1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

নিশি পেঁচা ঘুরে শহরময় | মানিক বৈরাগী

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৭০ Time View

অবিকশিত শৈশবের প্রথম ধাপে বাল্যশিক্ষা স্কুলের শুরুতেই নিজেকে নিজের কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছিল। ৭ বছর বয়সেই পিতৃহারা, তখনই একাকিত্ব তাকে গ্রাস, করেই সেই থেকে অলৌকিক পথেই তার যাত্রা শুরু। দু’চোখেই সবুজ মরীচিকা, মুখােশেপূর্ণ মানুষ স্বজনের কীটদংশন।

প্রথাগত যেসব বন্ধন যাকে আমরা নাড়ি-নক্ষত্রের ইন্দ্রজাল বলি, সেসব স্বজনের ক্রুর লােভ বৈষম্যের শকুন চোখের উপেক্ষায়। কী কৌশলে এড়ানাে যায় আপাতত নিজ গন্তব্যে পৌঁছানাের যে সিঁড়ির প্রতিটি ধাপের অঙ্কন প্রক্রিয়া নিজেকে করতে হয়। তার অন্য অনেকের মতাে সুহৃদ শৈশব থাকলেও, এই শৈশবকে নিজেই নিজের মতাে করে গড়েছেন ভেঙেছেন, অর্জন বর্জনের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন পাঠ নিতে হয়েছিল তাকেই আমাদের গৎবাধা সমাজের রক্তজ সম্পর্কের ভিতরে একটি শিশু যে সােনালি স্বপ্ন আকে তার স্বপ্ন সেভাবেই ছিলাে না, সে স্বপ্ন তৈরী করতাে। একই পাঠশালার আশপাশ যে সব সার্থীরা নিজের মতাে করে বা প্রাকৃতিক নিয়মে বেড়ে ওঠে ঠিক সেভাবে নদীর স্রোত গতিবাহী ছিলােনা তার জীবনে। তখন থেকে নিজের কর্তৃত্ব নিজেকে নিতে হয়েছে। একই ঔরসের অগ্রজদের বৈষম্যমূলক কূটকৌশলকে মায়াবি হাসির করুণায় ভাসিয়ে দিয়ে ব্যর্থ করেছে দিয়েছে একজন একা মাসউদ।

রুহুল্যার ডেবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমগােত্রীয় সকল শিশুদের মাঝে শিক্ষক একটি শিশুকে অন্য অনেকের থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতেন এবং সেভাবেই শিক্ষকরা তার প্রতি অন্যরকম দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। তার চোখের ভাষা, মুখের ভাষা, পঠন পাঠনের এবং পরীক্ষা শেষে শুধুই নিজের মতাে প্রতিনিধিত্ব করেছে যা সমগােত্রীয়দের মতােন সে নয়। তার ধারা প্রতিনিধিত্বশীল। সফল ৫টি বছর প্রাইমারী স্কুল প্রতিযােগিতায় ও অধিনায়কত্বে সে অনন্যযােগ্যতা ইতােমধ্যে রটে যায় পাড়ায় পাড়ায় স্কুলে স্কুলে শফিউল আলম (মাসউদ শাফি)’র মেধার সৌকর্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাটাতনে নিজের মতােন খাতায় আঁকাআঁকি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ভাস্কর্য বানানাে কাদামাটির মূর্তি, প্রভাতে স্কুল শুরুর পূর্বে ব্ল্যাকবাের্ডে অন্ত্যমিল রেখে ছড়া ছন্দের উঁকিঝুকি। শ্রেণীকক্ষে এলেই বুঝে নেয় এ কাজ শাফির। শৈশবে যে বহুমুখী প্রতিভার জানান দিয়েছিলাে আগামীর একটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যয়। তবুও ঠাই হয়নি তার বৈমাত্রেয় ভাইদের কোপানলে।

প্রাথমিক পাঠ কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেই একটি দ্বিতীয় জীবন খুঁজে নিয়েছিলাে সে মাধ্যমিকে এসে। দ্বিতীয় জীবনের স্বপ্নগুলাে শংকর বড়ুয়া রুমির হাত ধরে। রুমি ধরিয়ে দিল একটি চিরকুট। আগামী কাল এসাে। কথা বলবাে তােমাদের সাথে। এরপর ছােটদের অর্থনীতি, ছােটদের রাজনীতি, তানিয়া আর কত কী। যষ্ঠ শ্রেণিতেই আপন জেঠামশাইয়ের বাড়িতে তার সন্তানদের সাথে নিজের ভাগাভাগি করে খাওয়া সমবয়সী জেঠাত ভাই বােনদের পাঠপরিকল্পনা, পাঠের কৌশল, ইস্কুলের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বইগুলাের সহায়ক শিক্ষকের ভূমিকায় নিজের কাঁধে নেন। বিনিময়ে একটু আশ্রয়, দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়া নিজের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি পর্ব। এভাবে মাধ্যমিকের পাঁচটি বছর কাঠামােগত শিক্ষার মজবুত ভিত্তি তৈরীর পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যের প্রাথমিক পঠন-পাঠন ও অধিকারভিত্তিক ছাত্র আন্দোলনের মূল স্রোতধারার সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও জাতীয় শিশু কিশাের অভিলাম খেলাঘরের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন দক্ষ সংগঠক, ধীমান পাঠক মেধাবী ছাত্রের যে মৌলিক গুণ তা প্রকাশিত

হয় সােনালী কৈশােরেই। মাসউদ শাফির মাধ্যমিকেই জীবনী গ্রন্থমালা পাঠে অধিক আগ্রহ ছিলাে। সেসব

জীবনীগ্রন্থমালার মধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক মহাত্মা লেখক, সমাজতান্ত্রিক, অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ মাধ্যমিকেই মৌলিক সৃজনশীল পঠন সম্পন্ন করে। এর মধ্যে মহামতি লেনিন, কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, চালর্স ডারউইন, স্টিফেন হকিং, মাদামকুরী, সাহিত্যের শেক্সপিয়র, টলস্তয়, ম্যাক্সিম গাের্কি, এন্থনিও গ্রামসী, স্বদেশে রবীন্দ্র, নজরুল, মাইকেল, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, আবুল ফজল, শহীদ সাবের, রণেশগুপ্ত, সত্যেন সেন, বিনয় মজুমদার, আবুল হাসান, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ২০০৫ সালে আমি জেল থেকে বের হলে তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ইনস্টিটিউটের শহীদ দৌলত ময়দানে কাজের অবসরে ফেব্রুয়ারির উত্তাল দিনগুলােতে ওখানে যায়। শংকরের সাথে দেখা। তার সাথে শ্যামবর্ণের ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দুলানাে তীক্ষ্ণ চোখের এক যুবক ঠাই দাঁড়িয়ে রয়েছে। শংকর আর আমি আমার সােনালী অতীতের কন্টকময় রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি দুজনে। হঠাৎ, শংকর প্রস্তাব করে বসল, দাদা দাহকাল বের হবে আপনার দুইটি কবিতা দিতে হবে। সাথে প্রেসের প্লেইট কেনার ৫০০ টাকা খরচ দিতে হবে। আমি হেসে বললাম ঠিক আছে। অতঃপর শংকর আমার সাথে মাসউদ শাফির আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিলাে, সেই থেকে আমিও মাসউদের ২০০৮ পর্যন্ত যুগল জীবন। সেই দিনেই কৌতুহল উদ্দীপক মাসউদ আমার সাথে কথা বলতে চায়, বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে চায়। তার সেসব প্রশ্নের উত্তর আমার হারিয়ে গেছে একোনকাইয়ের পূর্বে। তারপর আমার বুর্জোয়া রাজনীতির পথচলা। সেই পনেরটি বছর এক দিনের জন্যেও দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা খুলে দেখার ফুরসত ছিলােনা। শুধু খালেদা হাসিনা ও জামাতি কর্মকাণ্ডের খোজ নিয়ে ফাঁকা মাঠে বুলি আওড়ানাে ছাড়া কোন কাজই হয়নি আমার মরচে পড়া মনে ও মস্তিষ্কে কৈশােরের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন ও সাহিত্য চর্চা কি বা মনে আছে আর। তবুও জেল থেকে ফিরে বেকার জীবন ফিরে গ্রেমে পড়া গন্ধের কিছু আবেগী প্রলাপ লিখে রহমান মুফিজের হাতে ধরিয়ে দিই মানিক বৈরাগী। অনুজ রহমান মুফিজ আমারই আবেগী প্রলাপকে কেটে কুটে কবিতা করে দৈনিক কক্সবাজারের সাহিত্য পাতায় ছাপিয়ে দেয়। মাসউদ শাফি কবিতার উইপােকা বলে আমার আবেগী প্রলাপখানিও তার শকুন চোখের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। তার উচ্ছাস ভরা হাসিতে শহরের ছলনার কারণে মাসউদ শাফির জালে আটকে যায় মানিক বৈরাগী। প্রথম সাক্ষাতেই পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠে আমি আর মাসউদ শাফির একটানা রাত ৯টা পর্যন্ত তুমুল আড্ডা দিই। এরই ফাকে শংকর চলে যায় দৈনিক আপনকণ্ঠের খবর বাণিজ্যালয়ে। সে রাতেই আমি তার প্রেমে পড়ে হাঁটতে হাঁটতে বাহারছড়াস্থ সরওয়ার ম্যানশনের আমার বাসায় আমি রান্না করলাম, সে আমার খাতার আবেগী প্রলাপগুলাে কেটেকুটে সম্পাদন করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে নিল। রাতের খাবার শেষে যে যার মতাে বিদায়। বাসায় গতকালে অবশিষ্ট ক্যারুর ভদকা হাতে নিয়ে আপন মনে হাঁটা শুরু করলাম সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। এটা আমার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়। শৈবাল পয়েন্টের কটকটে বসে সমুদ্র পানে চেয়ে আছি। দেখি এক প্রান্তে ঝোলা কাঁধে বাবরি চুলের এক যুবক মন্থরগতিতে হাঁটছে আনমনে। এরই ফাঁকে আমি দুপেগ একা একা সাবাড় করেছি। সে লম্বা চুল ওয়ালাকে মাসউদ মনে করে আনমনে ডাক দিয়েছি, সে ফিরে তাকায় আমার দিকে। সত্যি তাে মাসউদ শাফি। ‘কীটক এসে বসে একরাশ উচ্ছাস হাসি। ‘মানিক ভাই আপনি…! আগামীকাল শুক্রবার কোন কাজ নাই। আজ এই রাত একান্তই আমার। তাই সমুদ্রসঙ্গমে এসেছি। আমি বললাম, তুমি কেন? সে জানাল, আমার পূর্ব অ্যামিবা সমুদ্রে সৃষ্টি, এভাবে আবারাে দুজনের রাত্রিবাস। আমার ভদকার অবশিষ্ট দুটি পেগ সে গােগ্রাসে গিলে নিল যদিও আমার সম্মতিতে। তার ঝুলা থেকে আমাকে দুটি এলাচি দানা দিলাে, তার মুখেও এলাচি দানার সুরভি।

আমি সমুদ্রত্ব, সমুদ্র আমি আত্মা অথবা আমি ও সমুদ্র সমত্মা আমার ভেতরে সমুদ্র, সমুদ্রের ভেতর আমি সমুদ্র ও আমি মহাকালের জমজ সমকামী।

সেই রাতেই তার সাথে অনেক চিন্তা ও ভাবনার মূলকেন্দ্র ছিল সমুদ্র। তার কথার সূত্র ধরে প্রশ্ন করেছিলাম, অ্যামিবা থেকে প্রাণের উদ্ভব বিকাশ, এই বিবর্তনের ধাপগুলাে নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। এভাবেই নিশি পার। ভােরে একসাথে নবান্ন রেন্তোরায় সকালের নাস্তা সেরে যে যার গন্তব্যে। একরাতেই মাসউদকে আমি তার জীবনের সাধারণ নারী পুরুষ থেকে ভিন্ন ধরণের একটি তৃতীয় জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তার স্রোতের প্রবাহমানতা। ইতােমধ্যে সে এইচএসসি সম্পন্ন করেছে। এইচএসসি’র ২ বছর সমকালে তার রাজনৈতিক সাহিত্যের দর্শন, বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপট বিশ্ব বীক্ষণের যে মৌলিক পঠন পাঠন লিখন কৌশল নিজ আয়ত্তে নিয়ে আসে। এরপরের বৃহস্পতিবার আবারাে পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠে দুজনের সাক্ষাৎ। সাক্ষাতেই তার এক ঝাঁপি প্রশ্ন আমি তার কাছে হার মানলাম। আমার প্রশ্নের উত্তরে সে আমাদের কক্সবাজারের আরেক কৃতিপুরুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবের এর চিন্তা ও যাপিত জীবন অনর্গল মুখস্থ বলা শুরু করলাে। অনেক দিন পর পাবলিক লাইব্রেরীর দাবা কক্ষে ছাত্র ইউনিয়নের রুমে আমার প্রশ্নের উত্তরে তার পরিবার, কক্সবাজারে থাকা এসবই সে জানিয়েছিল। শহীদ সাবের যেমন বৈমাত্রেয় মা ভাইদের সাথে মতান্তর আত্মিকগত বৈপরীত্য ছিল ঠিক তেমনি আমার ক্ষেত্রেও বৈমাত্রেয় অগ্রজ ভাইদের মতান্তর। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সাথে জায়গা জমি সংক্রান্ত ভােগ দখলের পীড়ন থেকে আমি দূরে থাকতে চাই। সে আবেগী কষ্ঠে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে আবুল হাসানের কবিতা কেমন লাগে বলে উল্টো প্রশ্ন করে আমাকে। তারপর ওখানে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা চলে আসলে আমরা পালের় দোকানে চলি আসি। সান্ধ্যকালের নাস্তা সারি। পালের দোকানেই ভীড় ও শখ কোলাহলে নিরিবিলি একটি জায়গা খুঁজে বের করতে বললে আবারও তাকে আমি অফিসে নিয়ে আসি। ওখানেই আমাদের অন্তত দু থেকে তিনঘণ্টা বাংলাদেশের রাজনীতি, বিশ্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা, সােভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পতন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, চলমান প্রেক্ষাপট, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলােচনা চলে। আমি ক্রমাগত তার জ্ঞান বীক্ষার জালে আবদ্ধ হচ্ছি। যেকোন বিষয়ের তার বিশ্লেষণী ক্ষমতা খুবই চমৎকার। আমি আপ্লুত হতাম। বলা যায় কবিতার ক্ষেত্রে আমার ওস্তাদণ্ড ! মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক সময় আমি আওয়ামী লীগ সে কমিউনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার সাথে তুমুল তর্ক-ঝগড়া হয়। সে আমাকে বােঝাতে চায় বাংলাদেশের যে রক্তক্ষয়ী নয় মাসের স্বাধীনতার যুদ্ধ।
স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক গােষ্ঠী তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। একারণে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য একেকভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধের রণকৌশল, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দর্শন পর্যালােচনা করে দেখেছি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউনিফাইড রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ গণমানুষের মননে রাজনৈতিক দর্শন একধরণের (বুর্জোয়া) প্রতিস্থাপন করেছে অন্যদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাম সংগঠনগুলাে তাদের রাজনৈতিক দর্শন রণকৌশল গণমানুষের কাছে পৌছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তদুপরি আন্তর্জাতিক যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দর্বিশ্বের একটি অংশ ভারত এবং সােভিয়েত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সিপিবি ন্যাপ (মােজাফফর) কে দিয়ে তাদের মতাে করে একটি যুদ্ধকৌশল ও রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল আবার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পাকিস্তান পক্ষ অবলম্বন করে চীনকে দিয়ে পূর্ববঙ্গে মাওবাদী কমিউনিস্ট গ্রুপকে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, আবার একটি ক্ষুদ্র অংশ পাকিস্তানের পক্ষালম্বন সব কিছু মিলিয়ে একটি গোঁজামিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, ৭ মার্চের যে ঘোষণা, এই প্রক্রিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সােভিয়েত স্টাইলে সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার জায়গায় তার দল আওয়ামী লীগ কেন্দ্র ও তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মনস্তাত্বিকভাবে প্রস্তুত নয়। এসব বিষয়গুলাে শফিউল আলম মাসউদ খুবই সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করতাে। চিন্তা করতাে বলেই তার লেখায় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের আকাক্ষা করেন-কবির ভাষায় অসম

রক্তারক্তি শেষে গৌরবের ৪০ বৎসরের

মাথায় পেীছেও পেয়েছে কী শতকরা ৪০জন তালি ৪০ ইঞ্চি পরিমান প্রশান্তি কিংবা স্বাধীনতার নিরেট স্বাদ?

হে রাষ্ট্র ও রাজনীতিক তথা চালক ধিক, তােমাদের ধিক!

মানিনা ওই মুখােশধারী রাজনীতি, দলনীতি, সরকাৱনীতি কিংবা নগ্ন রাষ্ট্রনীতি।

এ নীতি ভাঙতে চাই, ভাঙতে চাই এবং শেষতক, চাই আরেকটি ‘৭১ তারপর হােক-কবিতা লেখা

এ ছিল তার মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতি বিষয়ক ভাবনা। প্রথাগত মানুষ ভােগবাদী সমাজব্যবস্থা সুনির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় চেতনার প্রতি নিম্নধরণের করুণা ছিল মাসউদের। চিরায়ত ভাবে মানুষ ভােগের নিমিত্তে দখল বেদখল হঠকারিতা চাতুর্য শুধুই বেঁচে থাকার জন্য নিজের অস্তিত্ব বিকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক দর্শন মনের স্বাধীনতার বন্ধক রেখে কটাকার জন্য অন্যের দ্বারস্থ হয়ে চাকরি করা তার রুচিতে বাঁধে। মাসউদ মানুষের = ভেতরে যে কুকুরটা বাস করতে তা আবিষ্কারের নেশায় মানুষের কাছে কুকুর হয়ে বসে

থাকতাে (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)। মানুষ মাসউদ শাফি একজন হুড়ান্তভাবে চিন্তা চেতনায় মননে মগজে কর্মে স্বাধীন। সে মানুষগুলােকে মানুষ হিসেবে যেভাবে চিন্তা করতে সেই ভাৰনা অঞ্চলে তার একটি
কবিতা দিয়ে প্রথম কিস্তি শেষ করতে চাই

“শহরে সাধারণত মানুষ থাকে না। আমাদের চৌখিক দৃশ্যমান মনুষ্যবিরূপ মানুষের কথা বলছি না; তৃতীয় চোখে দৃশ্যত মানুষের কথা-ই বলছিলাম।

অমােঘ প্রলেতারিয়েত নিঃসঙ্গ প্রাণজ-কাঠামাে দেখেই যে লােক একে দেয়- তার ভেতরে মর্মার্তনাদের বিদগ্ধ কণ্ঠস্বর, অসময়ে মুমূর্যের মুখে যে দেয় তুলে জল আর শিখায় মাটির সত্যতা সূত্র মােতাবেক আঁকড়ে ধরার মগ্ন বন্দনা, সে লােক-দিগন্ত সৈকত।

আর, সে-ই মানুষ। এবং বাস্তবতাগ্রাসী সময়ের মৌল-মঙ্গল স্থায়ী বাসিন্দা; কেবল শহর নয়, চির বহমান মহাকালেরও।

যাপিত যন্ত্রণা কবজ করে নিমিষেই তুলতে জানে যে প্রাণ সুর ও সুরের ছন্দ কিংবা সুরানন্দ। এখানে, মানুষ ও কবির বৈসাদৃশ্য দেখি না। তাহলে, মানুষটি নয় কী কবি?

শুভেচ্ছা নিরন্তর নিরবধি, হে মােহময় মানুষ ও কবি। (মানুষ ও কবি)”।

নোট- তৃতীয় চোখ মাসউদ শাফি সংখ্যায় লেখা টি প্রকাশিত হয়েছিল ।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com