1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান, অচিরেই আসছে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ১১৫ Time View

ডিবিডিনিউজ রিপোর্ট : করোনা সংকটের সময় সরকার অনেকটাই আমলা নির্ভর হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনের উপর দায়িত্ব অনেক বেড়েছে এবং প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সময়ে প্রশাসন বা আমলারা তাঁদের উপর যে অর্পিত দায়িত্ব তা যথাযথভাবে পালন করছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলা নির্ভরভাবে করোনা সঙ্কট মোকাবেলা নিয়ে আপত্তি এবং অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। আর এইরকম বাস্তবতায় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিএনপি-জামাত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মহলে ম্যানেজ করে প্রশাসনে নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন। আর এদের কারণে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিভ্রান্তিতে পড়ছে, প্রধানমন্ত্রীর অনেক নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এই বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের নজরে এসেছে।

ইতিমধ্যে বিএনপি-জামাতপন্থিদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের অনেকেই বিতর্কিত হয়েছেন। বিশেষ করে রিজেন্টের প্রতারক সাহেদ কেলেঙ্কারির সাথে অনেকের ঘনিষ্ঠতা, অনেকের অতিমাত্রায় রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া বা অনেকের দুর্নীতির কারণেও প্রশাসন সম্পর্কে জনমনে এক ধরণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই সরকার প্রশাসনে একটা বড় ধরণের পরিবর্তন বা শুদ্ধি অভিযানের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

করোনা সংকটের সময় অন্তত দু’জন সচিব মৃত্যুবরণ করেন। এই সময়ে পদোন্নতি প্রাপ্ত সচিবদের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এই সময়ে আবার কয়েকজন সচিবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। যে সমস্ত অভিযোগের কারণে প্রশাসনের ভাবমূর্তি এবং ইমেজ নষ্ট হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে প্রতারক সাহেদের সঙ্গে চুক্তির সময়ে দুইজন সচিবের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার অনেকেই বলছেন যে, আমলাতন্ত্রের সিঁড়ি দিয়েই রাজনীতির মাঠে এসেছে প্রতারক সাহেদ।

এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনে অদক্ষ, অযোগ্য এবং দুর্নীতিবাজদের একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ করে করোনার সময়ে যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারননি, যারা আওয়ামীলীগের চিন্তাচেতনা পরিপন্থি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে যদি সঙ্কট মোকাবেলায় কাজ করা হতো তাহলে পরিস্থিতি আরো ভালো হতো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক নির্দেশনাই সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের গাফিলতি দেখা গেছে। করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই সচিবদেরকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ সচিবই এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি বলে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন। আবার এই সময়ে কিছু কিছু আমলার বিরুদ্ধে অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এসেছে। একজন আমলা সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ তিনি যখন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিদায়ী মহাপরিচালককে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন উঠেছে যে, রাজনীতিবিদদের যদি কাঠগড়ায় দাড় করানো হয়, রাজনীতিবিদদের যদি জবাবদিহিতা করতে হয় তাহলে আমলাদের কেন জবাবদিহি করা হবে না? একইভাবে কিছু কিছু পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাত, বন্ধুত্ব ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে অযোগ্য ব্যক্তিরাও পদোন্নতি পেয়েছেন এমন বিষয় নিয়ে প্রশাসনে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এই সমস্ত কারণে সরকার মনে করছে যে, প্রশাসনে একটি শুদ্ধি অভিযান দরকার। আর এই শুদ্ধি অভিযান খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com