1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৯
  • ৩১ Time View

।।হাশেম সৈকত।।

দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার। অখণ্ড একশত বিশ কিলোমিটার পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের জন্য কক্সবাজারের পরিচিতি পৃথিবী জুড়ে। নদী-সাগর, ঝর্ণা, পাহাড়, দ্বীপের সৌন্দয্য উপভোগ করার জন্য দেশ বিদেশের মানুষ বারমাস কক্সবাজারে ভিড় করে। সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, হিমছড়ি ঝর্ণা, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, আদিনাথ পাহাড় এ সবের জন্য, এককথায় দেশে বেড়ানোর শীর্ষস্থান কক্সবাজার। এখানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে দুইদশক পূর্বে থেকে শুরু হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে কক্সবাজার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এশিয়ান হাইওয়ে বাস্তবায়ন হলে, ভূগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে কক্সবাজার হবে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।

কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে ছেঁড়াদিয়া পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলা, কক্সবাজার, বান্দরবান জেলায় ষাট লক্ষের অধিক লোক বাস করলেও এখানে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাই। অথচ কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার যথাক্রমে একশত পঞ্চাশ ও চারশত পঞ্চাশ কিলোমিটার। দরিদ্র পিতার পক্ষে তার সন্তানকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দূরের কোন শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো সম্ভব হয়না। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত। কেননা কক্সবাজারে শিক্ষার হার এখন অনেক কম।

কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার উপযোগী জায়গা রয়েছে। রামু উপজেলার খুনিয়া পালং বা দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে শহীদ এটিএম জাফর আলম (কক্সবাজার – টেকনাফ) সড়কের উভয় পাশের জমি নির্বাচন করা যায়। বর্তমান সময়ের পাঠ উপযোগী বিষয়ের মাঠ পর্যায়ে শিখনের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ক্ষেত্র। বনবিদ্যা বা ফরেস্ট্রি র জন্য বন-বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ফিসারিজের জন্য মৎস্য প্রকল্প-নদী, ওশনোগ্রাফি বা সমুদ্রবিজ্ঞানের জন্য সমুদ্র, ট্যুরিজমের জন্য পাঁচ তারকা হোটেলসহ পাঁচ শতাধিক হোটেল, কোস্টাল ম্যানেজমেন্টের জন্য সমুদ্র উপকূল, ম্যানগ্রোভ বন আছেই।

সরকার কক্সবাজারের উন্নয়নে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অনেক প্রকল্প ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তার মধ্যে মেরিন ড্রাইভ রোড, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, আনোয়ারা -মহেশখালী গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন, ইত্যাদি। চলমান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), দোহাজারি- ঘুনধুন রেললাইন, হাইটেক পার্ক, সাব-মেরিন ঘাটি নির্মাণ প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, সাবরাং এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন, মহেশখালীতে চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, খুরুস্কুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, এল এন জি ও কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ১২০০ মেগা ওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি।

উল্লেখিত উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করলে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত হবে। কক্সবাজারে আরও দেশী – বিদেশী পর্যটকের সমাগম হবে।

কক্সবাজারের গণ মানুষের দাবী, কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হউক।

প্রভাষক,  থানচি কলেজ, বান্দরবন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com