1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

মোবাইল অপারেটরদের কারণেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

  • Update Time : রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩১ Time View

ডিবিডিনিউজ ডেস্ক :

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আশ্রয় ক্যাম্পে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করছে রোহিঙ্গারা। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার হাতে রয়েছে মোবাইল ফোন। সিমের পাশাপাশি তারা ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট সেবাও। এর মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাটিং করে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করছেন নিয়মিত। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এক জায়গায় লাখ লাখ রোহিঙ্গার সমবেত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে। নিয়ম অনুযায়ী কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সিম ব্যবহার করতে পারে না। কারণ সিম কিনতে গেলে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রর কপি লাগে। তার ওপর রয়েছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এ কারণে স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে একেকটা সিম ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনছেন তারা।

বিষয়টি মারাত্মক উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। তাদের দাবি, অবৈধভাবে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গা আগমনের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা হঠাৎ করে জমায়েত হয়ে জনসভা করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানতো না। সংগঠনটি জানিয়েছে, আমরা সম্প্রতি টেলিভিশনের পর্দায় এক রোহিঙ্গা নেতার সাক্ষাৎকারে লক্ষ্য করলাম তিনি মুঠোফোনে বিভিন্ন ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাচ্ছিলেন এবং সেই নেতা অনলাইন টেলিভিশনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খবর প্রচারের কথা স্বীকারও করেন। আমাদের নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে দেখতে পেরেছি রোহিঙ্গারা কথা বলা ছাড়াও থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা গ্রহণ করছে।

সীমান্তের ওপারে নেটওয়ার্ক সমপ্রসারিত থাকায় বিষয়টি উদ্বেগজনক। সরকার যদি দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালে যখন তারা এদেশে আশ্রয় পায় তখনই এক অভিযানে এক লাখেরও বেশি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়। তখনই আমরা এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাই। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করি। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্নপাত করেনি। এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন ভূমিকাও নেয়নি। এখন রোহিঙ্গাদের শক্তিশালি নেটওয়ার্ক রয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সমবেত হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে তারা যে ভয়ংকর হয়ে উঠবে না এর নিশ্চয়তা কে দেবে? তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি ইস্যু। সরকার বা বিটিআরসি যদি এখনই কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে পরিস্থিতি হয়তো নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল অপারেটররাও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে রোহিঙ্গাদের হাতে সিম তুলে দিচ্ছে। যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২ বছর আগে ওই এলাকায় মোবাইল সিমের ব্যবহারকারি কতজন ছিলো আর এখন কতজন হয়েছে সে হিসেবটা বের করলেই খুব সহজেই বোঝা যাবে। পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত এক কিলোমিটারের মধ্যে ৫০টির বেশি পরিবার থাকে না। সে হিসেবে তাদের হাতে কয়টা সিম থাকতে পারে আর এখন কতটা আছে? তিনি বলেন, বায়োমেট্রিক পরিপূর্নভাবে কার্যকর নয়। তাছাড়া কর্পোরেট সিম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গারা। এই সিম একজনের নামে অনেকগুলো দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এটাই কাজে লাগাচ্ছেন অসাধুরা। বাড়তি টাকার বিনিময়ে ওইসব সিম তুলে দিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের হাতে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন-পুরনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com