1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

ক্যাম্পাস বিনা চ্যালেঞ্জে কারো হাতে ছেড়ে দেব না : লিটন নন্দী

  • Update Time : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৩৯ Time View

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছাত্রনেতা লিটন নন্দীর সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন ১। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

লিটন নন্দী: দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের  প্লাটফর্ম- ডাকসুর কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং তার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে এবং মেধা অস্ত্রের কাছে ভীষণ ভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, ডাকসু নির্বাচন যে আবার হতে যাচ্ছে, সেটি আমাদের মাঝে মেধাভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাবে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল ধারণার অপমৃত্যু ঘটেছে সেই সকল ধারণা পুনর্জন্ম লাভ করবে। আমরা এ বছরের ডাকসু নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটি নির্বাচন হিসেবে দেখছি না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ধারণাগত ও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছি।

প্রশ্ন ২।  প্রশাসনের যে ডাকসু কেন্দ্রিক আয়োজন তাতে কি আপনারা সন্তুষ্ট?

লিটন নন্দী: প্রথমত, প্রশাসন দীর্ঘ একটা সময় পরে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি নিশ্চয়ই প্রশংসিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচনটাকে আয়োজন করতে চাচ্ছে, সেই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে অনেক সংশয় আর উৎকন্ঠার জন্ম দেয়। ইতিমধ্যে তারা ছাত্রদের এবং অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভোটকেন্দ্রগুলো হলে স্থাপন করেছে, যে হলগুলোতে মূলত প্রশাসনের কার্যকর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা ক্লাসরুম ক্যাম্পেইনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার মধ্য দিয়ে হলের বাইরে যে সকল শিক্ষার্থী অবস্থান করছে তাদের কাছে যেন আমরা পৌঁছাতে না পারি আমাদের বক্তব্য নিয়ে, আমাদের প্যানেল নিয়ে, সেই আয়োজনই তারা করেছে। ডাকসুর নির্বাহী কমিটির সঙ্গে সভাপতি বা ভাইস চ্যান্সেলরের যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, সেখানে ভারসাম্য আনার কথা আমরা বলেছিলাম, কিন্তু সেটিও তারা করেনি। সর্বোপরি তারা এমন একটি আয়োজন করেছে, যে আয়োজনটি মোটামুটি ভাবে বলা যায় একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতাবার জন্যই তারা করেছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনকে জেতাবার জন্য যে যে আয়োজন করা প্রয়োজন, প্রশাসন একাট্টা হয়ে সে আয়োজনই করেছে এবং করছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর জবাব দেবে । কারণ সিগমুন্ড ফ্রয়েড একটা কথা বলেছিলেন, “মানুষের কিছু আচরণ আছে যেগুলো পরিবর্তনের অতীত, তার মধ্যে একটি আচরণ হচ্ছে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে না বলার প্রবণতা।”

তো যখন তারা এরকম আয়োজন করতে যায়, আমরা মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্তৃত্ব এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব, এই দুই কর্তৃত্বের  বিরুদ্ধেই আগামী  মার্চ না বলবে । তারা প্রশাসনকে দেখিয়ে দেবে যে সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করেও ছাত্ররা তাদের দাবি আদায় করে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে সক্ষম।

প্রশ্ন ৩। জোট করা নিয়ে আপনারা কি ভাবছেন?

লিটন নন্দী: জোট করা নিয়ে আমরা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ইতিমধ্যেই দাবি করেছি যে, আমরা চাই প্রগতিশীল, উদারনৈতিক ও গণতন্ত্রমনা সকল ব্যক্তি এবং সংগঠনকে নিয়েই একটি বৃহত্তর ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে। ইতিমধ্যেি আমরা বিভিন্ন আদিবাসী ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মঞ্চের পাশাপাশি যে সকল ইন্ডিভিজুয়াল বা ব্যক্তি রয়েছেন তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা সাড়া দিচ্ছেন এবং অনেকেই আমাদের সঙ্গে আসছেন। ইতিমধ্যেই আমরা প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য, লড়াই-সংগ্রামের দুটি অন্যতম জোট, সেই দুটি জোটে আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছি নির্বাচন এবং আন্দোলনের ব্যাপারে। এর পাশাপাশি স্বতন্ত্র জোট সহ সকলকে নিয়েই আমরা চেষ্টা করছি ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। যারা মনে করে গেস্টরুম-গণরুম নির্যাতন বন্ধ করা উচিত এবং একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক, জাতিভিত্তিক এবং লৈঙ্গিক বৈষম্য থাকা উচিত না, এই সকল ব্যক্তি এবং সংগঠনকে নিয়ে আমরা একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা আমাদের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি এবং আমরা হয়তো দুই-একদিনের মধ্যেই সামগ্রিক প্যানেল রূপে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হব।

প্রশ্ন ৪। ক্যাম্পাসের কোন সমস্যা গুলোকে প্রধান মনে করছেন এবং প্রতিকার কিভাবে করবেন যদি শিক্ষার্থীরা আপনাদের সমর্থন দেয়?

লিটন নন্দী: প্রথমত, আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি, এই ক্যাম্পাসে ডাকসুর অনুপস্থিতিতে এক ধরনের প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র জন্ম নিয়েছে। আমরা মনে করি ক্যাম্পাসে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এখানে মুক্ত মত প্রকাশের সুযোগ নেই। সেখানে শিক্ষার্থীদের মতের বিপরীতে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার রাজনীতি করতে বাধ্য করা হয় এবং এখানে এক ধরনের মনুষত্বহীন রাজনীতির চর্চা করা হয় গণরুমকে কেন্দ্র করে গেস্টরুম নামক এক নির্যাতন কারখানার মধ্য দিয়ে। এটির অবসান করা দরকার।

দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র গড়ে উঠেছে সেখানে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যকার সম্পর্ক বন্ধুত্বসুলভ শ্রদ্ধাবোধের সম্পর্কের জায়গা থেকে সরে গিয়ে এক ধরনের দাস ও প্রভুর সম্পর্কে চলে এসেছে, এটির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। কলেজিয়েট, নন-কলেজিয়েট,ডিসকলেজিয়েট প্রথার উচ্ছেদ প্রয়োজন এবং পরিবর্তে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কারণ, আমরা মনে করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বসুলভ এবং এখানে উভয়পক্ষের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সহায়ক পরিবেশ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জাতির একটি সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে কখনো শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে নন-কলেজিয়েট আর ডিসকলেজিয়েটের মত ভয় দেখানোর প্রথা থাকতে পারে না। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন জ্ঞান চর্চার প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে নামে-বেনামে ডিপার্টমেন্টের ফি বৃদ্ধি করা হয়, এখানে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স এবং মাস্টার্সের নামে সার্টিফিকেট বিক্রি করা হয়। আমরা মনে করি একটি বিশ্ববিদ্যালয় একবেলা পাবলিক আর একবেলা ব্যবসায়িক বা প্রাইভেট উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে না, এটিই আমি বলতে চাই। একই সঙ্গে এটাও বলতে চাই যে  এই বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যকে প্রমোট করছে। যেমন, যার টাকা আছে সে বিজনেস ফ্যাকাল্টির ফুড কোর্টে গিয়ে দামী খাবার খাচ্ছে, অথচ যার টাকা নেই সে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া কিংবা টিএসসির মতো জায়গায় গিয়ে ২০ টাকার সস্তা খাবার খাচ্ছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্য তৈরির কারখানা হতে পারে না, বরং একটা প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় মানুষের মধ্যে এমন একটি শিক্ষা প্রদান করে যা মানুষকে সমমনা করে। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতির সন্তান যে খাবার গ্রহণ করবে, একজন কৃষকের সন্তানও সেই খাবার গ্রহণ করবে। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই যেখানে একজন শ্রমিকের সন্তান যেভাবে জীবনযাপন করবে, রাষ্ট্রের একজন সর্বোচ্চ আমলার সন্তানও সেই একই জীবনযাপন করবে বা একই আবাসিক হল ব্যবস্থায় থাকবে। আসলে আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই যেখানে সকল মত ও পথকে ধারণ করা হবে, কোন মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন শিক্ষার্থীর কন্ঠকে রুদ্ধ করা হবে না।

আমরা বিশ্বাস করি একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত সমাজের কোন এক্সটেনশন না। একটা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন একটি প্রগতিশীল সমাজের ভ্রুন তৈরি করে যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয় এবং পুরো সমাজে ছড়িয়ে যায়। আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই উদ্দেশ্যেি ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই এর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থী-অধিকারের জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই গুরুত্ব অনেক খানি মলিন হয়েছে ডাকসুর অনুপস্থিতিতে, সেই গৌরবের ধারা আবার ফিরে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমরা নিশ্চয়ই চাই ডাকসু শিক্ষার্থী অধিকার নিয়ে কথা বলবে, ছাত্রদের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে কথা বলবে, কিন্তু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক চর্চা কখনো সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্র বিবর্জিত নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর যেমন হলের ডাল পাতলা কেন, বাসের সিট সংকট কেন এটা নিয়ে কথা বলতে হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় যাদের অর্থে পরিচালিত হয় সেই কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুরের সমস্যার কথাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বলতে হবে। আমরা চাই না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের দেশের জনসাধারণের এক ধরনের বিচ্ছেদ বা বিচ্ছিন্নভাব গড়ে তোলা হোক। এ বিশ্ববিদ্যালয় অতীতেও জনসমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেছে, আগামীতেও করবে। এমন একটা সম্পর্ক গড়ে উঠুক – এই আশা ব্যক্ত করি।

প্রশ্ন ৫। প্রচারণায় সাড়া কিরকম পাচ্ছেন?

লিটন নন্দী: প্রচারণার জন্য যখন আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে যাচ্ছি, আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি শতকরা ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোটকেন্দ্র হলগুলোতে চায় না, কারণ হলগুলো ক্ষমতাসীনদের দুর্গে পরিণত হয়েছে।  তারা ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে চায় – এটার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয় যে তারা গেস্ট রুম নির্যাতনকে না বলছে, গণরুমের অত্যাচারকে না বলছে, ছাত্রলীগের আধিপত্যকে না বলছে। একই সঙ্গে, তারা চায় একটি গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়, একটি প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, একটি  বৈষম্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় – আমরা যে দাবিগুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই বলেছি। ছাত্ররা আমাদের বক্তব্যকে গ্রহণ করছে এবং আমরা প্রত্যাশা করি ছাত্ররা যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তারা পশুত্বকে নয় – মনুষ্যত্বকে জয়যুক্ত করবে এবং রড, হাতুড়ি ও হেলমেটের জবাব ব্যালটে দেবে।

আরো একটি কথা শেষে বলতে চাই, প্রশাসন যতই নীল নকশা করুক, যেভাবেই নির্বাচনের দিকে যাক, শুধু মনে রাখবেন ভয় পেলে চলবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে, এই ডাকসুকে আমরা আমাদের করবোই।

আমরা ছাপ্পান্ন হাজার মাইলের গণতন্ত্রের অধিকার পেয়েছি নাকি হারিয়েছি সেটি আমাদের কাছে চরমতম প্রশ্ন, তবে এই দুশো ছাপ্পান্ন একর আয়তনের ক্যাম্পাস আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেব না, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com