1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা তোলেন রোহিঙ্গারা!

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩২ Time View

শরীফ আজাদ :

একটি দেশের স্বাধীন সার্বভৌমত্বের প্রতীক হচ্ছে তার পতাকা। আর এ পতাকা একটি দেশ তথা রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে। তেমনি আমাদের দেশের পরাধীনতার আবরণ থেকে বের হয়ে স্বাধীনতার সোনালি অক্ষরে নাম লিখানোর একটি অর্জন হচ্ছে এ লাল সবুজের পতাকা। এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন কিংবা ব্যবহারে রাষ্ট্র নির্ধারিত কিছু নিয়ম থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরআরআরসি অফিস সমূহে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

সরজমিনে দেখা যায়, ৯ ডিসেম্বর (রবিবার) সকাল ৯ টায় উখিয়ার অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এইট ডব্লিউতে (Camp-8W) প্রতিদিনের ন্যায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছিল এক রোহিঙ্গা যুবক। তার পরনে ছিলো লুঙ্গি, গায়ে স্যান্ডু গেঞ্জি। এ প্রতিবেদক পতাকা উত্তোলনের ছবি ধারণ করতে গেলে রোহিঙ্গা যুবকটি অনেক রাগান্বিত চোখে তাকান প্রতিবেদকের দিকে। তাই যে কোন অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে কথা না বাড়িয়ে সুকৌশলে স্থান ত্যাগ করে।

শুধু ক্যাম্প এইট ডব্লিউতে (Camp-8W) নয় উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের অধিকাংশ ক্যাম্পে এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ক্যাম্পের আরআরআরসি অফিস সমূহে নৈশ প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রোহিঙ্গারাই তোলছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত অনেক সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ক্যাম্পে অবস্থিত আরআরআরসি অফিস সমূহে উত্তোলিত জাতীয় পতাকা রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ার দ্বারা উঠানো হয়। এর মধ্যদিয়ে লাখো শহীদকে অপমান করা হচ্ছে বলে মনে করছেন এসব সচেতন নাগরিক।

একটি স্বাধীন দেশের পতাকা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে উঠানো নিয়ে মানুষের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন, দেশের এ জাতীয় পতাকার অস্থিত্বকে টিকিয়ে রাখতে লাখো শহীদ নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। এ পতকাকে অসম্মান করা হবে লাখো শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা। রাষ্ট্রের নির্দেশনা অমান্য করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তা হবে খুবই দুঃখ জনক। ক্যাম্পে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা জাতীয় পতাকার গুরুত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। তারপরও যদি কোন কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতার উত্তোলনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মের কোন ব্যতয় হয় এটা অত্যান্ত লজ্জার বিষয়। এ ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে দেখভাল করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে প্রতিবেদক মুঠোফোনে কথা বলেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, এ বিষয়টিকে আমরা দুই দৃষ্টিতে দেখতে পারি। আইনগত ভাবে এটি অবশ্যই অন্যায়। তবে ক্যাম্পের বাস্তবতা ভিন্ন। নিরাপত্তার কারণে বিকাল ৪টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশী কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীর ক্যাম্পে থাকার নিয়ম নেই। যার কারণে বাংলাদেশী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পক্ষে অনেক সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাটা কঠিন হয়ে যায়। তাছাড়া ক্যাম্প অফিসে নৈশ প্রহরী হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা নিয়োযিত থাকে। সেক্ষেত্রে হয়তো অতীতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বর্তমানে আরআরআরসি অফিস কর্তৃক যথেষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। এরপরও যদি এমন ঘটনা ঘটে তা অত্যান্ত দুঃখ জনক। আমরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com