1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

মানবিকতায় মোড়ানো এক নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী

  • Update Time : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৩৬ Time View

মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন : উখিয়া উপজেলার ভূতপূর্ব নির্বাহী অফিসার মাঈন উদ্দিন তাঁর বেশিকিছু মানবিক এবং জনস্বার্থমূলক কর্মকান্ডের কারণে সহজেই উখিয়া উপজেলাবাসীর মনে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা তৈরী করে নিয়েছিলেন। তাই, তাঁর বদলীজনিত বিদায়ের সময় উখিয়ার বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, এমন মানবিক অফিসার উখিয়াবাসী আর পাবেতো? কিংবা যিনি ওনার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি তাঁর মত হবেনতো? সাধারণের এসব কৌতুহলী দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝেই ১৬ অক্টোবর, ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন আজকের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী। ১৯৮৬ সালের ২১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলায় তাঁর জন্ম। পিতা ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা।

নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিকারুজ্জামান চৌধুরীর যোগদানের পূর্বে উখিয়াবাসীর সেসব কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আজকের বাস্তবতার নিরীখে নিছকই অবান্তর। কারণ, সেসব প্রশ্নের উত্তর তাঁর কর্মেই নিহীত। নতুন কর্মস্থল উখিয়াতে যোগদান করেই হতে হয়েছিল রোহিঙ্গা সমস্যার মুখোমুখি। সেসময় রোহিঙ্গা মানে ছিল এক বিশাল হ-য-ব-র-ল অবস্থা। যাঁদের সুনিপুণ দক্ষতা এবং প্রচেষ্টায় সেই বিশৃঙ্খল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয়েছিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিকারুজ্জামান চৌধুরী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সেসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করা এবং ত্রান বিতরণে জড়িত দেশি-বিদেশী বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এবং ব্যক্তিদের একটি সুশৃঙ্খল কর্মফ্রেমের মধ্যে নিয়ে আসায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক অকারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানোর মত অসৎ কর্ম কঠোরহস্তে দমনে নিকারুজ্জামান চৌধুরীর তৎপরতা ছিল তাঁর জনস্বার্থমূলক চিন্তা-চেতনার পরিচায়ক। তাঁর এই তৎপরতার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেমন দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখতে বাধ্য হয়েছে ঠিক তেমনি উখিয়ার সাধারণ জনগণও ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। লোকমুখে শুনা যায়, উখিয়ার ইউএনও মানে এখন উখিয়ার অসাধু ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক।

অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর কারণে কিছুদিন আগেও উখিয়া উপজেলার সিএনজি চালক এবং যাত্রীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের জানা। সম্ভাবনা ছিল বড়সড় কোন ঘটনার। কিন্তু না, তখনও বিষয়টিকে জনস্বার্থমূলক বিবেচনা করে এগিয়ে এসে একটা নিশ্চিত অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন এ নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। দিনদিন এই করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মত আমাদের উখিয়ায়ও চলাফেরার উপর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে প্রশাসন থেকে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সমাজের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষ হিমসিম খাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয়তার চাহিদা মেটাতে। ঠিক এমন সময় অতি মানবিকতার রূপ নিয়ে হাজির হয়েছেন উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী। প্রথম দিকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য নিজে মাইকিং করে ছুটেছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। সম্ভাব্য করোসাভাইরাস নির্মূল করতে বিভিন্ন স্থানে নিজের হাতে ছিটিয়েছেন জীবানুনাশক মেডিসিন।

সবকিছুকে ছাড়িয়ে এ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর যে মানবিক গুনটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং হচ্ছে, তা হলো চলমান দুর্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং প্রয়োজনে তা মানুষের বাড়িবাড়ি পৌঁছে দেওয়া। সরকারীভাবে বরাদ্ধকৃত ত্রানের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা থেকে পাওয়া ত্রান সুসমবন্টনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে যাওয়াটা। যারা প্রকাশ্যে ত্রান নিতে লজ্জাবোধ করছেন তাদের জন্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে অনুরোধমূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেন ত্রান বা যেকোন প্রয়োজনে তাঁর কাছে কল করেন বা ম্যাসেজ প্রেরণ করেন। কল বা ম্যাসেজ প্রদানকারীর তথ্য পরিচয় গোপন করে বাড়িবাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন এবং তা কার্যকরও করে যাচ্ছেন। ফলে উখিয়ার সর্বত্র আজ তাঁর গুণগান। দুঃসময়ে সাড়া পেয়ে অনেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করে প্রার্থনাও করছেন। একজন আমলার জন্য এর চেয়ে বড় পাওনা আর কি হতে পারে?

এ কথা মানতেই হবে যে, বর্তমান দুঃসময়ে যে ক’জন সরকারী কর্মকর্তা করোনা সংক্রমনের ঝুঁকিকে উড়িয়ে দিয়ে জনসাধারণের জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, আমাদের দেখায় তাঁদের মধ্যে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী অন্যতম। হউক সেটা কক্সবাজার জেলায় কিংবা সমগ্র বাংলাদেশে।

আমরা আসলেই ভাগ্যবান। মাঈন উদ্দিন গেলেন, নিকারুজ্জামান চৌধুরী এলেন। এসেই স্ব-মহিমা আর মানবিকতায় উখিয়াবাসীর মন থেকে মুছে দিলেন আগের জনের নাম। আমলাদের এমন-ই হওয়া উচিত। জনস্বার্থমূলক কাজে একজন অন্যজনকে ছাড়িয়ে যাবে। দূরত্ব ঘুচিয়ে জনগণের কাতারে আসতে পারাটাই তাঁদের জন্য স্বার্থকতা, যেটি উখিয়া উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী সানন্দেই করে যাচ্ছেন সেই থেকে অদ্যাবধি। তাই, আমি নিশ্চিত, কখনো স্বাভাবিকভাবে বদলী হলেও তাঁর নাম উখিয়াবাসীর মনে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে, স্মরণ করবে ভালবাসা এবং শ্রদ্ধার সবটুকু অর্ঘ্য দিয়ে।

দীর্ঘায়ু এবং শুভ কামনা নিরন্তর…

লেখক : বার্তা সম্পাদক, ডিবিডিনিউজ২৪ ডটকম ও ব্যাংকার।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com