1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কোর্টবাজারকে পৌরসভা করা হোক

  • Update Time : শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৪৪ Time View

।।হাশেম সৈকত।।

দক্ষিণ কক্সবাজারের সবচেয়ে জনবহুল শহর কোর্টবাজার। উখিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়ন তথা জালিয়া পালং, রত্নাপালং, হলদিয়া পালং ও রাজাপালং এর সংযোগস্থল কোর্টবাজার।

কোর্টবাজারের বুক চিরে চলে গেছে শহীদ জাফর আলম (কক্সবাজার -টেকনাফ) সড়ক। এই সড়কটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। কোর্টবাজার চৌমুহনী হতে পশ্চিম দিকে চলে গেছে সৈকত সড়ক (সোনারপাড়া সড়ক)। এই সড়কটি শহীদ জাফর আলম সড়ক, সোনার পাড়া, পর্যটন জোন ইনানী ও পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভের একমাত্র কানেক্টিং রোড। চৌমুহনী হতে পূর্বদিকের রোডটি বৃহত্তর ভালুকিয়াসহ বান্দরবান পার্বত্য জেলার ঘুনধুম- নাইক্ষংছড়ি সড়কের কানেক্টিং রোড। অবস্থানগত কারণে কোর্টবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কোর্টবাজার দক্ষিণ কক্সবাজারের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে। কোর্টবাজারের বৃহৎ মার্কেটের মধ্যে আছে চৌধুরী মার্কেট, ফজলুল হক প্লাজা, এন আলম শপিং কমপ্লেক্স, পালং শপিং কমপ্লেক্স, চৌধুরী টাওয়ার ও আরব সিটি সেন্টারসহ অসংখ্য বিপণি বিতান। এমন বিপণি বিতান জেলা শহরেও কম চোখে পড়ে। উখিয়া, রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি র মানুষ কেনাকাটা করার জন্য কোর্টবাজার ছুটে আসে।বারমাস চলে ঈদের মতো কেনাকাটা। সন্ধ্যায় গাড়ি ও মানুষের ভিড়ে পা ফেলার মতো তিল পরিমাণ জায়গা থাকেনা।

বিশাল কোর্টবাজারে কোন কতৃপক্ষ বা অথরিটি না থাকায় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। পরিকল্পিত সড়ক না থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, রাস্তার উপর দোকানপাট, নাই কোন সুয়্যারেজ ব্যবস্থা, ভাঙ্গা রাস্তা, রাস্তায় ময়লা আবর্জনা। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং।এর ফলে কোর্টবাজারে লেগে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। অথচ এই সড়ক দিয়ে টেকনাফ ও ইনানীতে শতশত পর্যটকসহ, পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্প কুতুপালং ও অন্যান্য ক্যাম্পে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ, দেশি বিদেশি চাকরিজীবী বহনকারী হাজার হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। সবকিছু মিলিয়ে যথাযথ দেখভালের অভাবে কোর্টবাজার একটি ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই পরিকল্পিত নগরায়ন, সুয়্যারেজ ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসনসহ একটি সুন্দর শহর গড়তে কোর্টবাজার কে পৌরসভা করা সময়ের সবচে গুরুত্বপূর্ণ দাবী।

রত্নাপালং ইউনিয়ন হতে ৭,৮,৯, ওয়ার্ড ও ১ নং ওয়ার্ডের আংশিক, হলদিয়া পালং ইউনিয়ন হতে ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ড এবং রাজাপালং ইউনিয়ন হতে ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর পুকুরিয়া নিয়ে কোর্টবাজার পৌরসভা গঠন করা যায়। পৌরসভার সীমানা হবে – ০২ কিমি উত্তরে ধুরুংখালী খাল- ০২ কিমি দক্ষিণে হিজলিয়া খাল- ১.৫ কিমি পশ্চিমে রেজুখাল- ০২ কিমি পূর্বে রুহুল্লারডেবা, বায়তুশ শরফ রোডের উত্তর দক্ষিণ সীমা। প্রস্তাবিত এলাকার জনসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের চেয়ে বেশি। মোট ভূমির ৮০ শতাংশের বেশি অকৃষি।

প্রস্তাবিত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি কেজি স্কুল, দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, একটি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রস্তাবিত কলেজ। একটি দাখিল বালিকা মাদরাসা, একটি আলিম মাদরাসা। তিনটি হাসপাতাল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে তিনটি ব্যাংক, অসংখ্য বীমা প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক এনজিও ও ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। রয়েছে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও একটি ফিলিং স্টেশন।

ভৌগোলিক অবস্থান ও বাণিজ্যিক কারণে দক্ষিণ কক্সবাজারের কোর্টবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পৌরসভার অভাবে কোর্টবাজার সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি। অথচ পৌরসভা হওয়ার জন্য যে যোগ্যতা/কাঠামো দরকার, তা কোর্টবাজার শহরে রয়েছে। কোর্টবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হলে একটি সুন্দর ও নিরাপদ শহর তৈরী হবে, ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই এলাকার গণমানুষের দাবী কোর্টবাজার কে পৌরসভা করা হোক।

লেখক: প্রভাষক, বাংলা, থানচি কলেজ।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com