1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

সব কাজের কাজী সৈকত বিশ্বাস

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩৮ Time View

আহসান সুমন :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে এখন অনেকটা সব কাজের কাজী হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন সৈকত বিশ্বাস। যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নানা অনিয়ম-দুর্ণীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য আসা বিদেশী সাহার্যের বেশিরভাগ অর্থ লুটপাটের অভিযোগও ছিল বহু আগে থেকেই। কিন্তু গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী চোখ থেকে কৌশলে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সৈকত বিশ্বাস নামে ওই ব্যাক্তির প্রভাব ও দাপটে দ্বিতীয় দফার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ আছে-কক্সবাজারের শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয় বলতে গেলে এক প্রকার এই সৈকত বিশ্বাসের ইসারাতেই চলছে। এনজিওদের পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে সৈকত বিশ্বাস শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাস কার্যালয়কে ভুল বুঝিয়ে নানা ষড়যন্ত্র এবং অপব্যবহার করছেন। সৈকত বিশ্বাস একটি বিশেষ মিশন নিয়ে ওই কার্যালয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন বলেও তথ্য রয়েছে। এখন নতুনভাবে দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।

জানা যায়, ইন্টার সেক্টর কডিনেশন গ্রুপ নামের একটি এনজিও সমন্বয় সংস্থার এই কর্মকর্তা রবিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের জরুরী সভায়ও খবরদারিত্ব করতে দেখা গেছে। এমনকি তার বাধার কারনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোন ধরনের কথাও বলতে রাজি হননি রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গ্যা প্রত্যাবাসনে জরুরী ওই সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকরা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জরুরী সভার সংবাদ সংগ্রহের সময় সৈকত বিশ্বাস বারবার বাধা প্রদান করেছেন। অথচ, তিনি টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য না হয়েও বারবার টাস্কফোর্সের সভায় আসা যাওয়া করা সন্দেহ প্রকাশ পায়। সভাশেষে সাংবাদিকরা শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামের ইন্টারভিউ নিতে গেলে সৈকত বিশ্বাস সবার সামনেই বাধা প্রদান করেন। তিনি আরআরআরসি আবুল কালামকে সংবাদ মাধ্যমে কথা না বলার পরামর্শ দেন। সৈকত বিশ্বাসের পরামর্শে শরনার্থী কমিশনারও দেশি-বিদেশি সংবাদমধ্যমে কোন কথা বলেননি।

ওইসময় পেশাগতকাজে বাঁধার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা বলেন, সৈকত বিশ্বাস কোন সরকারী কর্মকর্তা নন। আর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সেরও সদস্য নন। তারপরও রাষ্ট্রীয় জরুরী মিটিংয়ে তার রহস্যজনক বিচরণ কোনভাবেই ভাল ফল বয়ে আনবেনা। দীর্ঘদিন ধরে তার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনে সৈকত বিশ্বাস একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। তার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল বলেন, এনজিও সমন্বয় সংস্থার এই কর্মচারী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভায় নিজেকে মোড়ল হিসেবে জাহির করাসহ উদ্বেগজনক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সংশৃষ্ট উচ্চ মহলের সাথে কথা বলবেন।

এ বিষয়ে সৈকত বিশ্বাসের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, তিনি শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কেউ নন বা টাস্কফোর্সের সদস্যও নন। শুধুমাত্র ইন্টার সেক্টর কোডিনেশন গ্রুপের সদস্য হিসেবে আরআরআরসি অফিসের একটি রুমে অফিস করেন তিনি। তাছাড়া বিদেশি দাতা সংস্থার টাকা লুটপাট ও চাকরি বানিজ্যসহ তার বিরুদ্ধে আনিত অন্যান্য অভিযোগগুলোও সত্য নয় বলে দাবী করেন আইএসসিজি’র মুখপাত্র পরিচয়দানকারী এই সৈকত বিশ্বাস।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com