1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কলেজ ছাত্র ইমুর আলিশান জীবন-যাপন নেপথ্যে অবৈধ বাইক ব্যবসা

  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩০০ Time View

ডিবিডি রিপোর্ট : যার নুন আনতে পান্তা ফুরাত সেই ছেলে প্রতিদিনই নতুন বাইক হাত বদল করে। টেকনাফ টু কক্সবাজার আবার কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম হয়ে বিভিন্ন জায়গায় দামি বাইক গুলো হাত বদল হয় তার হাত ধরে। নাম তার ফরহাদ খান ইমু। গত দুই বছরে হাজারের অধিক বাইক হাত বদল করে বিক্রি করেছেন সে।

এসব বাইকের অধিকাংশই অবৈধ (টানা)। বলতে গেলেই তিনি অবৈধ (টানা) বাইকের জমজমাট একজন ব্যবসায়ী। অল্প বয়সে তার আলিশান জীবন-যাপন। নিত্যনতুন বাইক ব্যবহারে অবাক অনেকেই। তাছাড়া টানা বাইকের ব্যবসার মাঝখানে ইয়াবা ট্যাবলেটের ছোঁয়াও লেগেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে ফরহাদ খান ইমু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

এক সময় তার বড় ভাই ফয়সাল হিরুও ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিল। ইমুর পরিবার ফেন্সিডিল ব্যবসাতেও জড়িত বলেও অনেকের অভিযোগ।

ফরহাদ খান ইমু (২৫) উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা হলদিয়াপালং পাতাবাড়ি গ্রামের শাকের আলীর ছেলে। বর্তমানে রামু সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ইমু। কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ে টানা বাইক ব্যবসায়। কক্সবাজার জেলায় অবৈধ বাইক ব্যবসায়ী হিসেবে একনামে পরিচিত ইমু।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমুর রয়েছে টানা (অবৈধ) বাইকের একটি বড় সিন্ডিকেট। সেখানে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলও জড়িত বলে জানা গেছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সময়ে টেকনাফ থানায় জব্দ হওয়া বেশির ভাগ টানা দামি বাইক গুলো অল্প দামে কিনে নিতো ইমু। কনস্টেবল মুন্নার মাধ্যমে বাইক গুলো কিনে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামে বেশি দামে বিক্রি করত সে। তবে কক্সবাজার থেকে ইমুর মাধ্যমে চট্টগ্রামে বাইক গুলো কিনে নিত হেলাল নামের আরেক কনস্টেবল।

কনস্টেবল হেলাল ইমুর বাল্যকালের বন্ধু। হেলাল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় কর্মরত রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারে আসলেই ইমুর কাছ থেকে টানা বাইক কিনে চট্টগ্রামে নিয়ে যেত হেলাল।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ইয়ামাহার এফজেড-এস ও ফ্রেজার মডেলের বাইক বেশি বিক্রি করে ইমু। এফজেডএস এফ১ ভার্সন২ (এসই), এসজেডআরআর ভার্সন২ (এসই), সেল্যুটো ড্রাম, সেল্যুটো ডিস্ক এবং সেল্যুটো ডিস্ক (এসই)। এসব মডেলের টানা বাইকের ব্যবসা করে বিপুল টাকা আয় করে ইমু। প্রতিদিন সে টানা গাড়ি হাত বদল করে। বেশির ভাগ গাড়ি কিনত টেকনাফ থানা থেকে। প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় তার। টানা গাড়ির ব্যবসার আড়ালে তার নিজ এলাকা উখিয়ায় প্রথমে মরিচ্যা পরে পাতাবাড়িতে একটি গাড়ির গ্যারেজ গড়ে তুলে। যে গ্যারেজে চোরাই বাইক ও টানা বাইক গুলোর সরঞ্জাম পাল্টানো হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ইমুর বড় ভাই ফয়সাল হিরু (২৯) চার বছর আগে ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি হিরুও টানা বাইকের ব্যবসা করে। কিন্তু সে নিজেকে পরিচয় দেয় একজন এনজিও কর্মী হিসেবে। বর্তমানে তার কাছেও টানা বাইক রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুই ভাই টানা বাইকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে একটি টিআরএক্স (নোহা) ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া ইমুর স্ত্রীর বড় ভাই মাইনুল হাসানও (টানা) বাইক ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ আছে। ইমু বিয়ে করেন কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে। বেশির ভাগ সময় সে বাহারছড়া এলাকায় থাকে। এই সুবাদে মাইনুল হাসানসহ গড়ে তুলে টানা বাইকের জমজমাট সিন্ডিকেট। টানা বাইক ব্যবসার পাশাপাশি ইয়াবা বানিজ্য করত মাইনুল। ইতিপুর্বে একটি ইয়াবা ট্যাবলেটের ঘটনায় মাইনুল হাসান আটক হয়ে কারাগারেও গিয়েছিল।

এছাড়া কক্সবাজারের কলাতলী আদর্শ গ্রাম এলাকায় ইমুদের ঘরসহ জমিও রয়েছে। সেখানেও নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগে ওই ঘরের কেয়ারটেকার জনৈক রাশেদকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল পুলিশ।

ইমু দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে কক্সবাজার শহরে টানা বাইকের ব্যবসা করে আসলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতিদিন তার নিত্যনতুন দামি বাইক ব্যবহারের বিষয়টি নজরেও এনেছিল সদ্য বিদায়ী কক্সবাজারের পুলিশ প্রশাসন।

কক্সবাজার থেকে সদ্য বদলি হওয়া এক ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, শহরে কয়েকজন অবৈধ দামি বাইক বিক্রেতার মধ্যে ফরহাদ খান ইমু অন্যতম। একজন কলেজ ছাত্রের প্রতিদিন দামি বাইক ব্যবহার ও হাত বদলের বিষয়টি বৈধ আয়ে কোনদিনও সম্ভব নয়।

বাইক ক্রয়-বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করে ফরহাদ খান ইমু বলেন, অবৈধ গাড়ি আমি বিক্রি করি না। আমার শত্রুরা আমার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি পড়াশুনার পাশাপাশি গাড়ীর মেরামতের দোকান করি। পুলিশ কনস্টেবলরা আমার পরিচিত। অনেক আগে আমার ভাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি সঠিক। আমার জন্য আগেও নিউজ হয়েছে। আপনি নিউজ করবেন না, করলে আমি আপনার বিরুদ্ধে মামলা করব।

ইমুর সাথে কথা বলার সাথে সাথে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবেদকের কাছে ফোন আসতে থাকে। শুরু হয় তদবির, এক পর্যায়ে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি আসতে থাকে।

এ ব্যাপারে কনস্টেবল হেলাল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টানা বাইক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে ইমু তার বন্ধু বলে জানান।

ইমুর বড় ভাই ফয়সাল হিরু বলেন, আমি ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা ইয়াবা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। আমি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত নই।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সন্জুর মুরশেদ বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে পুলিশের পুরো টিম এখন নতুন। হয়ত টানা বাইক সিন্ডিকেট সনাক্ত করতে একটু সময় লাগবে। তারপরও কোনো তথ্য পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। যেই হোক না কেন আইন বিরোধী কোনো কাজে সংশ্লিষ্টাতার তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com