1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

ভাব গম্ভীর সুবহে সাদেক ও বিশ্বময় সার্বক্ষণিক আজান

  • Update Time : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩৮ Time View

আতিকুর রহমান মানিক :

এখন ভোররাত সোয়া ৪ টা। আরো একটি রাত শেষ হচ্ছে । পূবাকাশে উদয় হওয়া শুকতারা ক্রমশঃ উপরে উঠছে। সুবহে কাজেব’র পর এখন সুবহে সাদেক উদয় সমাগত। প্রতিদিনকার মত একটু পরেই (৪ টা ২১ / ২২ মিনিটের দিকে) দুরের কোন মসজিদে শুরু হবে প্রথম আজান। সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে শুরু হবে আজান ধ্বনি।

এরপর আরো দুই একজন মুয়াজ্জিন আজান শুরু করবেন। এরপর আরো কয়েকজন। তারপর সবাই একযোগে। এভাবে শত শত মাইকে ফজর নামাজের সুমধুর আজান ধ্বনিতে মুখরিত চারদিক। চারদিকে আজানের একটানা কেরাস চলবে প্রায় আধঘন্টা তক।

ভোরের মৃদুমন্দ মনজুড়ানো বাতাস বইছে। রাত শেষ হয়নি, আবার দিনও শুরু হয়নি।

রাত-দিনের মাঝামাঝি ভাবগম্ভীরতায় ভরপুর আধ্যাত্নিক পবিত্র এক মূহুর্ত। রাতশেষে দিনের শুরু হচ্ছে, এভাবে গড়িয়ে যাচ্ছে সময়-জীবন। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে প্রতি ভোরে ঘটে আসা প্রাত্যহিক এ ব্যাপারটির স্বাক্ষী হতে পারি আমরা সবাই। মূল্যবান ও অপার্থিব এ ব্যাপারটা দেখতে কিন্তু টাকা লাগেনা !

প্রতিটি সুবহে সাদিকের দ্বিধা থরো-থরো অপার্থিব ও মনোরম এ দৃশ্য (বিনামূল্যে) উপভোগ না করে যারা ঘুমিয়ে থাকে, তাদের কি কখনো বুদ্ধিমান ও সচেতন বলা যায় ??

আগামীকাল থেকে এসময় একবার উঠে দেখুন, ফজর নামাজের জামাতে শরীক হোন, এরপর কিছুক্ষন হাঁটুন। ভোরের তাজা হাওয়ায় হালকা ও সতেজ হবে তনু-মন, কাজ-কর্মে গতি বাড়বে ১০০%।
ঘুম থেকে উঠার ব্যাপারে পাখি ও সূর্যের কাছে আর কত পরাজিত হওয়া কেন ?

আজান কিন্তু সবসময়ই সুমধুর। কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সব মসজিদে সে আজান উচ্চারিত হতে থাকবে।

আজানের নিগূঢ় মাহাত্ম্য রয়েছে। আজানের মাধ্যমে আল্লাহর নামকে সারা ধরণীর বুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম আকাশ-বাতাসকে প্রকম্পিত করে তোলে। শুধু তাই নয়, জানিয়ে দেওয়া হয় নামাজের সময় হয়ে গেছে। আহ্বান করা হয় জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য, কল্যাণের পথে আসার জন্য। আজানের দরুণ শ্রোতার জন্য নামাজের স্থান খুঁজে বের করা সহজ হয়, আজানের প্রভাব বিশ্বব্যাপী।

আর অবাক করার মতো তথ্য হলো- বিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। এর হিসাবটা এমন-

পৃথিবীর মানচিত্রে সবচেয়ে পূর্ব প্রান্তের মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। এ দেশের প্রধান শহরগুলোর অন্যতম হলো- সাবিল, জাভা, সুমাত্রা ও বোর্নিও।

ফজরের সময় এই সাবিল শহর থেকে শুরু হয় হাজার হাজার ইন্দোনেশীয় মুয়াজ্জিনের আজান। ফজরের আজানের এই প্রক্রিয়া ক্রমেই এগিয়ে চলে পশ্চিমের দিকে।

সাবিলের আজান শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর জাকার্তায় প্রতিধ্বনিত হয় আজানের সুর। এরপর সুমাত্রায় শুরু হয় আজানের এই পবিত্র প্রক্রিয়া। ইন্দোনেশিয়ার আজানের ধ্বনি শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশ মালয়েশিয়ায়।

মালয়েশিয়া থেকে বার্মা তথা মায়ানমার ও সেখান থেকে কক্সবাজার। এভাবে জাকার্তায় শুরু হওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই আজানের সুর পৌছে যায় বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূল হয়ে রাজধানী ঢাকায়। বাংলাদেশের পর আজানের জয়যাত্রা চলে পশ্চিম ভারতের দিকে, কলকাতা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত এবং তারপর এগিয়ে যায় বোম্বের দিকে।
এই মুহূর্তেও পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মানুষ শুনতে পাচ্ছে আজানের পবিত্র সুর।

শ্রীনগর এবং শিয়ালকোট (পাকিস্তানের উত্তরের একটি শহর) শহর দু’টিতে আজানের সময় একইসঙ্গে শুরু হয়। শিয়ালকোট, কোয়েটা এবং করাচীর মধ্যে সময়ের পার্থক্য চল্লিশ মিনিটের মতো। তাই এ সময়ের মধ্যে সমগ্র পাকিস্তানজুড়ে শোনা যায় আজানের সুর। সেই সুর পাকিস্তানে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আফগানিস্তান আর মাস্কাটে এর ঢেউ এসে লাগে। বাগদাদের সঙ্গে মাস্কাটের সময়ের পার্থক্য এক ঘণ্টার।

আজানের আহ্বান প্রতিধ্বনিত হয় ‘হিজাজ-ই-মোকাদ্দাস’ (মক্কা ও মদিনার পবিত্র শহরসমূহ, ইয়েমেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাকের আকাশে-বাতাসে।

বাগদাদ এবং মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার সময়ের পার্থক্যও এক ঘণ্টা। তাই এ সময়ের মধ্যে সিরিয়া, মিসর, সোমালিয়া এবং সুদানে চলতে থাকে আজান।

পূর্ব ও পশ্চিম তুরস্কের মধ্যে ব্যবধান দেড় ঘণ্টার। এ সময়ের মাঝে সেখানে নামাজের আহ্বান শোনা যায়। আলেকজান্দ্রিয়া এবং ত্রিপলি (লিবিয়ার রাজধানী) এক ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থিত। একইভাবে আজানের প্রক্রিয়া সমগ্র আফ্রিকাজুড়ে চলতে থাকে। এর পর আটলান্টিক মহাসাগরের দেশ মরক্কো ও মৌরিতানিয়ায় এসে পৌঁছে।

পৃথিবীর পূর্ব উপকূলে তাওহিদ এবং রিসালাতের প্রচারের যে ধারা শুরু হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ায় তা এসে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে পৌঁছে সাড়ে নয় ঘণ্টা পর।
ফজরের আজানের বার্তা আটলান্টিকের উপকূলে পৌঁছাবার পূর্বে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে জোহরের আজানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় এবং ঢাকায় এটা পৌঁছানোর পূর্বে শুরু হয়ে যায় আসরের আজান। দেড় ঘণ্টার মতো সময় পেরিয়ে এ প্রক্রিয়া যখন জাকার্তায় পৌঁছে ততক্ষণে সেখানে মাগরিবের সময় হয়ে আসে এবং মাগরিবের সময় সুমাত্রায় শেষ না হতেই সাবিলে এশার আজানের আহ্বান ভেসে আসে।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আমাদের চোখে পড়বে আজানের অবাক করা দিকটি আর তা হলো- পৃথিবীর বুকে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও হাজার হাজার মুয়াজ্জিনের গলায় উচ্চ স্বরে আজানের সুর ভেসে বেড়ায়।

এমনকি আমরা যে মুহূর্তে লেখাটি পড়ছি- নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই মুহূর্তেও পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মানুষ শুনতে পাচ্ছে আজানের পবিত্র সুর। যে সুরে মুয়াজ্জিন দরাজ গলায় আহ্বান করছেন- আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)। হাইয়া আলাস সালাহ! (এসো নামাজের জন্য)। হাই আলাল ফালাহ! এসো কল্যানের পথে।
আজান শুধু নামাজের ঘোষনাই নয়, এ যেন পরম করুনাময়ের অপার মহিমা।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com