরে থাকেন নিজেকে পুলিশের ওসি পরিচয় দেওয়া ইউছুফ আলী। মূলত তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী তাকে এলাকা ছাড়া করেছে বলে দাবি করে একাধিক ভূক্তভোগী।

জানা গেছে, ইউছুফ আলীর রয়েছে একাধিক স্ত্রী। বর্তমানে এক রোহিঙ্গা মেয়েকে বিয়ে করে উখিয়ার কুতুপালংয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন। ওই রোহিঙ্গা মেয়ে তার তৃতীয় স্ত্রী। তার দ্বিতীয় স্ত্রীও রোহিঙ্গা। সে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭-এ অবস্থান করছেন বলে জানা যায়৷ তার প্রথম স্ত্রী বড় ছেলের সাথে চট্রগ্রামে থাকেন।

উখিয়ার কুতুপালং স্টেশনে ইউছুফ আলীর একাধিক দোকান আছে বলে সূত্রে জানা গেছে। চাঁদাবাজি, হয়রানি ও মানুষকে জিম্মি করে ইউছুফ আলী এখন কোটি টাকার মালিক। একাধিক ব্যাংকের একাধিক অ্যাকাউন্টে তার টাকা জমা হয়। প্রশাসন এসব খতিয়ে দেখলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউছুফ নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন।

তার এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টান্টু শাহা জানিয়েছেন, পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, ইউছুফ পুলিশের কেউ নন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com