1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

‘কলমা পড়, তুই এবার শেষ’ সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে ওসি প্রদীপ

  • Update Time : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৫ Time View

ডিবিডিনিউজ : কক্সবাজারের টেকনাফ থানা পুলিশের বরখাস্ত হওয়া আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের রোষাণলের শিকার হন কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা। সংবাদ প্রকাশের কারণে তার বিরুদ্ধে করা হয় ছয়টি মামলা। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দৈনিক জনতার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালত ফরিদুল মোস্তফাকে জামিন দেন। এর আগে আরো ৫টি মামলায় জামিন পান এই সাংবাদিক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কারামুক্ত হওয়ার পর একটি গণমাধ্যমে ভিডিও সাক্ষাৎকারে ওসি প্রদীপের লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ আমাকে বলে, তুই কালেমা পড়ে নে, তোর সময় শেষ। এরপর আমি ভয়ে কালেমা পড়া শুরু করি। তখন ওসি প্রদীপ আমার বুকে সজোরে লাথি দেয়। এরপর আবার ঘাড় ধরে গাড়িতে তুলে নেয়। আমি মনে মনে ভাবলাম বিপদ কেটে গেছে, এবার মনে হয় কোর্টে সোপর্দ করবে। কিন্তু তারা সেখান থেকে আমাকে আদর্শ বালিকা ফাজিল মাদ্রাসার পর কবিতা চত্বরে নিয়ে যায়। সেই কবিতা চত্বরে সব সময় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়। যেটা প্রদীপ বাহিনীর টর্চার সেল। এখানে নিয়ে ফের আমার উপর আরেক দফায় নির্যাতন চালানো হয় এবং বন্দুকযুদ্ধে দেয়ার বিষয়টি বলাবলি করে। কিন্তু উপরের কোন কর্মকর্তার নির্দেশে তারা শেষ পর্যন্ত ক্রসফায়ার দেয়নি। এতে ওসি প্রদীপ খুব রাগান্বিত হয়ে আমার টর্চার করে।

সাংবাদিক ফরিদুল বলেন, আমার চোখ মুখ বেঁধে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। ওসি প্রদীপও আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তারা আমার দু’চেখে মরিচের গুড়া দেয় পাশাপাশি পিন দিয়ে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা চালায়। প্লাস দিয়ে নখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। হাতে পায়ে এবং মুখে দীর্ঘ সময় মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে আমি ‘পানি পানি’ করে চিৎকার করতে লাগলাম, তখন ওসি প্রদীপ প্যান্টের চেন খুলে প্রস্রাব এবং বাথরুমের মলমূত্র আমার মুখে লাগিয়ে দেয়। এরপর আধামরা অবস্থায়, আমাকে কয়েকজন মিলে ধরে টেকনাফ মডেল থানার তিন তলায় ঝুলিয়ে রাখে।

তিনি বলেন, টেকনাফের ওসি প্রদীপের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। আমি দুই দশক ধরে সাংবাদিকতা করছি। তার আগে আরো অনেকে টেকনাফের ওসি ছিল। সবার সঙ্গেই পেশাগত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ওসি প্রদীপ কুমার দাস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নির্মূলের নামে নিজেই বেপরোয়া মাদক সেবন, মাদকের ব্যবসা করেছে, মানুষকে মিথ্যা মাদকের মামলায় ফাঁসিয়েছে, টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়েছে। এলাকার নিরীহ মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, ভিটেবাড়ি উচ্ছেদ করেছে। বড় বড় অপরাধীদের অপরাধকে ছোট দেখানোর জন্য লাখ লাখ অর্থের লেনদেন করেছেন আবার টাকা না পেলে ছোট অপরাধকে বড় করে মামলা দায়ের করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com