1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

মাধ্যমিক শিক্ষা হোক সাক্ষরতার মাপকাঠি

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৪৫ Time View

অধ‍্যক্ষ মো. আবুল বাশার হাওলাদার : আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ইউনেস্কোর উদ‍্যোগে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। তখন ইউনেস্কোর ঘোষণায় বলা হয়, “The hundreds of millions of illiterate adults still existing in the world, make it essential to change national education policies.” বাংলাদেশে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম পালিত হয় দিনটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম উদ‍্যোগ নেন আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করার। সেই থেকে দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হচ্ছে এবং নানা উদ‍্যোগে সাক্ষরতার হার বাড়ানো হচ্ছে। তখন থেকে নৈশ বিদ‍্যালয় ও বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালু করে বয়স্কদের পড়ালেখার ব‍্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বয়স্ক ও কর্মজীবীদের জন‍্য মাধ‍্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।

এ বছর এই দিবসের প্রতিপাদ‍্য হলো, “Literacy teaching and learning in the COVID-19 crisis and beyond.” বিশেষ করে বর্তমান মহাদুর্যোগে যুবক ও বয়স্কদের জন‍্যই শিক্ষার উদ‍্যোগ নেয়া জরুরী । বর্তমানে বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭। তবে এই হার শুধুমাত্র লিখতে পড়তে পারা মানুষের সংখ‍্যার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ নাম ঠিকানা লিখতে পারলেই তাকে সাক্ষর-জ্ঞান সম্পন্ন বলা হয়ে থাকে। তবে এখন সাক্ষরতার ধারণা দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু আছে। এজন‍্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ‍্যোগ চলমান আছে। এর ফলে প্রায় শতভাগ শিশু স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করছে। ঝরে পড়ার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। তাছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করায় শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে যা এ হার কমাতে অনেকটা সাহায্য করবে। আসলে সাক্ষরতার হার শতভাগ নিশ্চিত হবে প্রাথমিক শিক্ষা আরও সুদৃঢ় করার মাধ‍্যমে। কেউ কেউ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ, এদেশে এখনো শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পড়ালেখা করে। যাহোক,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দারুণ কাজ করে যাচ্ছেন। সাফল‍্য তাদের আছে, আর একটু পরিকল্পিত উদ‍্যোগ নিলেই সাক্ষরতার হার আরও বাড়বে।

এখানে একটি কথা না বললেই নয়। দুই একটি এনজিও আছে যারা প্রাথমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করছেন বলে মাঠ গরম করছেন। আমার মনে হয়, তারাই মূলত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। শিক্ষায় তাদের কোনো অবদান আছে কি না আমি সন্দিহান। দেখা যায়, গণমাধ্যমে তারা সোচ্চার। কুৎসা গাইছেন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। মাঝে মধ‍্যে সংবাদ সম্মেলন করে বড়ো বড়ো কথা বলে যাচ্ছেন। লাখ লাখ শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে। আর তারা বিদেশী টাকা হজম করার জন‍্য শুধু শুধু বিতর্কিত করছেন শিক্ষক ও শিক্ষাব‍্যবস্থাকে। এসব কথা বাদ দিয়ে মূল কথায় যাই।

আমার মতে সাক্ষরতা শুধু পড়তে-লিখতে পারার মধ‍্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সাক্ষরতার সংজ্ঞা নতুন করে সাজাতে হবে। প্রত‍্যেক নাগরিকের স্বাস্থ‍্যবিধি, পুষ্টি, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান, ট্রাফিক আইন, আইসিটি, প্রভৃতি বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। এজন‍্য অন্তত মাধ‍্যমিক শিক্ষা বাধ‍্যতামূলক করতে হবে। তাই প্রাথমিক থেকে মাধ‍্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ , ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষায় সকল বৈষম‍্য দূর করা, শিক্ষকের যথাযথ মর্যাদা প্রদান, শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের ব‍্যবস্থা করা ও বৃত্তি প্রদান, অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা-সহ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা এখন শতভাগ নাগরিককে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে ২০৪১ খ্রিষ্টাব্দের রূপকল্প বাস্তবে রূপ দিতে চাই। তাই আসুন সকলের জন‍্য যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের স্লোগান।

লেখক : অধ্যক্ষ আবুল বাশার হাওলাদার, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com