1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

হাসান কামরুল’র গল্প ‘অনন্তের রোজনামচা’- ১ম পর্ব

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০
  • ৫৬ Time View

খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে।

সচরাচর আমি দেরি করেই উঠি, আজকে ব্যতিক্রম। এরকম হওয়া ঠিক নয়। নিয়ম করে দেরি করে ঘুম থেকে উঠা মানুষ ভোরে সূর্য দেখলে মন খারাপ হয়, আমারও হয়েছে,ভিশন মন খারাপ। চা খেতে ইচ্ছে করছে, খুব কড়া করে চিনি ছাড়া দুধ চা। কাজের বুয়া এখনো আসে নাই। সে আসবে ছয়টায়। তারমানে এখনো ছয়টা বাজে নাই। মোবাইল ব্যবহার শুরু করার পর থেকে ঘড়ি ব্যবহার করি না, যদিও ঘরের দেয়ালে পুরনো দিনের একটা ঘড়ি ঝুলছে, দম দেয়া ঘড়ি। এই মুহূর্তে সেটা বন্ধ, দম দেয়া হয়না অনেকদিন। সিঁড়ি লাগে ওটাতে দম দিতে গেলে। আমার ঘরে সিঁড়ি নেই। কাঠের একটা চেয়ার আছে, ওটার ওপরে আমার কাপড়চোপড় স্তুপ করে রাখা ।

চা খেতে ইচ্ছে করছে, কফি হলেও চলতো। ঘরে চা বা কফি আছে কিনা জানা নেই। আমি বাজার করি না। বুয়া সব করে, বাজার করা থেকে রান্না করা, সব বুয়ার কাজ। আমি শুধু খাই। কাপড়ও আমি ধুই না, বুয়াই ধোয়। অপরিস্কার ধোয়া, কোনরকমে পানিয়ে ভিজিয়ে সাবান ঘষে রোদে দিয়ে রাখা। এরকম কাপড়চোপড় বউ থাকলে হয়তো পড়তে হতো না, কিন্তু কিছু করার নেই। আমার বউ নেই।

বুয়া আসতে আরো আধঘন্টা দেরি।এতক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে করছে না। বাইরে কোথাও এতো ভোরে দোকান খুলেছে বলে মনে হচ্ছে না। হাঁটতে হাঁটতে উমাদের বাড়িতে চলে যাওয়া যায়। ওদের কলিংবেলের আওয়াজটা দারুণ, সুইচ টিপলেই ভেতরে টুই টুই করে পাখি ডেকে উঠে। উমারও আমার মত অসুখ, দেরি করে ঘুম থেকে উঠা। ওদের বাড়ির সবাই মোটামুটি সকাল আটটার পর ঘুম থেকে উঠে বলেই জানি। এতো ভোরে ওদের বাড়িতে গিয়ে কলিংবেল টিপে ওদের ঘুম ভাঙ্গালে কেমন হবে সেটা ভাবছি।কলিংবেল টিপলাম, ভেতরে টুই তুই করে পাখি দেকে উঠলো, সেই শব্দে ওর রিটায়ার বাবা ঘুম থেকে উঠে এসে আমাকে দেখে বলবে, কি চাই? আমি দাঁত কেলিয়ে হেসে জবাব দিবো, আংকেল, উমাকে ডেকে দিন, আমি কফি খাবো। আমার বুয়া আসতে এখনো আধঘন্টা দেরি, এতক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে করছে না, তাই এখানে চলে এসেছি!!

ওর বাবার চেহারাটা দেখতে কেমন হবে তখন? ভাবতেই হাসি পাচ্ছে।

ঘ্রেং করে আমার ঘরে কলিংবেল বেজে উঠল। পুরানো আমলের কলিংবেল। বিশ্রি আওয়াজ। মাথা ঝিমঝিম করে উঠে শব্দে। কিন্তু এতো সকালে কে এলো? দরজা খুলে আমি অবাক। উমা দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এতো সকালে?

সে বললো, সরে দাঁড়ান, ভিতরে যাবো। বলেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে গেল।

বুয়া আসেনি? জিজ্ঞেস করলো সে। বললাম, না। সে ছয়টার পর আসবে।

– তাহলে আমার জন্য চা বানান।

– আমি চা বানাবো?

– হ্যাঁ বানাবেন।বাসায় মেহমান আসলে চা বানিয়ে খাওয়াবেন না?

– ও আচ্ছা। কিন্তু চা পাতা আছে কিনা জানি না।

– কেন জানেন না? আপনি বাজার করেন না?

– না, বুয়া করে। তুমি তো জানো সব, জিজ্ঞেস করছো কেন?

– ইচ্ছে করলো, তাই জিজ্ঞেস করলাম। স্বভাব পাল্টেছেন কিনা বোঝার চেষ্টা করছি।

– পাল্টাইনি।

– ভালো করেছেন, পাল্টাননি। এখন বলুন, চা পাতা চিনি কোথায় রাখে বুয়া? নাকি সেটাও জানেন না?

– রান্না ঘরেই থাকার কথা।

উমা রান্না ঘরে ঢুকে খুঁজে খুঁজে ঠিক বের করে ফেললো চা পাতা আর চিনি। কড়া দুইকাপ চা বানিয়ে ফিরে এলো ঘরে। আমাকে একপকাপ দিয়ে বললো, “নিন, খান। এতো ভোরে তো আপনি ঘুম থেকে উঠেন না। যারা দেরি করে ঘুম থেকে উঠে তারা হুট করে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মন খারাপ করে বসে থাকে। সেই সময় বউএর হাতে এককাপ কড়া চা খেতে পারলে দারুণ লাগে। আপনার তো বউ নাই, আমার হাতের চা খেয়েই মন ভালো করে নিন আপাতত।

আমি চা হাতে নিয়ে বোকার মত ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।এসব কি হচ্ছে? উমা এতো সকালে কেন বাসায় আসলো? সেতো এতো ভোরে ঘুম থেকে উঠে না! না হয় আমার মত আজকে তার হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গেই গেছে, তাই বলে আমিও যে আজকে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছি সেটা সে কি করে জানলো? আমার এককাপ চা খেতে ইচ্ছে করছে সেটাই বা সে কি করে জানলো?

মাথা ঝিমঝিম করছে। উমা কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো,” মাথা টিপে দিবো?”

– না, দরকার নেই। তুমি বলতো, এতো সকালে আজকে তুমি কি মনে করে আমার বাসায় আসলে?

– ইচ্ছে হলো, তাই আসলাম। কেন? আপনার বাসায় কি আমার আসা বারণ?

– না তা নয়। কিন্তু এতো ভোরে আসলে তো তাই জিজ্ঞেস করলাম। তুমি তো এতো ভোরে ঘুম থেকে উঠো না।

– আপনিও তো উঠেন না, তাই বলে আমি কি জিজ্ঞেস করেছি আপনি কেন এতো ভোরে উঠলেন?

– ঘুম ভাঙ্গার পরেই আমার এককাপ চা খেতে ইচ্ছে করছিলো, বুয়া আসেনি বলে খাওয়া হচ্ছিলো না। ভাবছিলাম……………

– কি ভাবছিলেন? আমার বাসায় গিয়ে কলিংবেল চেপে পালাবেন?

– আরে না। ভাবছিলাম তোমাদের বাসায় গিয়ে কলিংবেল চেপে সবার ঘুম ভাঙ্গিয়ে আসবো। কপাল ভালো হলে চা জুটেও যেতে পারতো।

– বয়স হয়েছে আপনার, ভুলে যান কেন?

– চা খাওয়ার সাথে বয়সের কি সম্পর্ক?

– চা খাওয়ার সাথে নয়, এতো ভোরে কলিংবেল চেপে ঘুম ভাঙ্গানোর সাথে বয়সের সম্পর্ক।

– ও আচ্ছা। তাহলে তুমি এলে কেন? কম বয়স বলে?

– হ্যাঁ। আমার বয়স কম, আপনার চেয়ে বিশ বছর কম, তাই আমাকে মানায়। আর এখন আপনি চা খাওয়া শেষ করুন। আপনার চা খাওয়া শেষ হলে আমি আপনাকে একটা চুমু খাবো, তারপর চলে যাবো। চুমু খাওয়ার সময় আপনি চোখ বন্ধ করে রাখবেন।  আমি চলে যাওয়ার পর আপনি হতভম্ব হয়ে বসে থাকবেন, এর মধ্যে আপনার বুয়া আসবে। সে এসে দেখবে আপনি বোকার মত বসে আছেন, দরজা খোলা। প্রতিদিনের মত  এসে আপনার ঘুম ভাঙ্গিয়ে তাকে ঘরে ঢুকতে হয়নি।

– বুঝলাম না, কি বলছো এসব?

– বুঝতে হবে না, চা শেষ করুন।

– তুমি যা বললে সত্যি সত্যি এটা করবে নাকি?

– চা শেষ করুন।

– তাতো করবোই, কিন্তু তুমি যা বললে…………

– আহ! চা শেষ করুন তো।

– আচ্ছা। আমি চায়ের কাপে চুমুক দিলাম, গরম কাপের ছোঁয়া লেগে ঠোঁট পুড়ে গেল। হাত থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল গরম চা ভর্তি  কাপ।

…….(চলবে)

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com