1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কক্সবাজার ট্রাফিক অফিসে লেনদেন মাসে কোটি টাকা!

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৯
  • ৩৭ Time View

।।সারাদেশ ডেস্ক।।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ প্রতিমাসে লেনদেন হয় কোটি টাকার উপরে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকানো- নগদ নারায়ণে ছেড়ে দেয়াসহ চাঁদাবাজিতে বড় ফিগারের এ টাকা ট্রাফিক পুলিশের পেটে হজম হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গ্রাম থেকে শহরে প্রবেশ করা গাড়ি, অবৈধ টানা মটর সাইকেল, ফিটনেসবিহীন বিভিন্ন যানবাহন, ডেইট ফেইল, হেলমেট ও লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অজুহাতে এ টাকা আদায় করা হয়। চাহিদামতো চাঁদা না দিলে চালক ও মালিকদের নাজেহাল করার অহরহ অভিযোগও রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে।

কক্সবাজার শহর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শাখা ট্রাফিক বিভাগে বর্তমানে ৮ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই), টিএসআই ৩ জন ও ৪ জন সার্জেন্ট রয়েছে। এর বাইরে ঈদগাও, চকরিয়া ও উখিয়ায় একজন করে টিআই দায়িত্বে রয়েছেন। একইভাবে চকরিয়ায় ১ ও উখিয়ায় ১ জন সার্জেন্ট দায়িত্ব পালন করছেন। এসব ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র চেক করার নামে চাঁদা আদায় করে প্রতিনিয়ত। কাগজপত্র দেখার নামে বৈধ-অবৈধ যানবাহন থামিয়ে হয়রানি করে। গাড়ী বৈধ হলেও ট্রাফিক পুলিশের হাতে চাঁদা না দিয়ে রেহাই মিলছে না বলেও অভিযোগ চালকদের।

গাড়ী অবৈধ হলে সেসব গাড়ী থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এসবের পেছনে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান বকুল। তার নেতৃত্বে টিআই নাসির উদ্দিন ভূইয়া,আসাদুজ্জামান, বিল্লাল হোসেন, জালাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান পুরো কক্সবাজার শহর ও শহরতলীতে আটক বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকেন।
তারা প্রতিদিন অবৈধ হিসেবে মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস, কার, ম্যাজিক, চাদের গাড়ি, মাহিন্দ্র, দূরপাল্লার চেয়ারকোচসহ যানবাহন থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করেন। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের কনষ্টেবল জয়নাল, কবির, তোহা ও আমিনের নেতৃত্বে চার জনের সিন্ডিকেট ব্যস্ত থাকেন মাসোহারা তোলার কাজে। এ সিন্ডিকেটের দৈনিক টার্গেট দুই লাখ টাকা। সিভিল পোশাকে এ ৪জন প্রতিদিন সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে দুই লাখ বা সোয়া দুই লাখ টাকা আদায় করে রাতে ট্রাফিক অফিসের নিয়ন্ত্রক টিআই কামরুজ্জামান বকুলের কাছে জমা করেন। শুধু মাত্র ট্রাফিক অফিসের চাহিদা পূরণ করতে পারার গুণের কারণে এ চার ‘বীর কনষ্টেবল’ দীর্ঘদিন বহাল তবিয়তে দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি।
সূত্রমতে, প্রতিদিন উখিয়া, রামু, ঈদগাও, বাংলাবাজার, পিএমখালী থেকে সহস্রাধিক সিএনজি কক্সবাজার শহরে ডুকে। এক একটি সিএনজি থেকে মাসিক ভিত্তিতে ২২০০ টাকা করে আদায় করে ট্রাফিক অফিস। এছাড়া বড় পরিবহণ গুলো থেকে গাড়ীর পরিমাণ অনুপাতে কাউন্টার ভিত্তিক ৩০ হাজার, ৪০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ টাকা করে মাসোহারা আদায় করা হয়। এ তালিকায় রয়েছে গ্রীণ লাইন, শ্যামলী, শ্যামলী মা, এস আলম, সৌদিয়া, সোহাগ, টিআর ট্রাভেলস, হেনা পরিবহন, স্টার লাইন, হানিফ, হানিফ সুপার, মারছা, লোটাস, সেন্টমার্টিন সাভির্স, সেন্টমার্টিন হোন্ডাই, ইয়ার ৭১, রিলাক্স, লন্ডন এক্সপ্রেস, মিতালী, তিশা, বিআরটিসি, এসআই এন্টারপ্রাইসসহ অর্ধশতাধিক পরিবহন। এছাড়া চকরিয়া লাইনের গাড়ী, রামু লাইনের গাড়ী, উখিয়া ও টেকনাফ লাইনের গাড়ীও রয়েছে। এর বাইরে মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস, কার, ম্যাজিক, চাদের গাড়ি, মাহিন্দ্র তো রয়েছেই। উল্লেখিত গাড়ীগুলো থেকে প্রতিদিন কোন না কোন অজুহাতে অন্তত অর্ধশতাধিক গাড়ী আটক করে ট্রাফিক অফিসে জমা হয়। গাড়ী অফিসে ঢুকলেই কামরুজ্জামানের হকুম ছাড়া একটি গাড়ী নিয়েও অন্যান্য টিআইসহ কারও টু শব্দ করার কোন সুযোগ থাকে না। সন্ধ্যার পরপরই র্ট্রাফিক অফিসে বসে গাড়ির কাগজপত্র যাচাই বাচাইয়ের নামে টাকা কামাইয়ের হাট। এ সময় টিআই কামরুজ্জামান বকুল ও তার অনুগত মুন্সি নবী ব্যস্ত থাকেন টাকা নিয়ে ডয়ার ভর্তি করার ধান্দায়। প্রতিদিনের কামাই ও মাসোহারা হিসাব করলে মাস শেষে এ টাকা দাড়ায় কোটি টাকার উপরে। তাই কক্সবাজার ছোট শহর হলেও এটি ট্রাফিক পুলিশের কাছে টাকার খনি হিসাবে পরিচিত। টাকার খনির এ শহরে যে একবার আসে, সে এ শহর ছেড়ে যেতে যায় না। টিআই কামরুজ্জামান বকুলসহ অনেকেই আছেন, যাদের কক্সবাজার অফিসের চাকরির বয়স দুই, তিন, চার বছর পেরিয়ে গেছে। অনেকেই সার্জেন্ট থেকে টিআই পদোন্নতি নিয়েও কক্সবাজার শহরে রয়ে গেছেন। শুধুমাত্র বেহিসাবে অবৈধ টাকা কামানোর মজায়।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, যে কোনদিন রাতের বেলায় দুদক বা ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করলে টিআই কামরুজ্জামান ও মুন্সি নবীর ডয়ার থেকে ১০ লাখ টাকার উপরে পাবেন। এভাবে তারা চালক ও মালিকদের ঘাম ঝরানো টাকা লুটেপুটে নিচ্ছেন।

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের রুমখা এলাকার বাসিন্দা মটর সাইকেল চালক রিফাত জানান, গত বুধবার কলাতলী মোড়ে তার ব্যবহৃত মটর সাইকেল আটক করে ট্রাফিক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ীটি টানা ও অবৈধ দাবী করে দেয়া হবে না বলে জানানোর পর তদাবর করি। পরে ১৮ হাজার টাকা দিলে আমার অবৈধ টানা গাড়ীটি বৈধ হয়ে যায় এবং আমি ওই গাড়ী চালিয়ে বাড়ী চলে যায়।

একইভাবে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্নাশিয়া এলাকার সিএনজি চালক দেলোয়ার জানান, তার একটি সিএনজি আছে। সেটি চালিয়ে পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তিনি জানান, ২৬ জুন একজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে কোর্টবাজার থেকে জেলা সদর হাসপাতালে আসার পথে রাত ১১টার দিকে শহরের ভোলাবাবুর পেট্রোলপা¤প এলাকা থেকে ট্রাফিক সার্জেন্ট নিউটন গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশি করেন এবং গাড়িটি আটক করে পুরনো পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ট্রাফিক অফিসে দেখা করতে বলেন। তিনি সন্ধ্যার পর মূল কাগজপত্র নিয়ে ট্রাফিক অফিসে গেলে জরিমানা বাবদ ৮ হাজার ৭শ টাকা দাবি করা হয়। তিনি দাবিকৃত টাকার কিছুটা কম দিতে চাইলে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়।
একই ঘটনা জানালেন আদর্শ গ্রাম এলাকার আরেক চালক নুর কবির। গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তার সিএনজিটি আটক করে। গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ট্রাফিক অফিসে যোগাযোগ করার পরও গত ৬দিন পর্যন্ত কালক্ষেপণ করে জরিমানা হিসেবে ৮ হাজার ৭শ টাকা দাবি করে। তবে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও জরিমানার নামে অবৈধ টাকা আদায়ের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ফোন করলে ৫হাজার টাকা নিয়ে সিএনজিটি ছেড়ে দেন। প্রতিদিন রিফাত, দেলোয়ার ও নুর কবিরের মতো শত শত মটর সাইকেল, সিএনজি চালক ও অন্যান্য বাহনের চালক মালিকরা ট্রাফিক পুলিশের হাতে চরম ভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু পরিবহন জগতে থাকার কারণে তারা অসহায়। ভয়ে কারও কাছে অভিযোগ করার বা মুখ খোলার সাহস পায়না।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বণিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।-কক্সবাজার মেইল

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com