1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

চাঁদপুরে ৩ শিশু মৃত্যুর রহস্য কি?

  • Update Time : শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩০ Time View

ডিবিডিনিউজ ডেস্ক :

চাঁদপুরের মতলবে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজের সন্তানসহ মসজিদের ইমামের কক্ষে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এখন সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে, বিষাক্ত কী ছিল ইমামের কক্ষে?

এলাকার অনেকেই বলছেন, পানি মনে করে এসিড পান করেই তিন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মাহাবুর রহমান বলেন, ‘মৃত ওই তিন শিশু-কিশোরের মুখ থেকে শুধু ফেনা বের হচ্ছিল। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না।’

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও কক্ষটি পর্যবেক্ষণ করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল করিম পিপিএম বলেন, এখনো কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হতে পারে। তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পোস্টমর্টেমের পরে কারণ জানা যেতে পারে। যেহেতু ভেতর থেকে দরজা আটকানো ছিল, তাই কাউকে দোষারোপ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, রুমের ভেতরে গ্যাসজাতীয় বিষাক্ত কিছুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এ বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে।

উল্লেখ্য, মতলব পৌরসভার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে শুক্রবার (৩০ আগস্ট)  জুমার নামাজের পর আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫), রিফাত হোসেন (১২) ও ইব্রাহিম খলিল (১৫) নামের তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে ওই মসজিদের ইমাম তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে রেখে নামাজ পড়াতে যান। ওই শিশুসন্তানের সাথে আরো ২ জন শিশু-কিশোর প্রবেশ করে ইমামের রুমে। নামাজ শেষে ইমাম নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় মুসল্লি শাহীন সরকার, সাইফুল, সুমন মোস্তফাসহ একাধিক ব্যক্তি দরজা ভেঙে ইমাম ও মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং দেখতে পান ৩ শিশু-কিশোর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এদের দুজন ঘটনাস্থলে মারা গেছে। একজনকে মতলব হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জুমার নামাজের আগে বেলা পৌনে ১টার সময় আমি বয়ান ও খুতবার জন্য মিম্বরের দিকে যাই। নামাজ পড়ানো শেষে মসজিদে মিলাদ পড়িয়ে নিজের রুমে ফিরে আসি। ওই সময় আমার রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে অনেক ধাক্কাধাক্কি করি। পরে মুসল্লিদের সহায়তায় দরজা ভেঙে দেখি আমার ছেলেসহ অপর দুই শিশু-কিশোর অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুই মাস পূর্বে মসজিদের ইমাম হিসেবে মাওলানা জামাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সেই থেকে তার শিশুসন্তান আব্দুল্লাহ আল নোমানকে নিয়ে তিনি ওই কক্ষে বসবাস করতেন। পরে এক মাস আগে মসজিদ-সংলগ্ন মুক্তা ভিলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার কালাই মুদাফাত গ্রামে। এর আগে তিনি চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোড জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।

এদিকে মৃত ইব্রাহিম ও রিফাত মতলব পৌরসভার ভাঙ্গাপাড় মাদরাসার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। রিফাতের বাবা মতলব পৌরসভার নলুয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন ও ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি দশপাড়ায়। তার বাবার নাম আফসার উদ্দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com