1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

অদম্য গতিতে এগিয়ে চলার মূল প্রেরণা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা

  • Update Time : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯
  • ৫৭ Time View

।।আলী প্রয়াস।।

২৬ মার্চ। আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গৌরবদীপ্ত ও দুর্বিনীত সাহসী জাতি হিসেবে আমাদের কাছে দিনটি অনন্য সাধারণ ও স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ দিনটি শুধু পঞ্জিকার পাতায় কোনো জ্বলজ্বলে লাল তারিখ নয়, নয় কেবল চৈত্রের দগদগে রৌদ্রময় একটি দিন, বাঙালি জাতির কিংবদন্তীতুল্য দেশপ্রেম, অবিরাম সংগ্রাম এবং সংহত শক্তিরও প্রতীক। বছরের একটি মাত্র দিন হলেও জাতির মনে এক ভিন্নতর ভঙ্গী ও অনুভূতি শব্দায়মান হয়ে ওঠে। আলোকোজ্জ্বল এ দিনটি আমাদের সামগ্রিক জীবন ও ইতিহাসে এবং তার সত্তা ও স্বরূপকে পরিব্যক্ত ও পরিধৃত করে বিরাজ করছে বিস্ময়করভাবে।

মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জল সোনালী দিন, আমাদের জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন, পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিন। এ দিন বিশ্ব মানচিত্রে দেশমাতৃকার স্বাধীন সত্তা ফুটে উঠেছিল। তাইতো দিনটি আবেগমথিত, মহিমান্বিত ও অনন্য চেতনায় ভাস্বর। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক ক্ষণ এটি। টানা নয় মাসের মরণপণ লড়াই ও সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের পর সাড়ে সাত কোটি মানুষ পেয়েছিলো নিজস্ব মানচিত্র, নিজের মতো করে একটি লাল-সবুজ পতাকা। লক্ষ জনতার আপসহীন মনোভাব ও বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বতন্ত্র স্বাধীন জাতিসত্তায় বিশ্ববুকে অধিষ্ঠিত।

স্বাধীনতা এক মৌলিক চেতনার নাম। প্রত্যেক জাতির জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সোনার অক্ষরে লেখা এ দিনটি জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। বুকের গভীরে বরণ করে রাখে দিনটিকে এবং দিনটি এলে জাতি জানায় তাকে সহস্র সালাম আর বিনম্র শ্রদ্ধা। স্বাধীনতা একটা দেশ ও জাতির এক চরম পুলক, এক অনন্য চেতনা ও অনুভূতি। মানুষ তথা জাতি নিজের অন্তরের ভেতর লালন করে এই আকাক্সক্ষার ধনটিকে। মানুষ ও জাতি যখন স্বাধীনতা সম্পদটিকে ভোগ করে তখন সুখ-সুবিধার অন্ত থাকে না। স্বাধীনতা মানুষের মনে মুক্তির স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্যে অনুপ্রাণিত করে। তাইতো বলা যায়, একটি জাতির প্রাণই হচ্ছে তার স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতিরাষ্ট্রের পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা। যাঁদের ত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখ- সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। আজ পুরো জাতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করবে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের।

স্বাধীনতা শব্দটির তাৎপর্য গভীর ও ব্যাপক। স্বাধীনতা মানে কেবল নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন নয়। স্বাধীনতা হলো স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা, একটি উদার ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারী মুক্তি আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার। একটি দেশের স্বাধীনতা সেদিনই সার্থক হয় যেদিন দেশের আপামর জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশে, নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ক্ষমতা অর্জন করে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এ জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন। একটি জাতির জীবনে স্বাধীনতা অর্জন গভীর দিকনির্দেশনা স্বরূপ। স্বাধীনতা বেঁচে থাকাকে অর্থবহ করে। বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে আজ একটি একক আইডেনটিটি। ১৬ কোটি মানুষের ভূখ-, পতাকা এবং জাতীয় সংগীতের অধিকার। একটি জাতির জীবনে স্বাধীনতা নিজস্ব নির্মাণের অবিনাশী আয়োজন। জনৈক লেখক লিখেছিলেন- ‘The war of Liberation of Bangladesh was different and unique, because it was for preservation of the ‘Vibrant spirit of Man’ which throbs and thrives only in its own culture and in its own language’.

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছেন ‘শুধু ভিক্ষা করে কখনও স্বাধীনতা লাভ করা যায় না। স্বাধীনতা অর্জন করতে হয় শক্তি দিয়ে, সংগ্রাম করে। স্বাধীনতার মূল্য দিতে হয় রক্ত দিয়ে।’ আর সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেছেন, ‘আলোক ব্যতীত যেমন পৃথিবী জাগে না, তেমনি স্রোত ব্যতীত যেমন নদী টেকে না, তেমনি স্বাধনিতা ব্যতীত কোন জাতি কখনও বাঁচিতে পারে না।’

আর এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম হঠাৎ এক দিনে দানা বাঁধেনি। বস্তুত নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত হয় বিজয়। ইতিহাসের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে অখ- ভারত হলো দ্বিখ-িত- সৃষ্টি হলো ভারত ও পাকিস্তান। ধর্মকেন্দ্রিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্টি হলো পাকিস্তান। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাঙালি বুঝতে পারে, পাকিস্তান সৃষ্টির মাধ্যমে তারা প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ, অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ কয়েকটি সমস্যা প্রকটভাবে অনুভূত হয় বাঙালির মনে। নানা ঘাতপ্রতিঘাত পার হয়ে ৭ই মার্চের পরে বাঙালি গভীর জাগরণ অনুভব করছিল এবং সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আর এ কথা বুঝতে পেরে ২৫ মার্চ গভীর রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঘুমন্ত বাঙালির উপর পৃথিবীর জঘন্যতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাক আর্মিরা। তাই স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য গভীর বেদনার দিনও বটে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসে এক অমর গৌরবগাথা আর একাত্তরের বিজয় মহত্তম অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতা; আমাদের মুক্তিসংগ্রামের মর্মকথা ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সব ধরনের অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি। বাংলাদেশের জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার নিশ্চয়তা বিধান ও একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। একটি পতাকা, স্বাধীন ভূখ- অর্জনের জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণের জীবন-মরণ সংগ্রামে আত্মনিবেদন ছিল।

স্বাধীনতার সেই পথ ধরে আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়েছি। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন করে আমাদের অর্জন কি? অর্জনতো অবশ্যই হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি- এটাইতো একটা বড় অর্জন। আমরা আজ রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। গণতন্ত্রের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, শিশু মৃত্যুর হার কমানো, নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, কৃষির উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ সাধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হিমায়িত পণ্য, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, চা, ফার্মাসিউটিক্যালস্, সিরামিক, হস্ত ও কুটিরজাত পণ্যের পাশাপাশি জাহাজশিল্প নতুন করে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা তাঁদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। কিন্তু আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গতিটা আশানুরূপ নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলেও অনেক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। একটি জাতির টিকে থাকার যে নৈতিক ভিত্তি আদর্শ ও নৈতিকতা তাতে চরম ধস নেমেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে স্খলনের মাত্রা যেভাবে দিন দিন বেড়ে চলেছে তাতে কোনো রকম দাঁড়িয়ে থাকা নৈতিকতার স্তম্ভটিও ধসে পড়বে।

দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের স্বার্থে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাসচর্চার মাধমে জানতে হবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসে এক অমর গৌরবগাথার কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও অনুপ্রাণিত হয়ে দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, আলোকিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে। কেননা অনেক রক্ত দিয়ে এদেশের স্বাধীনতাকে অর্জন করেছি।

নতুন প্রজন্মের বোঝা উচিত যে, স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতা থেকে মুক্তি নয়, নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজনও শুধু নয়। স্বাধীনতা হলো- স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে স্পষ্টভাবেই উচ্চারণ করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’। এই মুক্তির সংগ্রামে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে আমাদের তরুণ প্রজন্ম একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামীদের মতোই স্বপ্ন ও সাহসে এগিয়ে আসুক, এটিই আমাদের প্রত্যাশা। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে হবে।

যে জাতির জীবনে স্বাধীনতা কিংবা বিজয় দিবস থাকে, সে জাতি পরাজিত হয় না। অমর্যাদার কাছে সে মাথা নত করে না। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী, শান্তিকামী। তারা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা চায়, চায় উন্নয়ন। তারা যে কোন অপশক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। পরমতসহিষ্ণুতা, সংযম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গণতন্ত্র বিকাশের পূর্বশর্ত। গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ব্যতীত সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতীয় জীবনে আমাদের আরো ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার পাশাপাশি অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

২৬শে মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন; পাশাপাশি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার শপথ নিয়ে ক্রমাগত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রণোদিত হওয়ার দিনও বটে। মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আবার সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে লিপ্ত হবে-আজকের মহান দিবস সেই মর্মবাণীকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০১৯ এর স্বাধীনতা দিবস মানে প্রায় আটচল্লিশ বছর বাংলাদেশের বয়স। এ বয়সটি মোটেই কম নয় একটি জাতির জন্য। জাতি হিসেবে আমাদের আজ আত্মসমালোচনা ও আত্মউপলব্ধি করার সময় এসেছে। একসাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের স্বপ্ন ছিল বিশাল, প্রত্যাশা ছিল দিগন্তপ্রসারী। যেসব আদর্শ, উদ্দেশ্য ও স্বপ্নকে সামনে রেখে অগণিত মানুষ জীবন দিয়েছিল, বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছিল এই দেশের দেশপ্রেমিক জনতা, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমদের সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে, কতটা হয়নি, আজ স্বাধীনতা দিবসে সেই প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। দারিদ্র্যবিমোচনসহ সাধারণ মানুষের ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি গত চার দশকেও। স্বাধীনতার স্বাদ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল একাত্তরে তা আজও রয়ে গেছে নাগালের বাইরে। এমনকি জাতির পরম প্রার্থিত গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাও সর্বাংশে কন্টকমুক্ত হয়েছে-এ কথা বলার অবারিত অবকাশ সৃষ্টি হয়নি।

আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিলো শুধু পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া নয়; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত চার দশকেও এসবের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আজ আমাদের প্রত্যেকের উপলব্ধির সময় এসেছে- ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।’

স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। জাতীয় জীবনে এ শুভ মুহূর্তে পার¯পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার সম্মিলিত ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় দুর্নীতি ও দারির্দ্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসা জরুরী। ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বাথর্, গোষ্ঠী স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সেই ঐক্যের মহামিছিল ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাবে সাফল্যের দিকে। সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আবার গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে সোনালি সম্ভাবনার দিকে সমৃদ্ধির নতুন নতুন সোপান রচনা করে-স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমাদের সমন্বিত প্রার্থনা ও প্রত্যাশা। স্বাধীনতার এ মহান দিনে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল নাগরিককে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ চেতনা যেন সজাগ থাকে সেরকম দৃষ্টান্তমূলক কর্ম সম্পন্ন করতে হবে। ঘুরে দাঁড়াতে হবে সকল পাপাচার, অনাচার, সকল অপকর্ম ও সকল দুরাচারে বিরুদ্ধে। মেধা-মনন, সাহস ও সত্যনিষ্ঠায় নিজেকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেই সাথে সার্থক হবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মদান আর অগণিত মানুষের অবর্ণনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, অর্জন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সার্থক হবে মহান স্বাধীনতা দিবসের সব আনুষ্ঠানিকতা।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই-ই আমাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মশ্লাঘার জায়গা। মহান স্বাধীনতা দিবস সফল ও সার্থক হোক। সবাইকে শুভেচ্ছা।

লেখক : আলী প্রয়াস, কবি, প্রাবন্ধিক। সম্পাদক : তৃতীয় চোখ। ০১৮১৯৪২২৬১৮ ali.proyas2010@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com