1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

রামু ও উখিয়ায় সমাবেশ, দাবী না মানলে এনজিও প্রতিহত

  • Update Time : শনিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৪৬ Time View

।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।


রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবর্তন, ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন বিরোধী এনজিও গুলোকে নিষিদ্ধ করন ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের জন্য বরাদ্ধকৃত ২৫% সুষ্ঠু ভাবে বিতরণসহ
উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরিতে স্থানয়ীদের অধিকার আদায়ের ১৪ দফা দাবি নিয়ে আবারো বিক্ষোভ করেছে স্থানিয়র চাকরিচ্যুত ও চাকরি বঞ্চিতরা। ২৬ জানুয়ারি শনিবার বিকাল ৩ টায় রামু উপজেলা ও উখিয়ার কোটবাজারে পৃথক ভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রামু উপজেলায় আমরা কক্সবাজারবাসীর ব্যানারে সাংস্কৃতিক কর্মী দীপক বড়–য়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আমরা কক্সবাজারবাসীর সম্বনয়ক কলিম উল্লাহ,নাজিম উদ্দিন, জেলা জাসদের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বাহাদুর, আমরা কক্সবাজারবাসী অন্যতম সংগঠক সাবেক ছাত্রনেতা এইচ.এম নজরুল ইসলাম,পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের সম্বনয়ক আব্দুল আলিম নোবেল।
এসময় অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধা ফরিদ আহম্মদ মাস্টার,রামু উপজেলা আওয়ামী লীগনেতা সাংবাদিক আব্দুল মালেক সিকদার, নুরুল আলম জিকু,উদীচী কর্মী বিপুল ধর,ছাত্রনেতা আব্দুল হাকিম হিমেল প্রমূখ।
বিক্ষোভ মিছিলোত্তর পথসভায় আন্দোলনকারী নেতারা বলেন,

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও গুলোতে রোহিঙ্গা আর বহিরাগতদের চাকরি দিলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। বক্তারা বলেন ,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা গুলোকে স্থানীয়রা গত দেড় বছর ধরে চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু এনজিওগুলো স্থানীয়দের দাবী কোন ধরণের কর্ণপাত না করে বরাবরই স্থানীয়দের বঞ্চিত করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে চরম অবমূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন এসব এনজিও। যা উখিয়ার সচেতন মানুষ কোন ভাবে মেনে নিবেন না।

ইতিমুধ্যে জেলা প্রসাশক, এএসপি, আরআরআরসি, এনজিও সংস্থা ডিআরসি, হ্যান্ডিক্যাপ, টিডিএইচ, ফ্রেন্ডশীপ, রিক, মুসলিম এইড, কোস্ট, ডিএসকে, প্লান, টিডিএইচ, কনর্সান, ব্র্যাক ও অক্সফার্ম সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিসে স্মারকলিপি/অনুলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া।
আন্দোলনকারীরা স্থানিয়দের পাশাপাশি বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি যোগ্যতা সম্পন্নদের আইএনজিওতে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান।

আজ ২৭ তারিখের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সকল দাবি আদায়ে এনজিওদের বাধ্য করা হবে বলে ঘোষনা দেন।
এদিকে একই সময়ে পৃথক ভাবে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরিতে স্থানয়ীদের অধিকার আদায়ের ১৪ দফা দাবি নিয়ে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’ ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৩ টায় কোটবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন,উক্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির অহবায়ক শরীফ আজাদ, মনজুর আলম শাহীন, রাশেদুল ইসলাম, তাওচীপ চৌধুরী, রাসেল মাহমুদ, যোবায়েত হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মফিদুল আলম প্রমুখ।

আন্দোলন কারীদের ১৪ দফা দাবি গুলো হলোঃ
১। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গা এনজিওর চাকুরীতে স্থানিয়দের ৭০% কোটা দিতে হবে।

২। স্থানিয়দের পরিকল্পিত ছাটাই কারী এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। এনজিও ও আইএনজিওতে প্রত্যেক বিভাগের উচ্চ পদে নুন্যতম ২ জন স্থানিয়কে চাকরি দিতে হবে।

৪। যে সকল এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ঐ সকল এনজিও তাদের পরবর্তী প্রকল্পে পূর্বের প্রকল্পের স্থানীয়দের চাকুরীতে বহাল রাখতে হবে।

৫। নিয়োগের কার্যক্রমে সচ্ছতা আনতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানিয়দের প্রতিনিধি একটি মনিটরিং সেল করতে হবে।

৬। এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের ৭০ ভাগ অপারেটিং খরচ হিসেবে ব্যয় করে এতে রোহিঙ্গারা ও স্থানীয়রা তাদের ন্যায্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এনজিওদের এসকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশী কর্মকর্তারা নুন্যতম ৫ লক্ষ টাকা বেতন পাচ্ছে সেক্ষেত্রে একজন স্থানীয় বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা। এনজিওতে চাকরিতে বেতন বৈষম্য দূর করতে স্থানীয়দের নুন্যতম বেতন ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

৮। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১৩শ বিদেশী কর্মকর্তার বেতন ও আনুসাঙ্গিক খরচ মিলে ২শ কোটি টাকার বেশী অর্থ খরচ করছে। এ সকল বিদেশী কর্মকর্তার স্থলে দেশীয় যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকুরী দিতে হবে।

৯। বিদেশী এনজিওরা মোট বরাদ্ধের ৯০ ভাগের বেশী অনুদান পাচ্ছে এবং এ সকল অনুদান বিভিন্ন কৌশলে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচাররোধে টঘ সংস্থা গুলো ছাড়া সকল বিদেশী এনজিওদের ফেরত পাঠাতে হবে। বিদেশী এনজিওদের স্থলে দেশীয় এনজিওদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১০। প্রতিমাসে সকল এনজিওকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থায়ী ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

১১। দক্ষতা অর্জনের জন্য স্থানীয়দের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। এনজিওতে চাকরির জন্য প্রতিটি অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৩। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে এনজিওদের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

১৪। প্রত্যাবাসন বিলম্ব হলে বিশ্বেও অন্যান্য দেশেরমত উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো কাটাতারের বেস্টনি দিয়ে রোহিঙ্গা সুনির্দিষ্ট গন্ডির ভিতর রাখার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com