1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কবি মাসউদ শাফি’র মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ ক্রোড়পত্র

  • Update Time : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪০৫ Time View

শূন্য দশকের শক্তিমান কবি মাসউদ শাফি’র ৬ষ্ঠ মৃত্যুবাষির্কীতে ডিবিডিনিউজ২৪.কম এর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হলো বিশেষ ক্রোড়পত্র- জসিম আজাদ


মাসউদের ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবসে এক টুকরো স্মৃতি
আলম তৌহিদ

আমার ছেলে আয়ান এবার দশম শ্রেণীতে যাবে। তার বয়স যখন চার, একদিন প্রশ্ন করে বাবা ‘কবি’ কি। আমি তাকে দুয়েকটা ছড়া-কবিতা শুনিয়ে বলেছিলাম, এগুলো যারা লিখে তারাই কবি। জানিনা সেদিন তার শিশুমন কতোটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

এই ঘটনার কিছুদিন পর ছেলেকে নিয়ে বেরিয়েছি বেড়ানোর উদ্দেশ্যে। পথে মাসউদের সঙ্গে দেখা। শামসুর রাহমানের মহান পুরুষের মতো এক ঝাঁকা বাবরী দুলানো চুল, পরনে উজ্জ্বল কমলা কালারের শার্টের সঙ্গে জীবনানন্দের ধূসর রঙের মতো জীনস, পায়ে পুরানো চপ্পল, কাঁধে ঝোলানো কবিতার ব্যাগ, যেন এক স্বতন্ত্র নগর বাউল এসে দাঁড়াল আমার মুখোমুখি। আমি ছেলেকে বললাম, তুমি ‘কবি’ কে জানতে চেয়েছিলে না, ও হচ্ছে কবি।

আয়ান বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়েছিল মাসউদের দিকে। কারণ এটি ছিল তার জীবনে প্রথম ‘কবি’ দেখার অভিজ্ঞতা। আজ মাসউদ নেই। ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর অসুস্থ অবস্থায় পৃথিবীর সমস্ত কবিতাকে বিদায় জানিয়ে শুধু মৃত্যুকে নিয়েছে বরণ করে। যদিও জানি মৃত্যুই চূড়ান্ত সত্য, তবু কিছু শূন্যতা, কিছু বেদনার ভার আমাদের বয়ে যেতে হয়।


ছাত্র হিসেবে মেধাবী মাসউদের কবিতায় ছিল প্রখর অন্তর্দৃষ্টি। জীবনবোধে মার্ক্সিয় দর্শনের বিপ্লবী সৈনিক কবিতার ভিত্তিভূমিতে তুলে আনতে চেয়েছে মেটাফিজিক্সের সারৎসার। প্রকৃতি ও বাস্তবতার সাথে আত্মচৈতন্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটে তার কবিতায়। আমি এখানে তার কবিতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করব না। শুধু মাসউদের কবিতার কিছু সংরাগময় পংতি তুলে ধরব।

“ছুরত ধরে কাবু করে আদায় করেছো পাওনা,
মুখোশ খুলে চাবুক মেরে উৎসব করে নাও না
নির্বাক প্রাণ আমি, জিয়ে রাখি যন্ত্রণা।” (ছায়ালোক)

“এখনো কেন প্রতিদিন দেখতে হয়-’৭১এর নরঘাতক
সাম্প্রদায়িক ধর্ম ব্যবসায়ী অপশক্তির উত্থান?
জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদী
বিশ্বায়নের নগ্ন খেলাঘর?” (চাই আরেকটি’ ৭১)

“অগাধ বিচ্ছেদ ভুলে অশ্রুকাতর চক্ষু তুলে হাসে
দ্বৈত মিলিত হই প্রতিদিনের নৈ:শব্দ্যিক কথোপকথনে।” (মাট অথবা মানুষ)

“অস্তিত্বের শেকড় বিসর্জনে গড়ে তোলা কাব্যপ্রাচীর
নৈঃশব্দ্যিক যোজনে ক্রমশ মূক হয় বৈশ্বিক নিয়মে
আমার ভেতরে আমাকে সারথি করে
উজান চিত্তে বাড়িয়ে তুলি সময়ের র্তীথ
চেয়ে রয় পড়শি সাগর আর বিশ্বাসী আদিনাথ।” (আত্মসন্ধান)

“আমার ভেতর সমুদ্র, সমুদ্রের ভেতর আমি,
সমুদ্র ও আমি মহাকালের যমজ সমকামী।” (সমুদ্র ও আমি)

—————————————————————————————–

মাসউদ শাফি বেঁচে আছেন বহুজন রূপে
মানিক বৈরাগী

আজ ২৩ডিসেম্বর মাসউদ শাফি’র ৬ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। অকাল প্রয়াত কবি মাসউদ শাফি’র কি সত্যি মৃত্যু হয়েছে? আমি বলবো না। মৌল কবি কখনো মরেনা, শুধু দেহগত হয় মাত্র। সে বিচরণ করে বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন রূপে। কারণ মৌল পদার্থ একটি শক্তি। শক্তির ক্ষয় নেই লয় নেই। রূপান্তর হয় মাত্র। সেই জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো করে “আবার আসিব ফিরে “।

মাসউদ শাফি ও তথাকথিত কবি যশো বা কবি লকব লাগিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্থরে প্রবেশের সুযোগ সন্ধানীরা মাসউদ শাফি’র কবিতা, ছিটেফোঁটা কিছু গদ্যানোভূতি যে যার মতো প্রকাশ, প্রচারের মাধ্যমে সে বেঁচে সে বারে বারে ফিরে ফিরে আসবে। তাদের সংখ্যাও কম নয়। তারা আবার কুম্বিলক গীরির মধ্যদিয়ে বিভিন্ন স্থরে সাময়িক নাম যশ ও যশরাজ হলেও আড়ালে মাসউদ শাফি জ্বলজ্বল করে হাসে। আমার কাছে আপাতত এক তথাকথিত কবি যশো বা চোরা কবি, পেশা ও নেশায় ফটকাবাজ, ফড়িয়া। তার কবি হবার একদা স্বাদ জেগেছিলো। সেই স্বাদ মেটাতে সে দারস্থ হয় আর একজন কবির কাছে। কবি তার অনুনয় বিনয়ে কবির আবেগী ও মানবিক, শিক্ষক মন বিগলিত হয়। সেই থেকে তার পথচলার সনদ পেয়ে একে একে বিভিন্ন জনের কবিতা এদিক সেদিক ওদল বদল করে প্রথমে স্থানীয় পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। এক পর্যায়ের দৈনিক কক্সবাজারে সাহিত্য পাতায় ফরহাদ মজহার এর কবিতা কে এদিক সেদিক করে সাহিত্য সম্পাদকের অমনোযোগীতার সুযোগে পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে হই হই রব উঠে।সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পত্রিকা অফিসে হুমকি দেয়,সাহিত্য সম্পাদকের চাকুরী চলে যায়। এসব আমার অজানা ছিলো, তখন আমার কবিতার সাথে ঘরগেরস্থালি হয়নি। যখন নিজেই প্রতারিত প্রেমিক হিসাবে কয়েক খানি পদ্য লিখে সাহিত্য সম্পাদক কে দেখতে দিলে সম্পাদক মহোদয় সম্পাদনা করে আমাকে পুরোদস্তুর কবি বানিয়ে দেয়। আমাকে কবি যশো বা কবি বানানোর অপরাধ টি করেছে অনুজ ভাই কবি রাহমান মুফিজ। এর কয়েক মাস পরে এই চোরা কবির সাথে আমার পরিচয় ঘটে বর্তমানে অসুস্থ আমার ওস্তাদ বন্ধু কবি খালেদ মাহবুব মোরশেদ। এরপরের বিষয় গুলো কক্সবাজার বাসি,ও অধিকাংশ কবি মহল জানে।

এবার আসাযাক মাসউদ শাফি’র বিষয়। শাফি’র সাথে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের অনুঘটক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শংকর বড়ুয়া রুমি। এরপর থেকে মাসউদ ধীরে ধীরে হরিহর আত্মা। মাসউদ শাফি’র সাথে আমার প্রেম প্রীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পানাহার, এসবও সবাই কম বেশি জানে।

অকাল প্রয়াত মাসউদ শাফি হাসপাতালে অসুস্থ, চিকিৎসা, মৃত্যু, এরপর নাগরিক শোক সভা, বার্ষিক স্মরণ সভা সহ বিভিন্ন ইস্যুও অনেকেই অবগত। ইতিমধ্যে ঘটে অঘটন। মাসউদ শাফি এখন যে কয়েক জনের ভেতর দিয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন এর মধ্যে নিলয় রফিক অন্যতম। নিলয় রফিক এর সাথে বর্তামান আমার সম্পর্ক খারাপ। কারণ আমি তার কবিতা বইতে কোথায় কোথায় মাসউদ শাফি’র কবিতা বিরাজমান তা নিয়ে মৌখিক আলাপ করলে, ঘটে যায় বিপত্তি। বিপত্তি না ঘটার পূর্বে এই রফিকের জন্য আমি কি কি করেছি না করেছি কক্সবাজার, মহেশখালী সহ রফিকের বন্ধু মহল ভালো ভাবে ওয়াকিবহাল। মাসউদ শাফি’র মৃত্যুদিনে আমি কি লিখতে গিয়ে কি লিখছি এমন প্রশ্নও হটকারি, অতিচালাক, অতিবাচল, অতি সুবিধাবাদীরা প্রশ্ন করে বসবে। তবুও যৌক্তিক কারণ আছে বলেই লিখতে হচ্ছে। মাসউদ শাফি’র কক্সবাজার শহরে এতো শুভানুধ্যায়ী আছে, তার পার্টির কমরেড গণ আছেন কিন্তু তাদের উচিৎ ছিলো মাসউদ শাফি কে সংরক্ষণ করা, তার লেখাজোখা যা আছে তা এক করে প্রকাশ করা। কেউ করেনি। কেউ তার এই দায়িত্ব পালন করেনি। তার মৃত্যু কালে কেউ রাতে তারে পাহারা দিতে যায়নি। কালাম আজাদ ছিলো, অর্ধেক রাতে ভয় লাগছে বলে সেও চলে আসে। আর আমিও তখন অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতালে মাসউদের কাছে সবসময় থাকা থলে থেকে তার খসড়া নোট প্যাড়ের কিছু কবিতার পাতা ছেড়া হয়েযায় ইতিমধ্যে। এরপর বিভিন্ন জায়াগায় ছড়িয়ে ছিঠিয়ে থাকা পত্রপত্রিকা, লিটলম্যাগাজিন, ভাজপত্র সংগ্রহ করি। সংগ্রহের কাজে সহায়তা করে কালাম আজাদ। এক গাট্টি স্থানীয় পুরানা পত্রিকা দিয়ে সহযোগিতা করে কবি নাসের ভুট্টা। কক্সবাজারের ফুলমানব গোলাম আলী সহ আরো অনেকে। নাম নিতে পারছিনা এতো দিনে ভুলে গেছি তাই। এই সংগৃহীত পত্রিকা গুলো থেকে যে যে পত্রিকায় তার লেখা পূর্বনাম শফিউল আলম মাসুদ ও মাসউদ শাফি নামে প্রকাশিত লেখা গুলো এক যায়গায় এনেছি। এবং কম্পিউটার টাইপে সহযোগিতা করেছে কালাম আজাদ। এসব কর্ম সব আমার বাসায় করেছি। তার ব্যবহৃত অন্যান জিনিস পত্র ও আমার বাসায় আমার বউ জায়নূর বেগম শাহীন খুব যত্ন সহকারে রেখেছে। তাও তার পার্টির লোকজনের দায়িত্ব। কিন্তু তা তারা পালন করেনি। আমি ছাত্র ইউনিয়নের, শহিদুল্লা, সৌরভ, মনির মোবারক, অন্তিক চক্রবর্তী সহ অনেক কেই বলেছি এসব আমার বাসা থেকে নিয়ে যেতে। তারা নেয়নি। মাসউদের শুভার্থী কমরেড কলিমুল্লাহ, রিদুয়ান আলী, হিল্লোল দাশ, শংকর বড়ুয়া রুমিও জানে, তাদের ও অবহিত করেছি অনেক বার। কিন্তু তারা কেউ আমার এই আহবানে সাড়া দেয়নি, বরং বলেছে আপনার কাছে আছে নিরাপদে আছে। এই নিরাপদে থাকার ভার যে কতো বোঝা আমি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এসব নিয়ে নতুন করে কথা তুলছে মাসউদের কবিতা লুটেরা। তা অনেকই আবার আমার কাছে এসে প্রশ্ন করে। এমনি একদিন পালের দোকানে কলিমুল্লাহ র উপস্থিতি খেলাঘরের জসিম হাস্যচ্ছলে কথা উঠায় এবং আমার সত্য ভাষণ শুনে কথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। এ কথা তোলার পেছনে কারণ হলো তথাকথিত প্রধান কবি সাবেক ছাত্রদল নেতা, সাবেক তাতিদল নেতা সিরাজুল হক জিহাদি ওরফে সিরাজুল হক সিরাজ ও নিলয় রফিক। উখিয়া বাসির অনেকেই জানে মাসউদ শাফি একসময় আঞ্চলিক গান গাইতো ও লিখতো। তার কয়েকটি অন্য অনেক শিল্পীদের সাথে মিক্সড এলবাম ও বের হয়েছিল। একটি এলবামে বুলবুল আক্তারও ছিলো। আপনার এসব তথ্য পাবেন উখিয়া তার সময়ে আঞ্চলিক গানের শিল্পীদের থেকে, মাসউদের বন্ধু মহল থেকে। আর পাবেন কক্সবাজার বঙ্গবন্ধু সড়কের আলাউদ্দিন রেকডিং হাউজ, হারুন ভাই, আর একজন সাতকানিয়া ওয়ালা ব্যবসায়ী, তিনি এখন দোকান করেন কি-না জানিনা। তো তার লিখিত গান ও নাকি কোন এক গীতিকার তার আঞ্চলিক গানের বইতে ছাপিয়ে মাসউদ কে বাচিয়ে রেখেছেন।

নিলয় রফিক তার তিনটি কবিতার বইতে মাসউদ কে বাচিঁয়ে রেখেছেন। এসব নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও কম হচ্ছেনা। রফিক শুধু মাসউদের কবিতা চুরি করেনি,সে এমন একজনের কবিতা চুরি করে ধরা খেয়েছে যিনি তার কবি নামটিও লিখে দিয়েছেন। আমার বন্ধু হলেও যাকে আমি প্রকাশ্যে স্যার ডাকি তিনি কবি খালে মাহবুব মোরশেদ। স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত অন্য অনেক কবির কবিতাও সে চুরি করে ঢাকার পত্রিকায় নিলয় রফিকের কবিতা আকারে প্রকাশ করে। এ বিষয়ে খুব বেশি ওয়াকিবহাল হলো কবি প্রাবন্ধিক হুমায়ুন সিদ্দিকী। আর স্থানীয় কোন কোন কবির কবিতা চুরি করে নিজের নামে প্রকাশ করে ধরা খেয়েছে সে বিষয়েও ওয়াকিবহাল কবি প্রাবন্ধিক সংগঠক হাসান মুরাদ সিদ্দিকী, কবি উপন্যাসিক নাসের ভূট্টো ও অন্যানরা। তবে অন্য কয়েকজনের বই এখনো বের হয়নি বলে উল্লেখ করা যাচ্ছেনা। শুনেছি মাসউদের আর এক অনুজ কবিও মেরে দিয়েছেন, তার বইটি আমি এখনো হাতে পাইনি। আমি মাসউদ শাফি’র বিদেহী আত্মার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই কবি সম্পাদক আলী প্রয়াস কে। আমার অত্যন্ত প্রিয় আলী প্রয়াস নিজ উদ্যোগে তার সম্পাদিত পত্রিকা “তৃতীয় চোখ” মাসউদ শাফি কে নিয়ে একটি ক্রোড়পত্র সংখ্যা প্রকাশ করে মাসউদ কে কিছুটা সংরক্ষণ করেছে। কিন্তু দুঃখ এখানে তার তৃতীয় চোখ এর কক্সবাজারে মাসউদের পার্টির লোকজন নিয়ে অনেকই আলী প্রয়াস কে টাকা দেয়নি। এই অপরাধ সম্পূর্ণ আমার, কারণ আলী পত্রিকা গুলো আমার কাছেই পাঠিয়ে ছিলো।

আজ অকাল প্রয়াত কবি মাসউদ শাফি’র ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবসে এসব কথা লিখতে আমাকে বাধ্য করেছে তার মৃত্যুর পর কিছু লুটেরা কবি যশো হটাৎ তার অতি দরদী হওয়ার কারণে। না লিখে উপায়ও নাই মাসউদের এলাকার কবি, মাসউদ প্রতিদিন যাকে রাতে তার শ্বশুর বাড়ির থেকে ঘরজামাই হিসাবে পাওয়া বাড়িতে পৌঁছে দিতো, সেই কবি সিরাজুল হক সিরাজ ও মাসউদের কবের বেড়া ও নাম ফলকের চাঁদার আমানতি চার হাজার টাকা দিয়ে ঘরে যদি টিন লাগায়। আর মাসউদের জন্মদিন উপলক্ষে ঐ টাকা চাইতে গিয়ে যদি নিলয় রফিক মারফত আমার বেইজ্জত হতে হয় আমি না লিখে আর কি করতে পারি মাসউদ তুই বল। আজ এতো টুকু বলবো তোর মৃত্যুদিনে তুই বেঁচে থাকবি অন্যজনের ভেতর দিয়ে আলো জ্বালাবি তুই আসলে কবিদের কবি।

জয় হোক তোর জয়তু মাসউদ শাফি।

—————————————————————————————-

প্রয়াত কবি মাসউদ শাফী এবং অজ্ঞাত আগুন
নাসের ভূট্রো

প্রয়াত কবি মাসউদ শাফী শূন্য দশকের শক্তিমান কবি। স্বভাবে বোহেমিয়ান। সে দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করত। ১. রক্তবাক। এটি তার নিজস্ব পত্রিকা। ২. দাহকাল। এটি ছাত্র ইউনিয়নের ককসবাজার জেলা সংসদের মুখপত্র।

মাসউদ তার জীবদ্দশায় প্রায়সময় আমার রুমে নিজ প্রয়োজনে গভীর রাতে হানা দিত আমিও ছোট ভাই হিসেবে তাকে সাদরে গ্রহন করতাম কারনঃ আমি দেখেছিলাম মাসউদের অসহায়ত্বের ভিতর কবিত্ব। আজ তার কবিতা কবিসম্প্রদায়ের সামনে দিয়ে লুট হয়ে যাচ্ছে অনবরত।
একদা মাসউদকে বলেছিলাম – বই বের করো,সহযোগিতা করবো। প্রতিউত্তরে সে বলেছিলো ঃ বুকে আগুন,মুখে আগুন সবখানে আগুনের লেলিহান… বই বের করলে বইয়ের শিরোনাম হবে ” অজ্ঞাত আগুন “।

কবি নিলয় রফিক! আপনারর অজ্ঞাত আগুনে শুধু মাসউদ পুঁড়েনি, পুঁড়েছে কবি ফরহাদ মাজাহার, কবি আবুল হোসেন, কবি খালেদ মাহবুব মোর্শেদ, কবি রহমান মুফিজ প্রমুখ।

আমার এখনো মনে পড়ে, খুব বেশী মনে পড়ে। কবি ফরহাদ মজাহারের বিখ্যাত কবিতা
” এখন আর নবীরা আসবেনা
কবিরা আসবে ”

এটি আপনার নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন ” দৈনিক ককসবাজার ” পত্রিকার সাহিত্য পাতায়।সাহিত্য সম্পাদক রহমান মুফিজ তার অসচেতনার কারনে ছাপানোর পর তার চাকরি চলে যায়।

তারপরঃ কবি খালেদ মাহবুব মোর্শেদের ” জলের জানালা ” শিরোনামের কবিতাটি আপনি নিলয় রফিক আপনার কাব্যগ্রন্হের নাম দিতে চেয়েছিলেন।কবি খালেদ মাহবুব মোর্শেদ প্রতিবাদ করাতে বই প্রকাশ করেন নি। আপনি পারেন বটে।

ঐ তো কবি নাসির উদ্দীন চকোরীর ” রাতফুল” কবিতাটি ” সাগর দেশ” পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হুমায়ুন সিদ্দিকী ছাপালে রাষ্ট্র হয়ে যায় আপনার খেলাফত।
প্রিয় নিলয় রফিক! আপনি এসব কুকর্ম করে ক্লান্ত হননি বরং সবল হয়েছেন। যখন দেখি আপনার কাব্যগ্রন্হ ” নুনা মানুষের মুখ” গ্রন্হে পড়ি কবি মাসউদ শাফীর ” সমুদ্র ও আমি “কবিতাখানি।

আর কতো করবেন? এভাবে সাহিত্য চর্চা হয়না। রাব্বুলআলামিন আপনাকে হেদায়ত করুন, আমিন।

—————————————————————————————

মাসউদ শাফি শেষ হবার নয়
হাশেম সৈকত 

মাসউদ শাফি শূন্য দশকের কবি। অকাল প্রয়াত মাসউদ শাফি কক্সবাজারে অভিভূত হয়েছিল ধূমকেতু রূপে। নিজের আগমন বার্তা জানান দিয়ে নিরবেই চলে গেলেন।

ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। আমৃত্যু বাম চেতনার মধ্যে যাপন করেছেন। মাসউদ শাফি স্বভাবে বোহেমিয়ান। তার সাথে প্রথম পরিচয় হয় ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে। মাসউদ শাফি আমার এক ব্যাচ জুনিয়র। সে উখিয়ার পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত। বিজ্ঞান বিভাগে। সপ্তম শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সে টানা ক্লাস ক্যাপ্টেন। তার সাথে কথা বলার প্রাসঙ্গিক বিষয় ছিল তার সম্পাদনায় পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রকাশিত ‘পালং সাহিত্য সাময়িকী’। এভাবেই শুরু।

ওই সময়ে উখিয়ার তরুণরা কক্সবাজারের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লিখি। আমরা কোর্টবাজারে নিয়মিত দেখা সাক্ষাত শুরু করে দিলাম। সাহিত্য কেন্দ্রিক আড্ডা শুরু হয়ে গেল। বৃহৎ কিছু করার জন্য একটি সাহিত্য সংগঠক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। সারোয়ার সাহেল, হাশেম সৈকত, সাগর ফরহাদ, মাসউদ শাফি, আবুল হাশেম কায়সারসহ অন্যান্য লিখিয়েদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল উখিয়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ – উসাসাস। এই সাহিত্য সংসদের প্রার্থীবিহীন প্রথম নির্বাচনে মাসউদ শাফি আর আমি সাধারণ সম্পাদক পদে সমান সংখ্যক ভোট পাই। সংগঠনে মাসউদ শাফি’র বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকায় আমি মাসউদ শাফিকে সাধারণ সম্পাদক পদে সমর্থন করলাম। সভাপতি নির্বাচিত হয় সারোয়ার সাহেল। আমি সাহিত্য সম্পাদক।

২০০২ খ্রিষ্টাব্দে আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় লিটল ম্যাগাজিন ‘ইনানী’। ইনানী বিপননে মাসউদ শাফির অগ্রণী ভূমিকা ছিল। শুধুমাত্র পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে রফিক উদ্দিন মাহমুদ স্যারের সহযোগিতায় ইনানী প্রায় আশি কপি বিক্রি হয়। ওই সময়ে এই সহযোগিতা নতুন সম্পাদকের জন্য বিশাল পাওয়া।

মাসউদ শাফি ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আমরা বারবার মাসউদ শাফি’কে তাগাদা দিতাম ভালো মতো আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য। সাহিত্য, ঘুরাঘুরির চেয়ে জীবনে এসএসসি পরীক্ষার মূল্য অনেক বেশি। আমাদের কথা কী মাসউদ শাফির কানে যায়! যথারীতি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে মাসউদ শাফির ফলাফল সি গ্রেড। এই ফলাফল দেখে আমি কখনো মাসউদ শাফিকে বিস্মিত বা হতাশ হতে দেখিনি। তারপর মাসউদ শাফি চলে গেল কক্সবাজার শহরে। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে, মন-মননে প্রগতির সারথি। কক্সবাজার গিয়েও তার চাল-চলনে কোন পরিবর্তন আসেনি। কোথায় খায়-ঘুমায় তার ঠিকঠিকানা নেই। তাকে বললাম- নিজেকে চেনো, কক্সবাজার সিটি কলেজ হতে অন্তত ইন্টারমিডিয়েট পাশ কর। তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখো। নিজেকে নিঃশেষ করনা। মাসউদ শাফি ম্লান হেসে বলেছিল- ‘আমি এখনো শেষ হয়ে যাইনি ‘।

আমি চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার জন্য কক্সবাজার ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে গেলাম। পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। মধ্যখানে দীর্ঘদিন দেখা/কথা হয়নি।

মাসউদ শাফি চট্টগ্রাম আসলে জসিম আজাদের পাখির দোকানের বাসায় উঠতেন। কবি হাফিজ রশিদ খান, এড. শেখ মোরশেদ, আলী প্রয়াসসহ অন্যাদের সাথে করে কক্সবাজার ফিরে যেতো। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে আমি আর জসিম আজাদ চকবাজার গোলজার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় মাসউদ শাফি আমাদের সামনে উপস্থিত। দু জনে কোলাকুলি করে অনেক কথা বললাম। তার পকেট প্রায় খালি থাকে। সকালে কিছু খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস না করে, তাকে ভালো মতো খাওয়ালাম। খাওয়া শেষে মাসউদ শাফি বলল- ‘কবি, পকেটে টাকা আছে? থাকলে কিছু টাকা দাও’ আমি বললাম – ‘ পকেটের অবস্থা ভালও না’। সে বলল- ’একটা সিগারেট হলেও কিনে দাও’। এটাই মাসউদ শাফির সাথে শেষদেখা, শেষকথা।

আজ মাসউদ শাফির একটি কথা বারবার মনে পড়ছে- ‘আমি এখনো শেষ হয়ে যাইনি’। সত্যি, মাসউদ শাফি শেষ হয়ে যায়নি। মাসউদ শাফি শেষ হবার নয়।

————————————————————————————

কমরেড মাসউদ শাফি লাল সালাম
জসিম আজাদ

আমার ভেতর সমুদ্র, সমুদ্রের ভেতর আমি;
সমুদ্র ও আমি মহাকালের যমজ সমকামী…
-মাসউদ শাফি।

এ মাসউদ শাফি ছিলেন একজন নিরেট অসাম্প্রদায়িক কলম শিল্পী, যার কলম থেকে বের হতো বৈষম্যহীন সমাজের আহবান। সমাজের সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ ছিলো ভিতরে-বাহিরে।

বিজ্ঞান ভিত্তিক-বৈষম্যহীন শিক্ষা ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন লালনকারী মানুষটি এখন কারণে-অকারণে কাউকে বিরক্ত করে না। সিগারেট, চা কিংবা খুচরা বিশটি টাকার বাইনা ধরে না। কারণ সে বিদায় নিয়েছে জীর্ণ সমাজে ভরা এ পৃথিবী থেকে।

আজীবন যে স্বপ্ন লালন করেছিলেন, যে আদর্শ ধারণ করেছিলেন তা বাস্তবায়নের সংগ্রামে আমৃত্যু লড়াইও করেছেন। লড়েছেন রাজপথে, মিছিলে, সমাবেশে, মানব-বন্ধনে, কবিতায়, প্রবন্ধে, আপাদমস্তক শরীরে।
সমাজের সমস্ত অসুস্থ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার কঠিন অবস্থান বাংলার প্রগতিশীল সমাজ সব সময় দেখেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে আপোষহীন, স্বাধীনচেতা মানুষটি ছাত্র জীবন থেকে ভারত উপমহাদেশের সর্বপ্রথম অসাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হয়ে পালন করেছেন সাংগঠনিক বিভিন্ন বিভিন্ন দায়িত্ব ন।

পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠনের সাথে। বিদায় পূর্বসময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলার সহ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ লোকটি তার জীবনের সমস্ত সংগ্রামকে অসম্পূর্ণ রেখে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।

তার একটি কবিতা বার বার মনে পড়ে-

“দীঘল দ্রোহী চেতনায়
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা রক্তদ্রোহ
নিমেষই ম্লান;
এভাবেই যাবে নাকি
আমাদের লালিত সংগ্রাম?”

চির বিপ্লবী কমরেড মাসউদ শাফি লাল সালাম।

———————————————————————–

সমুদ্রসন্তান মাসউদ শাফি
কালাম আজাদ 

আজ অকাল প্রয়াত কবি, আমার দীর্ঘ দিনের একই মত ও পথের সারথী মাসউদ শাফির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে এ রচনা। বিশ্বের সকল সৌন্দর্য প্রিয় এবং সৃষ্টিশীল মানুষ স্বপ্ন দেখেন সকল জরাজর্ণীতা, কথিত নীতি-নিময়ের নামে অলৌকিক ভন্ডমী ভেঙে একটি নতুন ভু-খন্ড তৈরি হোক। আর এ স্বপ্নের বাস্তবরূপ হয়তো সম্ভব হয়ে উঠে না। এ স্বপ্নের বিপরীতে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। খুব সম্ভবত এ প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জরাজর্ণী বিশ্বকে ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন একজন শফিউল আলম মাসউদ। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্মাপালং ইউনিয়নের রুহুল্লারডেবা গ্রামে তার জন্ম। তার একটি লেখায় তিনি নিজের জন্ম তারিখ উল্লেখ করেন ১৯৮২ সালের ১০ জুলাই। যদিও জাতীয়পরিচয়পত্রে উল্লেখ আছে ১০ জুলাই ১৯৮৬। তার পিতা এজাহার মিয়া ও মা ফিরোজা বেগম। স্কুল জীবনের শুরুথেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে তাকে সকলেই জানেন। কেননা তিনি স্কুল জীবন পেরিয়েছেন ফাস্ট বয় হিসেবে। স্কুল জীবনে সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে তিনি নিজের নাম লেখিয়েছেন। আর ওই সূত্রে তিনি প্রতিবন্ধকতার বিপরীতে নিজকে ভেঙ্গে নতুন করে পরিচয় লাভ করেন। ফলে একজন শফিউল আলম মাসউদ হয়ে যান মাসউদ শাফি। এ মাসউদ শাফি আমাদের কাছে বাঙলা সাহিত্যের শূন্য দশকের অন্যতম শক্তিমান কবি ও রাজনৈতিক। উখিয়ার পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংসদের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি থেকে তিনি জেলা সংসদের সহ-সভাপতি পর্যন্ত পদে দায়িত্ব পান। কিছু আশা অপূর্ণতায় শেষ করে গেছেন তিনি মাসউদ শাফি। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৫টায়। মৃত্যুর আগে লিভার জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন। এরিমধ্যে তার লিভার ও কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাঁচানো সম্ভব হলো না তাকে। ফলে শূণ্য দশকের শক্তিমান কবি মাসউদ শাফির এখন আমাদের কাছে হারানো এক স্মৃতির নাম। অথচ এ নামের ভেতরেই রয়েছে জরাজর্ণীতা ভেঙ্গে নতুন স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার নানা কথা। তার পরিবারের অন্যান্য ভাইরা প্রগতির বিপরীত ¯্রােতময় রাজনৈতিক দলের নেতা। সেই পরিবারের প্রতিকুল অবস্থার মুখোমৃুখি দাঁড়িয়ে একদিন মাসউদ শাফি পরিবারের স¤পর্ক ছিন্ন করে আরো একবার জরাজর্ণীতা ভেঙ্গে দেয়া নতুন স্বপ্ন প্রতিষ্ঠা করেন। টানা ১০ বছরের বাউন্ডুলে জীবনে কবির মুল বক্তব্য ছিল, ‘সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা রক্তপিপাসুদের খোঁজে বের করে তাদের সমূলে ধ্বংস করে নতুন সমাজ গড়তে হবে’। আর এ স্বপ্নের কারণে লেনিন, কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, চালর্স ডারউইন, স্টিফেন হকিং, আবুল ফজল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মাদামকুরী, শেক্সপিয়র, লিও টলস্তয়, ম্যাক্সিম গোর্কি, এন্থনিও গ্রামসী, শহীদ সাবের, ধীরেন শীল, আবুল হাসান, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ আরো অনেক স্বপ্নচারি মানুষের কথা এবং জীবনী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মুদ্রিত রচনার মধ্যে ‘কালো পর্দার রাজত্ব শিরোনামে ২০০০ সালে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় যে-কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখা বলে ধারণা করা হয়। যেটি উনি প্রায় সময় আমাকে বলতেন। মফস্বলে বসে কবি জাতীয় পত্রিকা ও সাময়িকীতে সমান ভাবে লিখেছেন। আমৃত্যু কবিতা চর্চা করলেও বের হয়নি কোনো গ্রন্থ। তবে ‘দাহকাল’ ও ‘রক্তবাক’ নামে সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। পাশাপাশি কক্সবাজারের একটি পত্রিকার সাহিত্য পাতা দেখতেন তিনি। সাম্প্রদায়িক ও যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরোধিতা করে ঘর ছেড়েছেন এবং আমৃত্যু তিনি রাজপথে এবং শ্লোগানে জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং পাশাপাশি আমৃত্যু নিজের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেননি। মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে কবি মাসউদ শাফি বলেছেন, সুন্দরের কথা। ‘সুন্দর’ নামের নামে লেখা কবিতায় তিনি বলেছেন (যে কবিতাটি মারা যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে আমার কাছে শুনতে চেয়েছিলেন এবং শুনিয়েছিও)। কবির ভাষায়: ‘কতোদিন সুন্দর দেখিনা! মন মন্দিরাটাও যে বাজেনা। আহা সুন্দর! এতোদিন তোমার কেনইবা দেখেনি? ছিলে কোথায়? তুমি আহা? আচ্ছা, তুমি কী সেই অদেখা, অ-নামিকা এক হৃদয় ভাংচুরকারিণী?‘ নাকি আমার ভেতরের হৃৎপিন্ডের অস্তিত্বের অবিরতমান অস্থিরতারই উৎস কিংবা সমাধান? নাকি ধরে নেবো-তোমার এই যে একফালি হাসি আর ফোর্টি নাইন ডিগ্রী কৌণিক চোখোচোখিতে বিনিমার্ণ হওয়া দু’জোড়া চোখেরই কেবল সামরিক মডারেটর?তিনি চেয়েছেন আরেকটি একাত্তরের। ‘চাই আরেকটি ৭১’ শিরোনামে লেখা কবিতায় লিখেন, ‘খুঁজে ফিরতে হয় বাঙালি জাতিসত্তা, স্বাধীনতা, গনতন্ত্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র তথা আমাদের চেতনায় লালিত সাম্যবাদের সমুচ্চারিত ম্লোগান। কোথায় আমার মুক্তিযুদ্ধের সেই মূল-চার সংবিধান নীতি? ‘ মানুষ ও কবি’ কবিতায় বলেছেন, ‘শহরে সাধারণত: মানুষ থাকেনা। আমাদের চৌখিক দৃশ্যমান মনুষ্যবিরূপ মানুষের কথা বলছিনা; তৃতীয় চোখে দৃশ্যত: মানুষের কথা-ই বলছিলাম। অমোঘ প্রলেতারিয়েত নি:সঙ্গ প্রাণজ-কাঠামো দেখেই যে লোক এঁকে দেয়- তার ভেতরে মর্মার্তোনাদের বিদগ্ধ কন্ঠস্বর, অসময়ে/ মুমূর্ষের মুখে যে দেয় তুলে জল আর শিখায় মাটির সত্যতা/ সূত্র মোতাবেক আকঁড়ে ধরার মগ্ন বন্দনা, সে লোক-দিগন্ত সৈকত‘। আসুন আমরা মাসউদ শাফির সুন্দরের হাত ধরে একটি আদর্শিক স্বপ্নে বলিয়ান হয়। তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

————————————————————————————

শিল্পের পবিত্র মাধ্যম কবিতা, তাও নিরাপদ নাই তস্করের হাতে
জানে হৃদয়

মানুষের জীবনে জানার কোনো শেষ নেই, আবার কোনো বিষয়ে না জানাটাও দোষের বা গ্লানির নয়। দোষের হয় তখনই, যখন নিজের মুর্খতার কারণে অন্যের জানাটাকে নিজের নামে প্রচারের কুশলী প্রয়াস দেখা যায়। এবার মুল প্রসঙ্গে আসি ‘একজন কবিতা চোর’ শোনা যায় প্রতি বছরই দু’একটি করে গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে তার । তবে এই বই লিখার মতো দক্ষ এবং যোগ্য লেখক কি, তিনি! সেই প্রশ্ন অনেকদিন ধরেই অনেক সচেতন পাঠকদের মনে ছিলো। অবশ্য এর উত্তর প্রমানসহই মিলেছে ২০১৮য়। হ্যা, এমনই এক নির্লজ্জ প্রমাণ।

২০১৮ এর বইমেলায়ও প্রকাশিত হয়েছে তার একটি কবিতার বই, নাম ‘অজ্ঞাত আগুন’। বইটির শরীরে কবির নাম হিসেবে লিখা ছিলো এই নাম –নিলয় রফিক।

কে এই নিলয় রফিক? যারা চেনেন তারা অবশ্যই বলবেন তিনি একজন চোর। তিনি সিদেল চোরদের মতো বাড়িঘরের তালা কেটে, ঘরের সিদ কেটে লোকজনের জিনিস চুরি করেন না।ইনি চুরি করেন মানুষের লিখা কবিতা। অজ্ঞাত আগুন সহ ইতোমধ্যে তার নামে প্রকাশিত হয়েছে কয়েকটি বই। তবে আসলে এই বইগুলোতে কয়টা কবিতা তার নিজের লেখা? শুধু সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অজ্ঞাত আগুন’ বইটির কথাই যদি বলি নিলয় রফিক তার এ গ্রন্থ নামটিও রেখেছেন শুন্য দশকের শক্তিমান কবি প্রয়াত মাসুদ শাফির একটি কবিতার শিরোনামে ।

“জলের জানালা, কবিতাটি –কবি খালেদ মাহবুব মোরশেদের সম্পন্নসাম্পান কবিতার বই থেকে সরাসরি কপি পেস্ট করে ছাপানো কবিতা। তেমনই আছে ‘নোনা মানুষের মুখ’ গ্রন্থে কবি মাসুদ শাফির ‘সমুদ্রও আমি ‘কবিতা। ” এখন আর নবীরা আসবেনা কবিরা আসবে” কবি ফরহাদ মজাহারের এ বিখ্যাত কবিতাটি “দৈনিক কক্সবাজার” পত্রিকার সাহিত্য পাতায় তার নামে ছালিয়ে দিয়েছিলেন। অসচেতনার কারনে এটি প্রকাশের পর সাহিত্য সম্পাদক রহমান মফিজের চাকরি হারান। “দালাল উঠছে দালান তাও রাজনীতি দালান ভাংছে দালান তাও রাজনীতি” কবি আবুল হাসানের এমন একটি কবিতা কে একটু এদিক সেদিক করে ৭০রের শ্রদ্ধেয় কবি সম্পাদক অমিত চৌধুরী কে ব্যাঙ্গাত্মক করে কবিতা লিখে অমিত চৌধুরীর ৬০বছর পুর্তি উৎসবের মূল্যায়ন অমিত চৌধুরী স্মারক সংখ্যায় কবিতা পাঠিয়ে কবিকে অপমান করে লিখে “দালান উঠছে দালান, দালানের কবিতা কই কবি দালান উঠছে দালান কবিতা নাই কবির খাতায়”। এমন ভাবে লিখে যা আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় অমিত চৌধুরী কে অপমান করে। কবিতা টির হস্তে লেখা কপি এখনো মূল্যায়নের স্মারক সংখ্যার নির্বাহী সম্পাদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। রফিক চুরি, প্যারোডিতে খুবই পারদর্শী। কারো কাছ থেকে কোন কিছু সুবিধা আদায় করতে না পারলে অন্যের কবিতা প্যারোডি করে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রকাশ করে।

এতো সেদিন নাসির উদ্দীন চকোরীর ‘রাতফুল’ নামক কবিতাটি সাগর দেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক কবি হুমায়ুন সিদ্দিকির অসচেতনায় তার নামে ছাপানো হলে কবিতার শহরে নিন্দার ঝড় উঠে। যে সংখ্যায় কষ্টশিশির নামে আমারও একটি কবিতা ছিলো। এভাবে বহু কবির কবিতা/কবিতার লাইন চুরি করে কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের লেখক তিনি।আবার এমনই কবিতা অনেক নামি দামি পত্রিকায় প্রকাশ হতে দেখে অবাক হই । প্রতিভাবান প্রতিষ্ঠিত এবং উদীয়মান কবিদের লেখা চুরি করে প্রকাশ করে নিলয় রফিক বিবেকের দংশন বিন্দুমাত্রও অনুভব করেননা! তিনি হয়তো ভাবেন কেউ জানবে না। সেজন্য এসব চুরি করা বইয়ের প্রচারণাও গর্বভরে ফেসবুকে শেয়ার করেন! ধরা খাওয়ার পরও এ কবিতাচোরের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। অবশেষে মহাপরাক্রমশালী এই চোরের দৌর্দণ্ড প্রতাপ শেষ হলো একজন সচেতন কবির হস্তক্ষেপে।

কবি মানিক বৈরাগী নিজের টাইমলাইনে একের পর এক পোস্ট দেন। তাতে স্পষ্টই ফাঁস হয়ে যায় কবিতাচোর নিলয় রফিকের অপকীর্তি, তার প্রত্যেক গ্রন্থের- পাতার পর পাতার ছবি তুলে প্রকাশ করেন তিনি। এভাবেই ফাঁস হয়ে যায় কবিতাচোরের কীর্তি, খুলে যায় মুখোশ। পাঠকরা ঘৃণাভরে এর জবাবদিহিতা চান। কবিতা একজন কবির লালিত সন্তান। আর সেই সন্তানকে যদি কেউ চুরি করে নিজের বলে পরিচয় দেয়,তবে তা কতটা ঘৃণিত আমার জানা নেই!আর যে সকল সংগঠন বা ব্যক্তি এমোন চিহ্নিত চোরদের স্বীকৃতি দেয়, তবে প্রকৃত, সাহিত্য আর মহত্ত্ব বলে কিছুই থাকবে মনে হয়না।

২৩ডিসেম্বর১৯, সৌদি আবর

—————————————————————————–

ঘুমাও কবি শান্তিতে
লিটন দেব নাথ

আমার রান্নার হাত তেমন ভাল না। একেবারেই ভাল না। ২০০৫ সালে বাসায় রান্না করার মতো কেউ ছিল না, মা কোথাও জানি বেড়াতে গিয়েছিল। একাই ছিলাম বাসায়। একদিন দুপুরে বাসায় মাসুদ ভাইকে নিয়ে আসলাম ২জন মিলে রান্না করলাম আলু আর চুরি শুটকী, মাসুদ ভাই আর আমি ২জন খেলাম, আমার রান্নার অনেক তারিফ করল। এর পর প্রায় ৬/৭ দিন আমার সাথে ছিল সে। প্রায় প্রতিদিনই ওই শুকটী রান্না করতে হতো…. এর পর প্রায় দেখা হলে বলতো লিটন শুকটীর তরকারী রান্না করে খাওয়াবে না? ভালই হল, পথের মাঝখানে আর লজ্জা পেতে হল না। ঘুমাও কবি শান্তিতে… ক্ষমা করো..মাঝে মাঝে বড্ড বাজে ব্যবহার করতাম..এখন আর করা হবে না।

———————————————————————————

আত্বার প্রার্থনা
(প্রয়াত কবি মাসুদ শাফির স্মরণে)
নাসের ভূট্রো

কবি মাসুদ শাফির আকীর্ণ আত্বা
আমাকে ঘুমুতে দেয়না….
ঝুলন্ত বন্ধনীতে জলন্ত হয়ে ঝুলে শব্দের প্রার্থনা।
ঐ যে মৃত্তিকার গালিছাতে দিব্যি শুয়ে আছে
কাব্য হয়ে নান্দনিকতার কবি,
বিশুদ্ধ ছওয়াবের কিছু দীপশিখা দীপালি আলোক
কারা যেন লুট করে প্রয়াত শীৎকারের মুগ্ধ-ভ্রুুণ।

দুঃখিত কবি!
আমরা তা চাইনি কখনোও তবু ফুল ও ফলে
কূলে কূলে আমাদের অভিমান
শূন্য পানে অন্তহীন উদাসীন।

 

—————————————————————————

সমূদ্র কবি
(প্রয়াত কবি মাসউদ শাফী)
জি.কে ধর

মানুষ বুঝি মৃত্যুর জন্য জন্ম নেয় এই রঙভবে,
যান্ত্রিকতার মাঝে যন্ত্রণা ভুলে থাকতে পেরেছে কে কবে?
বর্ণচোরা সে বন্ধু আমার এক পাহাড় অভিমান বুকে,
তামাকের ছাইয়ে চাপা দিলো অকথ্য কষ্ট ধুঁকে ধুঁকে।
জীর্ণ পালকের মুক্ত গাঙচিল নজর কাড়েনি কারো,
ছন্নছাড়া তবুও বলেনি একটিবার হাতটা আমার ধরো।
জীবন, মৃত্যু নিত্য খেলা করে এই রাঙ মঞ্চের সামিয়ানায়,
চাতকের চলে যাওয়া অমোঘের তরে মহাকালের ছায়ায়।
কারো অবহেলায় যেনো ঝড়ে যায় একটি ক্ষণজন্মা তারা,
তাই তো মাতম উঠেছে চারিদিক শূন্যতায় বাধনহারা।
ভক্ত কুলের হৃদয় পিঞ্জিরে বন্দি হলে হে চিরঞ্জীব তুমি,
তবুও হারায়ে খুঁজি সাহিত্যের নোনা সৈকতে দিবাযামী।
বিদায় বন্ধু, বিদায় হে ধ্রুবতারা অশ্রু শ্রাবণের ধারায়,
স্মরণীয় তুমি হে সমূদ্র কবি সাহিত্য স্মৃতির পাতায়।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com