1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

এনজিও ‘মমতা’র ঘুষ বাণিজ্য ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

  • Update Time : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
  • ১৩৬ Time View

ডিবিডিনিউজ রিপোর্ট : সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছোট উদ্যোক্তা, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা উপার্জনের সহায়ক ক্ষুদ্রঋণের নামে উখিয়ায় গ্রাহক হয়রানি শিকার হচ্ছেন। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের প্রতিনিয়ত হেনস্থা, হয়রানি , গ্রাহকদের নিঃস্ব করা ও নতুন ঋণের আবেদনকারীদের ঋণ প্রদানে অপারগতা, কমিশন বাণিজ্য, কাগজপত্রের নামে জিম্মি করে রাখা সহ নানান অভিযোগ এখন চরমে। আর এইসব অভিযোগের তীর উখিয়ায় ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয়কারী সংস্থা মমতা ও উখিয়া ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সরকার কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে ৩০ জুন পর্যন্ত কাউকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করা যাবে না উল্লেখ করে গত ২২ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। এরপরও প্রজ্ঞাপনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা হয়েছিল। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য ২৫ মার্চ আরও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এমআরএ।

এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক অক্ষমতার কারণে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি অপরিশোধিত থাকলেও তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় ৩০ জুন পর্যন্ত কিস্তি বা ঋণকে বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না।

আর সরকারের এসব ঘোষণাকে তোয়াক্কা না করে সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির নামে মমতা নামক সংস্থা এরমধ্যে কিস্তি আদায়ের জন্য ঋণগ্রহীতাদের ব্যাপকভাবে হয়রানি করেছে। এমনকি ঋণ আদায়ের জন্য উখিয়া ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রিপন দাসের নির্দেশে কর্মকর্তা মহিউদ্দীন সরকারের নির্দেশিত সময়সীমার আগেই ব্যবসায়ী ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয়। ঋণগ্রহীতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপার্জন বন্ধ থাকলেও ঋণ পরিশোধে মমতার কর্মীরা চাপ প্রয়োগ করে। বাধ্য হয়ে ঘরের বউয়ের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে কিস্তি পরিশোধ করে‌ বলে জানান কোটবাজারের ব্যবসায়ীরা।

আর এই সব করা হচ্ছিল সদ্য যোগদান করা উখিয়া ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রিপন দাসের নির্দেশে। এমন অভিযোগ করেন ঋণগ্রহীতা একাধিক ব্যবসায়ী।
এছাড়াও এই সংস্থা মমতার ঋণ গ্রহণ করে সুদের ভারে জর্জরিত হয়ে ব্যবসা ছেড়েছেন এমনও ব্যবসায়ি কোটবাজারে রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সেসব ব্যবসায়ী সুদের টাকা পরিশোধের বয় পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, সংস্থার নতুন ম্যানেজার রিপন দাসের যোগদানের পর থেকে নতুন ঋণগ্রহীতারাও পড়েছেন হয়রানির মুখে। ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয়কারী সংস্থা মমতার একাধিকবার ঋণগ্রহীতা গ্রাহকরা সঠিক সময়ে কিস্তি পরিশোধের পরও পাচ্ছেন না নতুন ঋণ। ঋণের আবেদনের পর দিনের-পর-দিন মমতার শাখা অফিসে গিয়ে ধরনা দিলেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না নতুন কোনো ঋণ। আর এর ঋণ ছাড়ের জন্য কমিশন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজার রিপন দাস ও কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। কমিশন দিলেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে নতুন ঋণ।

এদিকে নতুন উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপদে। সরকার উদ্যোক্তাদের ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ের সুযোগ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। আর সরকারের ঘোষণাকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টায় নেমেছে মমতা ও তার উখিয়া ব্রাঞ্চের ম্যানেজার রিপন দাস। তিনি উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাবি করেন জমির মূল দলিল সহ নানান জটিল কাগজপত্র। আর এই সব কাগজপত্র নিয়ে জিম্মি করে রাখেন গ্রাহকদের। চুন থেকে পান খসলেই জমাকৃত কাগজের ভয় দেখানো হয়।

এদিকে জমির মূল দলিল প্রদান করতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিছু কিছু গ্রাহকের সঞ্চয় জমা টাকার বড় ঋণ দিচ্ছেন না ম্যানেজার রিপন দাস।

অন্যদিকে কষ্ট জমানো সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকরা পড়ছেন নানা ঝামেলায়। দিনের পর দিন অফিসে গিয়েও পাচ্ছেননা সঞ্চয়ের জমানো টাকা। টাকা প্রদানের নামে করা হচ্ছে নানান তাল বাহানা।

কিছু গ্রাহক এইও অভিযোগ করেন, সঞ্চয় ও ঋণ প্রদানকারী সংস্থা মমতা কিছুদিন আগে ও গ্রাহকদের ঋণ প্রদান ও সঞ্চয় জমার জন্য উদ্বুদ্ধ করতো। গ্রাহকদের নানান ভাবে সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু নতুন ম্যানেজার রিপন দাসের যোগদানের পরে পাল্টে গেছে চিত্র। একের পর এক অভিযোগ এই রিপন দাসের বিরুদ্ধে। সরকারি ঘোষণা ও নীতিমালাকে থোড়াই কেয়ার করে যাচ্ছেন তিনি। চলছে তার স্বেচ্ছাচারিতা। স্বনামধন্য মমতা গ্রাহক অসন্তুষ্টি নিয়ে গ্রাহক হারানোর পথে। এভাবে চলতে থাকলে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা ঋণ খেলাপির পথে যেতে পারেন।

তাদের দাবি, নতুন ও পুরাতন গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে তাদের জীবিকা অর্জনে সহায়তা করবে এই সংস্থা। এছাড়াও সরকারের ঘোষণা ও নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করা রিপন দাসের কমিশন বাণিজ্য স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের গ্রাহক ধরে রাখবেন। সেই সাথে ক্ষুদ্রঋণের সেক্টরে সরকারের সাফল্যকে আরো দীর্ঘায়িত করবে বলে তাদের আশাবাদ। সূত্র- উখিয়া নিউজ টুডে

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com