1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইও গ্রেপ্তার

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬১ Time View

অনলাইন রিপোর্ট : অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলার পর ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান স্ত্রী শামীমা গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অর্থ পরিশোধের পর সময় পার হলেও ক্রেতাদেরকে প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ করছে না বলে ইভ্যালির বিরুদ্ধে বহু মানুষকে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাসেলের ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় ঘণ্টাখানেক অভিযান চালানোর পর বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাদের সাদা গাড়িতে করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান খায়রুল ইসলাম বলেন, তাদের র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে মামলা হয়েছে, তাতে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরে স্যার সৈয়দ রোডের নিলয় কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংয়ের (হাউজ নম্বর ৫/৫এ) বাসায় রাসেলের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু করা হয়। তবে কী অভিযোগে এই অভিযান, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাননি তিনি।

এদিন দুপুররের আগেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলাটি নেয় গুলশান থানা পুলিশ।গুলশান থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বৃহস্পতিবার র‌্যাবের অভিযানকালে মোহাম্মদপুরের বাসায় রাসেল। ছবি: ভোরের কাগজ
এদিকে একই দিনেই মামলাটির এজাহার আসে। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুর মামলার এজাহারটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো সাত থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারির কথা ছিল। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাদী ও তার বন্ধুরা।

একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য সরবরাহ কিংবা টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডির অফিসে যান ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানে থাকা অফিসের কর্মীরা বাদী ও তার বন্ধুদের ওপর উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির সিইও রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বাদীসহ অন্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে বুধবার রাতে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে কয়েকজন ভুক্তভোগী ধানমন্ডি থানায় মামলা করতে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেওেয়া হয়।

তখন পুলিশ জানায়, ইভ্যালির অফিস ধানমন্ডিতে। মামলার বিষয়টি তারাই বিবেচনা করবে। এ কারণে তাদের ধানমন্ডি থানায় যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে তারা গুলশান থানা ত্যাগ করেন। বুধবার রাতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তিন ভুক্তভোগী গুলশান থানায় আসেন। তাদের মধ্যে একজন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, একজন ৯ লাখ টাকা ও অপরজন ৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ে তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

আরিফ বাকের নামের এক ভুক্তভোগী সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমি গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেছিলাম। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সমাধান পাইনি। অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে খারাপ ব্যবহার করেছে। সিইও রাসেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের সঙ্গে ইভ্যালি চরম দুর্ব্যবহার করেছে। আমার মতো অনেকের একই অবস্থা। তাই আমি থানায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করতে এসেছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে মামলা হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. আমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com