1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

আমার স্মৃতির ‘ফরিদ বদ্দা’

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৯
  • ৯০ Time View

।।অধ্যাপক আকতার চৌধুরী।।

প্রাইমারি লেভেলটা আমার উখিয়ার রুমখা চৌধুরী পাড়া গ্রামেই কেটেছে। শৈশবে হাফ প্যান্ট পড়েই চলাফেরা করতাম। গ্রামে লুঙ্গি ছাড়া ফুলপ্যান্ট পড়া লোকজনের তেমন একটা দেখা মেলত না। শহরে বসবাসকারীদের কেউ গ্রামে এলে তার প্রতি সবার উৎসুক্য ভাব থাকত। বিশেষ করে প্যান্ট পড়া লোকদের প্রতি। এলাকার লোকজন প্যান্ট পড়াদের একটু কোনা চোখে দেখত। টিপ্পনী কাটত। তাই অনেকে শহর থেকে আসার পর গ্রামে প্যান্ট পড়তেন না। তবে আমাদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রামের লোকজন প্যান্ট পড়া নিয়ে আমাদের ঘাটাতেন না।

তেমনি এক যুবক। তার উপরে ব্যাক ব্রাশ ইয়া..লম্বা চুল। বিশেষ স্টাইলিষ্ট । আমার জেঠাত ভাই ফরিদ চৌধুরী । শহর থেকে আসতেন। চট্টগ্রাম শহরে বড় বড় কোম্পানীতে চাকরী করতেন। সুন্দর হাতের লেখার জন্য তাকে অনন্য চোখে দেখতাম। নিজে অনুকরণ করার চেষ্টা করতাম। এলেই গ্রামের বাড়ির সামনের মাঠে বিকেলে আড্ডা জমত।

এক সময় আমার দাদা তাঁকে আমাদের প্রাইভেট টিউটর নিয়োগ করেন। বড়বোন আর আমাকে পড়াতেন। পড়ার চেয়ে তাঁর আর্টের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। খুব সহজে গোলাপ আঁকাটা তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন যা এখনো কয়েকটা টানেই আকঁতে পারি।
একদিনের পড়ার কথা এখনো মনে পড়ে । ‘অন্ধের হাতি দর্শন’ গল্পটা বলছিলেন । বায়না ধরলাম – এটা আর্ট করে দেখাতে হবে। অন্ধের সেদিনের কল্পনার হাতি তিনি আমাদের অংকন করে দেখিয়েছিলেন। এক অদ্ভুদ প্রাণীর আকার ধারণ করেছিল! কল্পনাতে অন্ধরা হাতিকে ছোঁয়ে কী ভেবেছিল তা বাস্তবে অংকনে দেখে সেদিন হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গিয়েছিল।

সময়ের আবর্তে আমিও একদিন গ্রাম ছেড়ে কক্সবাজার শহরে পড়ালেখা শুরু করলাম। এরপর থেকে ঈদে কোরবানে কালে ভদ্রে ফরিদ বদ্দার সাথে আমার গ্রামে দেখা হত। একদিন বললেন- তোমার একটা বড় সম্পদ আমার কাছে গচ্ছিত আছে। আমি জানার অনেক চেষ্টা করেছিলাম। শুধু বলত – যেদিন দেব সেদিন বুঝতে পারবে।

অনেকদিন পরে কোন এক লোককে দিয়ে একটা খাম পাঠালেন। অনেক যত্নে মোড়ানো। খামটা খুলে আমি অবাক ! ১৯৬৮ সালে আমার বাবার হাতের লেখা চিঠি। যাকে আমি চোখে দেখিনি। আমার মাত্র ৫ মাস বয়সে আমার বাবা মারা যায়। তাঁর হাতের লেখা চিঠি ! এত সুন্দর হাতের লেখা ! অনেকটা রবীন্দ্র নাথের হাতের লেখা টানা অক্ষরে। চট্টগ্রাম পিজি হাসপাতাল থেকে আমার দাদাকে পাঠিয়েছিলেন। শরীরে রক্তের অভাব হওয়ায় রক্ত কেনার টাকা চেয়ে !

সত্যি সেদিন এ চিঠিটা পেয়ে আমি বিশাল সম্পদ খোঁজে পেয়েছিলাম। যেমনটা অন্ধের হাতি দর্শনের মত – বাবাকে না দেখা সন্তানের পিতৃদর্শন। আমার কল্পনা শক্তিকে অদ্ভুদ এক নাড়া দিয়েছিল যে চিঠিটি।

অসম্ভব রকম একটা টান ছিল আমার প্রতি । দেখা হলে আক্ষেপ করে বলত – তুমি গ্রামে আসনা । তোমাকে এ প্রজন্ম চিনবেনা। আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছে আকতার নামে এ গ্রামের একটা ছেলে ছিল।
আসলেই তাই । আমাকে এ প্রজন্ম চিনেনা , আমিও চিনিনা। বিশাল একটা গ্যাপ । যে কজন মানুষ আমাকে চিনত তারাও আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে!

আজ শুনলাম আমাকে বিশাল সম্পদের সন্ধান দেয়া অসম্ভব অমায়িক সদালাপী সে ভাইটি পৃথিবীতে নাই! আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

লেখক: সম্পাদক- সিবিএন

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com