1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

শাবিপ্রবি-এ পড়ছে রোহিঙ্গা, মিথ্যা মোটিভেশনাল বক্তব্যে তোলপাড়

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩১ Time View

ডিবিডিনিউজ২৪ ডেস্ক :

শাবিপ্রবির এক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মোটিভেশনাল বক্তব্যে বলেছে, তার মা-বাবাকে সে দেখেনি। অনাহারে থেকেছে দিনের পর দিন। লাকড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করেছে, ইট ভেঙেছে, বোটে গিয়ে মাছ ধরেছে, রাখালের কাজ করেছে, রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে। আরো বলেছে, এমন কোনো কাজ নেই সে করেছে। এসব করে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে।

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এক রোহিঙ্গা যুবক! তার বাড়ি টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তার কথিত কষ্টের জীবন নিয়ে দেয়া মোঃ জুনাইদ নামের ওই ছাত্রের বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে চলছে তোলপাড়। একজন আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করা এবং সেখানে মোটিভেশনাল ভিডিও’র নামে মিথ্যাচার করায় ওই যুবক নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফসহ সর্বত্র বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারে কথিত বাসিন্দা, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুনাইদ নামের ওই ছেলের একটি মোটিভেশনাল ভিডিও কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হলে ছেলেটির (তার ভাষ্য মতো)সংগ্রামী জীবন কাহিনীর শুনে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। ওই বক্তব্যে জুনাইদ তার বাড়ি কক্সবাজারে বললেও কোন উপজেলায় তা বলেনি।

বেশ বাহবাও পাচ্ছে সে। কিন্তু সারা দেশবাসী কি জানে ঐ ছেলেটি একজন রোহিঙ্গা এবং তার মোটিভেশনাল বক্তব্যও মিথ্যা-বানোয়াট এমনটি বলছেন উখিয়া ও টেকনাফের লোকজন। ছেলেটির মিথ্যাচারমুলক বক্তব্যে তাকে জানাশুনা টেকনাফের স্হানীয় হ্নীলার লোকজন বেশ হতবাক হয়েছেন।

রোহিঙ্গা ঐ যুবকের ছলনাপূর্ণ সাজানো মিথ্যা বক্তব্যে উখিয়া ও টেকনাফের আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী পুত্র তারেক মোহাম্মদ রনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন, শাবিপ্রবিতে বক্তব্য দেয়া জুনাইদ একজন রোহিঙ্গা। তার ঘর টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তার পিতা-মাতা বেশ আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে সেখানে আশ্রয় নেয়।

খুব সম্ভবত: জুনাইদের জন্মও ক্যাম্পে। বর্তমানে তার দুইভাই ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছে। তাদের মা বেঁচে নেই। বাবা ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছেন। বাবার নাম আবুল কাশেম। তিনি সেখানে বিয়ে করেছেন। সেখান থেকে বর্তমানে জুনাইদের জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা করে পাঠান। তবে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় অনেক আগেই।

এই প্রসঙ্গে তারেক মোহাম্মদ রনি বলেন, শাবিপ্রবিতে দেয়া রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের দেয়া সব কিছুই মিথ্যে ও বানোয়াট। ছেলেটাকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। সে একসময় হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। সেখান থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং উখিয়া কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করে। প্রাইমারি কোথায় পড়েছে তা জানা নেই।

জুনাইদ তার বক্তব্যে বলেছে, সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। ইট ভেঙেছে, লাকড়ি কুড়িয়েছে, মাছ ধরেছে বা আরো যা বলেছে সবই ডাহা মিথ্যা। এসব কাজ করতে কোথাও তাকে দেখা যায়নি। যতটুকু জানা গেছে, সে ছোটবেলায় ক্যাম্পেই ছিলো মা ও ভাইদের সাথে। পরে সেখান থেকে বের হয়ে হ্নীলায় স্থানীয়দের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলো। তার একটা বাজে অভ্যাস- স্কুল জীবনে সে আরো বড় বড় মিথ্যে ও বানোয়াট কথা বলে মানুষের কাছ থেকে সমবেদনা নিতো। আমার বড় ভাই তাকে বই খাতা কিনে দিতো আর প্রতিদিন সে আমার বাড়িতে খাবার খেতো।

এই রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের সহপাঠী মোঃ রফিক আলী বলেন, জুনাইদ আমার সাথে পড়তো। আমরা ২০১৫সালে এক সাথে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছি। পরে সে উখিয়া কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করে। পরে তার আর খোঁজ ছিলো না। ভিডিওটা দেখে তাকে চিনতে পারলাম।

ভিডিওতে তার সাজানো মিথ্যাচার দেখে আমি অবাক। মোঃ রফিক আলী আরো বলেন, আমি মোটেও তার শিক্ষা অর্জনের বিপক্ষে নয়। শিক্ষা অর্জন প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু বক্তব্য নিয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। সে যেভাবে মিথ্যাচার করেছে নিন্দনীয়। সে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ব্রেইনওয়াশ করে সুবিধা নেয়ার পাঁয়তারা করছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের নাটকীয় মোটিভেশনাল বক্তব্যের পিছনে বড় একটি আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল জড়িত থাকতে পারে। এই মহলটি তাকে দিয়ে একটি সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করে থাকতে পারে। কিন্তু কথা হলো- শাবিপ্রবির মতো একটি শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গাতেও রোহিঙ্গাদের বিচরণ অগ্রহণযোগ্য।

জানতে চাইলে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, ছেলেটিকে আমি খুব ভালো করে চিনি। সে হ্নীলা হাইস্কুলে পড়ার অসহায় হিসেবে আমাদের বাড়িতে খেতো। আমার মা তাকে আদর-যত্ন করতেন। কিন্তু মেয়ে সংক্রান্ত একটি কারণে পরে তাকে আর আমরা আশ্রয় দিইনি। সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া শাবিপ্রতিতে দেয়া তার ভিডিও বক্তব্যে আমি হতবাক। আমার জানা মতে , ‘সে সব কিছু মিথ্যা বলেছে। মিথ্যা বলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করে নিজের স্বার্থসিদ্বির পায়তারা করছে। ‘

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com