1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

করোনা কালের ঈদ | জিন্নাত নেছা

  • Update Time : রবিবার, ২৪ মে, ২০২০
  • ১৪০ Time View

ঠিক প্রতন্ত গ্রামে নয়; বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায় আমার বাড়ি। ঢাকা নওগাঁ রোডে বাসে চড়ে মেইন রোডের কোল ঘেষেই মুরইল বাজার নামক এলাকায় আমাদের নীড়। বাস থেকে নেমেই গুনে গুনে ৫ কদম দিলেই বাড়িতে যেতে পারি।

হাতে গোনা ২টা ঈদ ঢাকায় করেছিলাম। একটায় সাথে ছিলো অরিনের বাবা, আর অন্যটাতে অরিন। অবশ্য ২০১৪ সালের সেই ঈদটায় আমার জীবনের মোড় ঘুরানোর ঈদ। আমি অসুস্থতার কারনে বাড়িতে ঈদ করতে যেতে পারিনি। ডি এন সি পরবর্তী প্রচন্ড পেটে ব্যথায় আমি যখন অরিনকে নিয়ে একা একা ঢাকার বাসায় কাতড়াচ্ছিলাম আমার জামাই বর তখন অন্য রমনীকে বিয়ে করে শ্বশুড়ালয়ে ঈদ পালন করছিলেন সবই আমার অগোচরে।যাক সেসব কথা।

এরপর থেকে আজ অব্ধি কোন ঈদ আমি আমার অরিনকে ছাড়া করিনি। ছেলে অনেকটা পথ চেয়ে থাকে আমি কখন বাড়ি যাবো। রাস্তায় দাড়িয়ে একটার পর একটা গাড়ি গুনতে থাকে আমি কখন গাড়ি থেকে নামবো। এমন কোনদিন হয়নি আমি ঈদে বাড়ি গিয়ে বাড়ির গেটের সামনে অরিনকে পাইনি।
কে জানে আজো হয়তো গাড়ির পর গাড়ি গুনেই চলেছে ছেলে আমার। কখন আসবে তার মা!!
কিন্তু মা তো আসবেনা, আসতে পারবেনা।

কারণ করোনা। করোনা একটা অলিখিত ঘোষণা দিয়েছে যদি বেচে থাকতে চাও তাহলে এইটা করা যাবেনা, সেইটা করা যাবেনা, ঈদে বাড়ি যাওয়া যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। সাথে এইটা করতে হবে সেইটা করতে হবে ইত্যাদি।

প্রতি ঈদে সন্ধ্যায় অরিনের একটা চাহিদাপত্র থাকে কি কি লাগবে তার জন্য। যেখানে কয়েক প্রকারের পটকা, আতশবাজি, মেহেদি। এগুলো তার চাইই চাইই। আমি জানি না আজ এই আবদার গুলো সে কার কাছে করছে??
ঈদের অনেক রাত পর্যন্ত অরিনের নানা আবদার। টিভি দেখা, মেহেদি পড়া, আতশবাজি, সেমাই খাওয়া আরো কত কি!

ঈদের দিন সকালে তাকে গোসল করিয়ে দিতে হবে, নতুন পাঞ্জাবি পড়িয়ে দিতে হবে, আতর সুরমা দিতে হবে নানুর সাথে মাঠে যাবে। সাথে একটা নতুন জায়নামাজ তার চাইই। কিন্তু এবার হয়তো তা আর হচ্ছেনা কারন করোনা।

ঈদের সেলামী তাকে দিতেই হবে। না হলে তার মান অভিমান শুরু হবে। হয়তো সারাদিন আমার সাথে কথায় বলবেনা।

কিন্তু এবারের ঈদে শুধু বিয়োজন। করোনা এই বিয়োজন আমাদের করে দিয়েছে। আমতলীতে ঈদ করতে হবে। ইমার্জেন্সিতে কাজ করতে হবে।বাড়ি যাওয়া যাবেনা। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে হলে নিজের প্রাইভেট কার থাকতে হবে। কিন্তু আমার মত ছাপোষা কই পাবে এসব? তাই অনেকের মত আমার ও সিদ্ধান্ত ঈদ এবার কর্মস্থলেই করবো। করছিও তাই। সারাদিন অফিস কাজের ব্যস্ততায় টের পাইনি নিজের ভেতরের সুপ্ত কষ্টটা। দিনশেষে যখন পরিশ্রান্ত মন নিয়ে বারান্দায় বসলাম তখন অকারনেই চোখের জলের ধারা জানান দিয়ে গেলো সত্যিই আমার কেউ নাই। চারিদিকে, আশেপাশে যতদূর চোখ যায় কাউকেই আপন মনে হয়না। প্রচন্ড রকম একাকীত্বের যন্ত্রণায় ঘিরে ধরেছে।

স্রষ্টার কাছে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নাই। বিজ্ঞানের বাহারি চমক আর মুনাফার কাছে আমরা অসহায়। এই জাগতিক বিষয়গুলো আমাদেরকে ঠকিয়ে চলেছে; অবিরত মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে, দিচ্ছে। প্রকৃতি হয়ত তার প্রতিশোধ নিচ্ছে।

আমি আশাবাদী। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন কায়মনোবাক্যে কামনা করছি। এ মায়াময় বাংলায় নিকট ভবিষ্যতে স্নিগ্ধ নতুন সূর্য নিশ্চয় আমাদেরকে আর প্রজন্মকে রক্ষা করবে, আগলে রাখবে। স্রষ্টার কাছে এই এক নিখাদ চাওয়া দিনশেষে চাইতেই পারি।

সকলকে করোনা কালের ঈদ মোবারক।

২৪ মে, ২০২০

লেখক : উন্নয়নকর্মী|

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com