1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

টেকনাফের ওসি তদন্ত এবিএম দোহা’র নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেট

  • Update Time : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৬৬ Time View

ডিবিডিনিউজ : কক্সবাজারের সীমান্ত শহর টেকনাফে লামার বাজার এলাকার আলোচিত ইয়াবা কারবারি ইয়াছিন আরাফাত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হওয়ার পর পুলিশের দায়ের করা মামলা নিয়েও বাণিজ্য করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, অস্বাভাবিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই মামলার চার্জশিট থেকে চারজন আলোচিত ইয়াবা কারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলোর দাবি, টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম দোহা ও পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে একটি পুলিশী সিন্ডিকেট পুরো মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করেছেন।

এখন অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ থানার সদ্য বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের বিদায়ের পর ওই চক্রটিই এখন টেকনাফ থানার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার প্রশ্রয় পেয়ে এই চক্রটি টেকনাফ থানায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে প্রকাশ্য দু’টি গ্রুপের সৃষ্টি করে ফেলেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পক্ষের দাবি, এই মুহুর্তে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আমলে দায়িত্ব পালনকারি সবাইকেই বদলি করে নতুন নিয়োগ দিতে হবে। তা নাহ লে এই থানার কার্যক্রমে বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

থানা সুত্র জানিয়েছে, টেকনাফের লামার বাজার এলাকার ইয়াবা কারবারি ইয়াছিন আরাফাতকে ধরা হয় ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ। পরদিন ১৯ মার্চ ওই ইয়াবা কারবারি পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ ২২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। ওই মামলার বাদী ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল হাসান। আর পুরো মামলাটি দেখভাল করেছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম দোহা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রের অভিযোগ, এই মামলা থেকে চারজন আলোচিত ইয়াবা কারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়িকে বাদ দিয়ে ১৮ জনের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

সুত্র মতে, ‘অস্বাভাবিক’ অংকের টাকার বিনিময়ে টেকনাফের কুলালপাড়ার কাদেরের ছেলে সাইফুল (২৪), টেকনাফের শীলবুনিয়া পাড়ার সোলেমানের ছেলে শফিক (৪১), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার মোঃ ওসমান (৪০) ও বার্মাইয়া সৈয়দ করিমকে (৫৫) মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চার্জশিটে নাম বাদ দেয়া চারজনের মধ্যে মোঃ ওসমান শীর্ষ হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং অন্য তিনজন তালিকাভূক্ত আলোচিত ইয়াবা কারবারি।

থানা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রের অভিযোগ, টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম দোহা ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ওই মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাময়িক বহিস্কার হওয়ার পর থানার বর্তমান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম দোহা, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল হাসান, উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল, উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বিরের নেতৃত্বে একটি পুলিশী সিন্ডিকেট টেকনাফ থানার কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন।

তাদের এই সিন্ডিকেটে আরও রয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান, সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিম উদ্দিন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ ও কনস্টেবল রুমান দাশ। এদের মধ্যে এসআই সাব্বির নিজেকে গোপালগঞ্জের পরিচয় দিয়ে কর্তৃত্ব করার চেষ্টা করছেন। আর কনস্টেবল আবদুল্লাহ হলেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম দোহা’র পোষ্যপুত্রের মতো। তার যখন যা ইচ্ছা তাই করেন! ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করা মোটরসাইকেলের যেটি ইচ্ছা সেটিই ব্যবহার করেন।

অভিযোগ মতে, এই পুলিশী সিন্ডিকেটটি টেকনাফ থানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দৃশ্যত দু’টি ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছেন। এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপর কর্তৃত্ব করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা দাবি তুলছে, এভাবে চললে টেকনাফ থানায় পুলিশী কার্যক্রমে বিশৃংখলা তৈরি হতে পারে। থানায় শৃংখলা ফেরাতে হলে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আমলে কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন নিয়োগ দিতে হবে।- সিএসবি২৪

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com