1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

ফোর জি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা

  • Update Time : বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ২৮ Time View

রবি এবং এয়ারটেলের এসএমই নামে দুটি প্রোডাক্টের বেশিরভাগ সীম পাচার হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

পলাশ বড়ুয়া :

শুধু মোবাইল সীম নয়, ক্যাম্পগুলোতে থ্রী-জি, ফোর জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেটও ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। ফলে ফেসবুক, হোয়াটসআপ, ইমো, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, স্টাম্বলআপ, ইউটিউব চ্যানেল সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদেরকে সংগঠিত করার পাশাপাশি নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩৩টি ক্যাম্পের ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশির হাতেই রয়েছে স্মার্ট মোবাইল ফোন। এসব রোহিঙ্গাদের হাতে কীভাবে গেল সীম কার্ড- এ প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই।

অপরদিকে মিয়ানমারের রাখাইনেও বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকায় সেখানেও এদেশের সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা দিনদিন যেমন বাড়ছে, অপরদিকে মোবাইল ফোনের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এমনটি দাবী করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা মনে করছেন, বড় ধরণের কিছু ঘটার আগে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরী হয়ে পড়ছে। তার জন্য প্রথমে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ভাবে স্মার্ট ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে ।

থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এ-ব্লকের মাঝি আজিজ উল্লাহ বলেন, দুই বছর পূর্বে চট্টগ্রামের দোহাজারী থাকাকালীন ২শ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করছি। সীম কিনতে গিয়ে তার আইডি কার্ড বা আঙ্গুলের ছাপ দিতে হয়নি। পরিবারের অন্য কারো মোবাইল ফোন নেই। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে গত দুই বছর ধরে ০১৮৮২৬১৮৪৩৪ নাম্বারটি ব্যবহারের কথা তিনি সিএসবি২৪ কে জানান।

ক্যাম্প-৫ এর ব্লক জি-২ এর ফয়েজুল ইসলামের ছেলে হাবিবুল্লাহ বলেন, বছর-দেড়েক আগে এক ছেলের কাছ থেকে ১৫০টাকায় (০১৮৪৩৪৫৫২০২) সীমটি ক্রয় করে এখনো ব্যবহার করছে।

ক্যাম্প জি-২ এর মাঝি মোহাম্মদ হোছন বলেন, ২০১৭ সালের আসার পরপর কুতুপালং টিভি টাওয়ার এলাকা থেকে ৩শ টাকা দিয়ে (০১৮৮৫০৮৬৩০৩) নাম্বারের সীম এবং ৩ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছি। সীম কিনতে আইডি কার্ড বা আঙ্গুলের ছাপ দিতে হয়নি বলে তিনি জানান।

এছাড়াও এনজিও একটেডের কর্মী রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রাহেল বলেন, তার এক বন্ধুর মাধ্যমে ০১৮৮৫৪৫৫৯৭৬ নাম্বারের সীমটি ৩শ টাকা দিয়ে কিনে সীমটি ব্যবহার করছে।

এনজিও আরটিএম-এ কর্মরত টেকনাফের রাজারছড়া থেকে রোহিঙ্গা নারী রহিমা’র আক্তার (০১৭৭০৩৩৯৬৭২) নানার বাড়ি পদুয়ার নাপারটিলা এলাকা থেকে সীমটি ক্রয় করে ব্যবহার করছে। একই ভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে সীম ক্রয় করে ব্যবহার করছে মোস্তফা কামাল (০১৮৩৮৯৭৩৩০০), এনায়েত উল্লাহ (০১৮৭৮৪১৭৬৬৩), জাবের হোসেন (০১৮৪৬৯৯৪২৬৮)। নুরুল হক নামে এক রোহিঙ্গা যুবক জানান ক্যাম্পের দোকান গুলোতে অবৈধ পন্থায় ৫শ থেকে ১ হাজার টাকায় এসব সীম পাওয়া যায়।

ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশকে হুমকি দিয়েছে আব্দুল খালেক নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। একই ভাবে গত ২৫ আগস্ট ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে এক ভিডিও বার্তায় শেখ আলী নামে এক রোহিঙ্গা যুবক চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ এক নাম্বার গদ্দার বলে, চুদির বেগারত বলে তাচ্ছিল্য ভাষায় বাঙালিদের হুমকি-ধমকি ও গালি দেয়। সে নাকি বাঘ নামে পরিচিত জকিরের ছেলে। যা ক্যাম্প সহ সর্বত্রে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জনগোষ্টির প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের। এই ধরনের অসংখ্য ভিডিও অনেকটা উসকানী হিসেবে কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে এয়ারটেলের এরিয়ার সাবেক পরিবেশক হামিদুল হক জানান, রবি এবং এয়ারটেলের এসএমই নামে দুটি প্রোডাক্ট আছে। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স জালিয়াতি করে কর্পোরেট সীমের নামে হাজার হাজার সীম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাচার করে আসছে। ইতিপূর্বে এ ধরণের অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে কুতুপালং এলাকার হাসান এবং হাশেম নামে দুই যুবককে পুলিশ আটকও করেছিল। তারা ইতোমধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, ফিংগার প্রিন্ট জালিয়াতি তদন্তের চেয়ে এসএমই ডিসট্রিবিউটর বন্ধসহ কক্সবাজারের দায়িত্বরত তহিদুল আলম ও মিজবাহ উদ্দিনকে তলব করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানান।

সম্প্রতি ফ্রেন্ডশীপ এনজিও ক্যাম্পের জন্য রবি কোম্পানী এসএমই কর্মকর্তা বাদশা’র কাছ থেকে ২শ পিচ সীম সংগ্রহ করেছে বলেও বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায়।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী নাগরিক না হয়েও সহজেই বাংলাদেশী সীম ব্যবহার করার প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, এই অব্যবস্থাপনার জন্য ক্যাম্প প্রশাসন, টেলিকম কোম্পানী এবং স্থানীয়দের দায়ী করছেন তিনি। কেননা, স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে নিজের নামে রেজিষ্ট্রেশন রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে সীম। অপরদিকে ক্যাম্প ইনচার্জ, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসব দেখেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্যাম্প কেন্দ্রিক ছোট-বড় যে কোন ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় সহজে প্রচার করতে সক্ষম হচ্ছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।

রোহিঙ্গারা মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে ক্যাম্প-৭ এর ইনচার্জ হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ সিএসবি২৪ কে বলেন, তারা যেহেতু বিদেশী নাগরিক সে ক্ষেত্রে তাদের মোবাইল ব্যবহার করা বৈধ নয়। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা সীম সংগ্রহ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। ক্যাম্প গুলোতে মোবাইল সেবা বন্ধের জন্য বিটিআরসিকে যে নির্দেশনা এখনো আমাদের হাতে আসেনি। তিনি, রোহিঙ্গাদের যোগাযোগের জন্য টেলিটক বুথ স্থাপনের বিষয়ে জানেন বলেও জানান।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন সিএসবি২৪ কে জানান, রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত সীম গুলো স্থানীয় বাংলাদেশীদের নামে নিবন্ধিত। ক্যাম্প এলাকায় মোবাইল সেবা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে রোহিঙ্গারা যাতে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে যেন কোন ধরণের নাশকতা করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। ইতিপূর্বেও এ ধরণের একাধিক অভিযান পরিচালনা করার কথাও তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com