1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কক্সবাজারে মানব পাচার প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন ও নাটক প্রদর্শনী

  • Update Time : বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩৮ Time View

মোঃ মাহমুদল হক জিহাদ :

জানুয়ারি ২০২০ মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির মাস। বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশী মানুষ পাচারের শিকার, পাশাপাশি নতুন তরুণ প্রজন্ম পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালেশিয়া পাচারের সময় অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করার পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বিভিন্ন দেশের জেলখানায় বন্ধিদশায় দুঃসহ জীবন অতিবাহিত করছেন। এখনো উৎকন্ঠায় দিনযাপন করেন অনেক পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। প্রতিনিয়ত দালালের প্ররোচনায় বেশী টাকা উপার্জনে গ্রামের হতদরিদ্র সাধারণ মানুষগুলোকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গত ২০ জানুয়ারি’২০২০ মানব পাচার প্রতিরোধে টেকনাফে বিটার দিনব্যাপী ট্রাক ক্যাম্পেইন ও নাটক ‘অন্ধকারে যাত্রা’র প্রদর্শনী করা হয়।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও বাস্তবায়নকারী সং স্থা বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা) এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং-ইন-পারসনস (বিসিটিআইপি) প্রোগ্রামে’র আওতায় হোয়াইক্যং থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ট্রাক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ট্রাক ক্যাম্পেইনে মানব পাচারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভ্রাম্যগান গান, তথ্যভিত্তিক লিফলেট, বুকলেট সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণ করা হয়। হোয়াক্যং, উনচিপ্রাং, মৌলভী বাজার, হৃীলা বাজার লেদা, মোচলি, জাদুমোড়া, ধমধমিয়া, বাস স্টেশন, পৌরসভা, টেকনাফ জিরো পয়েন্ট ও টেকনাফ সদরসহ বিভিন্নস্থানে মানব পাচারের লিফলেট ও বাংলাদেশ সরকারের মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইন ২০১২ সম্পর্কে প্রচারণা ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যাবৎজীবন কারাদন্ড ও মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার দশটি ধাপ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে নাটকের শো অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের অবস্থান এই অঞ্চলকে আরও বেশী ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তার সাথে এখানকার অসাধু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের কারণে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা। মানব পাচার দেশে ও বিদেশে যেকোন স্থানেই ঘটতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় একজন মানুষ নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমেই বেশী পাচারের শিকার হয়। যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশী প্রলোভনের শিকার। বর্তমানে প্রতিটি মানুষই মানব পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। মানব পাচার আন্তর্জাতিক সমস্যা। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০২২) বাস্তবায়নে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ প্রণয়ন করে। সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ দমনে সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্টার ট্রাফিকিং কমিটি (সিটিসি) গঠন করেছে। যেখানে বিভিন্ন ধরণের শাস্তি ও জরিমানা সম্পর্কে বলা হয়েছে। সরকারের কর্মপরিকল্পনাকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা বিটা কক্সবাজার টেকনাফ ও উখিয়াতে মানব পাচার দমন ও ভয়াভয় পরিণতি সম্পর্কে ভ্রাম্যমান মোবাইল ক্যাম্পেইন থিয়েটারের (এমসিটি) মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার লক্ষে নিয়মিতভাবে প্রতিমাসে বিভিন্নস্থানে নাটকের প্রদর্শনী করছে। নাটকে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষদের বিদেশ গমনে সরকারের বিএমইটি ও ডেমো অফিসের নানাবিধ প্রশিক্ষণ সম্পর্কে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বছরব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, টেকনাফের ডেইল পাড়া, বট্টলি বাজারের কচুবুনিয়া পাড়ায় ‘অন্ধকারে যাত্রা’ নাটক প্রদর্শিত হয়।

নাটকে টেকনাফের উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিস তাহেরা আক্তার মিলি কচুবুনিয়ায় নাটকের প্রদর্শনী দেখেন ও উপস্থিত দর্শকের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বলেন, ‘‘আপনারা বাড়ীতে সবাইকে মানব পাচরের কূফল সম্পর্কে জানাবেন। মানব পাচার একটা খারাপ ও জগন্যতম কাজ। কেউ যদি পাচারকারী হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, তাহলে পুলিশ থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আমাদের কিছইু করার থাকবেনা। সরকারের আইন অনুযায়ী আপনারা শাস্তি পাবেন। উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও বিটাকে আন্তরিক ধন্যবাদ মানুষকে সচেতন করার জন্য আমার এলাকায় নাটকের প্রদর্শনী করাই ।’’ বিটার ফিল্ড কোর্ডিনেটর সুমন সেন জানান, প্রতিমাসে বিটার মানব পাচার প্রতিরোধে নাটক মঞ্চায়ন অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com