1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কক্সবাজারে হত্যার অভিযোগে আরো একটি মামলা; আসামী ওসি প্রদীপসহ ২৩ জন

  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ক্রসফায়ারে সৌদিপ্রবাসী এক যুবককে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তোভোগীর ভাই নুরুল হোছাইন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবর পাড়ার বাসিন্দা নুরুল।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ মধ্যরাতে পুলিশ তার ছোট ভাই মাহামুদুর রহমানকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের ১৬ জন সদস্যসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই দীপক বিশ্বাস, এসআই জামসেদ আলম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা, এসআই দীপঙ্কর কর্মকার, এএসআই হিল্লোল বড়ুয়া, এএসআই ফরহাদ হোসেন, এএসআই আমির হোসেন, এএসআই সনজিৎ দত্ত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, সাগর দেব, ওসি প্রদীপের গাড়িচালক জহির, কনস্টেবল হৃদয়, সৈকত, প্রসেঞ্জিৎ, উদয় এবং হ্নীলা ইউনিয়নের দফাদার নুরুল আমিন, স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল হোছাইন, ভুট্টো, আনোয়ারুল ইসলাম, নুরুল আলম ও নুরুল আমিন। মামলার এজাহারে এসআই দীপক বিশ্বাসকে ১ নম্বর এবং ওসি প্রদীপকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে মাহামুদুর রহমান কেনাকাটার জন্য হ্নীলা বাজারে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে টেকনাফ থানায় নিয়ে যায়। এর আগেই ওসি প্রদীপের জন্য ১০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন ইউনিয়নের দফাদার নুরুল আমিন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাহামুদুর রহমানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন ওই দফাদার। এরপর তাকে ধরে নিয়ে যাবার পর থানায় গিয়ে ছোট ভাইকে আটকের কারণ জানতে টেকনাফ থানায় গেলে থানার এসআই দীপক বিশ্বাস তাকে (নুরুল হোছাইনকে) ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেন। অন্যথায় ভাইয়ের লাশ পাবে বলে হুমকি দেয়।

নুরুল হোছাইন সাংবাদিকদের বলেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি জমি বন্ধক রেখে এবং পরিবারে নারীদের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ২৯ মার্চ ভাইকে মুক্ত করতে থানায় যান। সেখানে এসআই দীপক বিশ্বাসের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন। তখন এসআই দীপক আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেন। বাকি পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা ৩১ মার্চ মধ্যরাতে মাহামুদুর রহমানকে তুলে নিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভিবাজার এলাকার জাহাঙ্গীরের মাছের ঘেরে ক্রসফায়ারে হত্যা করেন।

দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করেন মাহমুদুর রহমান। দেড় বছরের একটি মেয়েও আছে তাদের। ভাই নুরুল হোছাইন বলেন, স্থানীয় কয়েকজনের যোগসাজশে টেকনাফ থানার পুলিশ পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইনসাফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেলাল উদ্দিন আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাহামুদুর রহমানের নিহতের ঘটনায় থানায় রুজু করা মামলার এজাহারসহ সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ ১০ পুলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সবাই চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com