1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

এমএসএফ কর্মী মরিয়মের দুই শিশু এখনো মায়ের অপেক্ষায়

  • Update Time : শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৪৪ Time View

।।সুজন কান্তি পাল/শরীফ আজাদ, দরগাবিল থেকে ফিরে।।

‘সীমান্ত বিহীন চিকিৎসক দল’ শ্লোগান নিয়ে এমএসএফ হল্যান্ড নামের একটি আন্তর্জাতিক এনজিও চাকুরিচ্যুত করার পর একজন নারী এনজিও কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা কথা উঠেছে। ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই নারী কর্মীর মৃত্যু নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, ‘সীমান্ত বিহীন চিকিৎসক দল’ এ শ্লোগান নিয়ে এমএসএফ হল্যান্ড নামের একটি আন্তর্জাতিক এনজিও চাকুরিচ্যুত করার পরই এই নারী কর্মীর মৃত্যু ঘটে। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও কর্মীদের ছাঁটাই বন্ধ করার জন্য এবং স্থানীয়দের চাকুরি নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম যখন তুঙ্গে। ঠিক এসময়ে এনজিও নারী কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক চোখে দেখছে না আন্দোলনকারী সংগঠন গুলো।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, মৃত মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালংস্থ সীমান্ত বিহীন চিকিৎসক দল এই স্লোগান নিয়ে পথচলা এমএসএফ হল্যান্ড হাসপাতালে ক্রাউড কন্ট্রোলার পদে কর্মরত ছিলেন। তার সাথে একই হাসপাতালে কর্মরত উখিয়ার দরগাবিল গ্রামের মৌলানা আবদুর রশিদের পুত্র ক্লিনার ওবায়দুল হকের সাথে ৮/৯ বৎসর পূূর্বে বিয়ে হয়। শুরুতে তাদের সুখের সংসার বেশ ভালোই যাচ্ছিল। তাদের সংসারে ইতিমধ্যে দুটি সন্তানেরও জন্ম হয়। কিন্তু সুখ আর সুখ রইল না। অভিযোগ হাসপাতালের আরেক কর্মচারী সালমা বেগমের সাথে ওবাইদুলের নতুন সম্পর্ক মরিয়মের সুখের সংসারে যেন কাল হয়ে আসে। সালমা-ওবাইদুলের এই নতুন সম্পর্কের কারণে মরিয়মের সংসারে দিন দিন অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে বলেও জানা যায়। যার প্রভাব পড়ে তাদের কর্মস্থলেও। সালমার সাথে সম্পর্ক ঠিকিয়ে রাখার জন্য ওবাইদুল প্রথমে মরিয়মকে মৃত্যুর ৩/৪ মাস আগে ডির্ভোস দেয়। পরে এমএসএফ হল্যান্ড হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে হাত করে কৌশলে মরিয়ম বেগমকে তার কর্মস্থল থেকেও কোন কারণ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার ছাঁটাই করিয়ে দেয়। ছাঁটাইয়ের পর ওবাইদুল কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে মিষ্টি বিতরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তা শুনেই অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে অবশেষে গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১ টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মরিয়ম বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বলে জানা গেছে।

আজ সরেজমিনে কমরেড কলিমুল্লাহ’র নেতৃত্বে সামাজিক আন্দোলনের সংগঠন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ ও স্থানীয়দের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামরত অপর একটি সংগঠন ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিরা’র সভাপতি শরীফ আজাদের নেতৃত্বে অপর একটি টীম ঘটনাস্থল উখিয়ার দরগাহ বিল গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে কথা বলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য, নিহতের বড় বোন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে। তারা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছে দুই সন্তান নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা মরিয়মকে কোন কারণ ছাড়াই চাকরি থেকে ছাঁটায় ও সালমা বেগম নামে এক মেয়ের সাথে ওবায়দুলের নতুন বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘোষণাই মরিয়মের মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

এই ব্যাপারে অভিযোগের তীরবিদ্ধ সালমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ওবায়দুলের সাথে তার বিয়ে পাকা-পাকি হয়েছিলো। এবং মৃত্যুর পূর্বদিন ওবায়দুলের সাবেক স্ত্রী মরিয়মের সাথে তার মোবাইলে কথা হয়। তবে তিনি মরিয়মের সাথে তার দুর্ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: ইকবাল বলেন, মরিয়ম অসম্ভব ভালো মেয়ে ছিলো। সালমা নামে এক মেয়ের সাথে ওবায়দুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর পর ওবায়দুল মরিয়মকে ডির্ভোস দেয়। গত বৃহস্পতিবার তার চাকরি চলে গেলে সে মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়ে। এবং এক পর্যায়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাত বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে স্বামী পরিত্যক্তা মরিয়ম বেগমই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম। তার মৃত্যুতে বর্তমানে পরিবারে যেন অমানিশার অন্ধকার নেমে এসেছে। মরিয়মের মৃত্যুকে নিয়ে উখিয়ার সর্বত্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী গত রাতে জানান, মরিয়ম নামের এনজিও কর্মীর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। তিনি বলেন, ‘আমি খবর নিয়ে জেনেছি, চাকরিচ্যুতির পর মরিয়ম ঘরে এসে মন খারাপ করে শুয়ে পড়ে। রাতে এক পর্যায়ে বলে তার বুক ব্যথা করছে। তাকে কক্সবাজারে হাসপাতালে নেওয়ার সময় গতকাল শুক্রবার সকালে তার মৃত্যূ ঘটে’।

এ বিষয়ে আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিন বলেন, বিদেশী এনজিও এমএসএফ হল্যান্ডে থেকে কোন কারণ ছাড়াই মরিয়ম বেগম চাকরিচ্যুত হওয়ায় স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে শুনে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের পক্ষ থেকে মৃত মরিয়মের পরিবারের সাথে দেখা করতে যাই। দরিদ্র পরিবারের হতভাগি এই নারী চাকুরি নেন এমএসএফ হল্যান্ড নামের এনজিওটিতে। চাকুরির টাকায় দুই সন্তানের খাবার জুটত দরিদ্র পিতার ঘরে। কিন্তু চাকুরিচ্যুতির পর তার স্বপ্ন খান খান হয়ে যায়। বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের অন্যতম সংগঠক মহসিন শেখ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বহুজনের সাথে কথা বলেছি, যতটুকু মনে হল হঠাৎ চাকরি হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মূলত স্ট্রোক করেছেন এ নারীকর্মী।

স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করার আন্দোলনের অন্যতম নেতা এইচ.এম নজরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও গুলোর বেপরোয়া আচরণ, কথায় কথায় কর্মীদের ছাঁটায় বন্ধে এবং স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করার দাবীতে আন্দোল যখন তুঙ্গে ঠিক সেই মুহুর্তে এমএসএফ হল্যান্ড পূর্ব কোন ঘোষণা চাড়ায় মরিয়মকে চাকরিচ্যুত করে এমএসএফ হল্যান্ড তাদের আসল রূপ প্রকাশ করেছে। সরেজমিনে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে যতটুকু জানা গেছে, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মরিয়মের মৃত্যু হয়।

পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল আলিম নোবেল বলেন, শুনা যাচ্ছে কথিত এনজিও এমএসএফ হল্যান্ডের কর্মী মৃত মরিয়মের পরিবারের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। এভাবে কারও মৃত্যু গ্রহণযোগ্য হয় নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com