1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯
  • ৭৪ Time View

জাতীয় ডেস্ক

স্বাধীনতার মহানায়ক, মৃত্যুঞ্জয়ী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৪৪ বছর পরও ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালি। বৃহস্পতিবার তাঁর প্রয়াণ দিবসে শোকস্তদ্ধ ছিল ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর। শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় থমকে গিয়েছিলো পুরো এলাকা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর নশ্বর শরীর কেড়ে নিলেও তাঁর অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ যে মৃত্যুঞ্জয়ী, ঘাতকের সাধ্য ছিল না ইতিহাসের সেই মহানায়কের অস্তিত্বকে বিনাশ করে দেওয়ার।বাঙালী জাতি স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি সর্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে প্রতি বছর তারই জানান দেয়, শেখ মুজিব বাড়ন্ত বটবৃক্ষের মতো ধাপে ধাপে বাঙালীর সামনে উদ্ভাসিত হয়েছিলেন। মৃত্যুর চার দশক পরও সমানভাবেই রয়েছেন সমুজ্জ্বল।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাঙালী জাতি ৪৪ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। গোটা জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণের পাশাপাশি তাঁর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় শপথও নিয়েছে।

এই দৃঢ় প্রত্যয় আর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি স্মৃতিভারাতুর হয়ে এবং বিনম্র চিত্তে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে স্বাধীনতার মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় দেশব্যাপী পালিত হয় জাতির পিতার ৪৪ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।

জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবসের সকালে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শোকের কর্মসূচী সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তাঁরা মোনাজাত করেন।

এ সময় মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ১৪ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল শোকার্ত হাজার হাজার মানুষের মিলন মোহনা। ৩২ নম্বর ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশাসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল। শহরজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে শোকের পোস্টার। সর্বত্র শোকের তোরণ, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের সেই ৭ মার্চের ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে রাজধানীর পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি দেশের সর্বত্র শোকার্ত মানুষের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন শ্লোগান- ‘কে বলেছে মুজিব নাই, মুজিব আছে সারা বাংলায়’, মুজিবের বাংলায় জামায়াত-শিবির-জঙ্গিদের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয়ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এছাড়া দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলির পর বিভিন্ন সরকারি দফতর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শেখ হাসিনা চলে যান বনানী কবরস্থানে। সকাল সোয়া সাতটায় তিনি রওনা হন।

সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। টুঙ্গিপাড়ায় সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু মাজার প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবক অর্পণ, সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক গার্ড অব অনার ও মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com