1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ২৩ Time View

ডিবিডিনিউজ২৪ ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেষ্টা করছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসভবনে আওয়ামী লীগের নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১০ বছরে অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। তার সরকার এরই মধ্যে দেশের দারিদ্র্যহার ২০ দশমিক ৫ ভাগ নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য সরকার ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও উদ্যোগ নিয়েছে। মুজিববর্ষ ঘিরে মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে- সেটা বোঝা যাচ্ছে।

এর আগে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এদিন দলের নবনির্বাচিত নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও যৌথসভায় যোগ দিতে টুঙ্গিপাড়ায় আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বেলা ১১টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে পৌঁছলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর সড়কপথে ১১টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে পৌঁছনোর পর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। দুপুর পৌনে ১২টায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলসহ নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সকালেই সড়কপথে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বেলা পৌনে ১টায় সেখানে পৌঁছান। বেলা ১টায় দলের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতার সমাধিতে। স্বাধীনতার স্থপতি মহান এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগের বিশেষ যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। সভা শেষে বিকেল পৌনে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী।

যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে হত্যাকারীরা তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। আজ বঙ্গবন্ধুর নামটি আবারও উচ্চারিত হচ্ছে। জাতির পিতার নাম আর কখনও কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। কারণ জাতির পিতা সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি কাজ করেছেন। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘২৪ বছরের সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ ও দুই লাখ মা-বোন আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি- সেসব অর্জনের সুফল একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের মানুষ যেন পান। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকেই জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব- এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে দলের কয়েকজন নেতা জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারেননি বলে জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে যারা কাজ করছেন, তাদের আসার দরকার নেই। যারা বাকি থাকবেন, তাদের নিয়ে আবারও আসব। পরবর্তী সময়ে নোটিশ দিয়ে কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সভা করা হবে।’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়া সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সড়কপথে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া-আসার সময় হাত নেড়ে এবং বিপুল স্লোগান ও করতালিতে স্বাগত জানান তারা। এ উপলক্ষে গোটা এলাকাকেও বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। ‘বঙ্গবন্ধু তোরণ’, ‘শেখ হাসিনা তোরণ’ নামকরণ করে অসংখ্য তোরণ ও বর্ণিল পতাকা দিয়ে গোটা এলাকা সুশোভিত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সমাধির সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার পথের সেতু ও কালভার্টগুলো জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙে রাঙানো হয়। দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে টানা নবমবারের মত আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো টুঙ্গিপাড়ায় আসেন শেখ হাসিনা।

গত বছরের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা টানা নবমবারের মতো দলের সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। ২৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি নতুন কমিটির জাতির পিতার সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও টুঙ্গিপাড়ায় প্রথম যৌথসভার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে তা স্থগিত করা হয়। তবে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই যৌথসভা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com