1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

একদিকে আত্মসমর্পণ! অন্যদিকে বদলেছে ইয়াবার রং

  • Update Time : সোমবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৮৪ Time View

।।তানভীর শাহরিয়ার, কক্সবাজার।।

মরণ নেশা ইয়াবার কৌতূহল পুরো দেশজুড়ে। সীমান্ত জনপথ কক্সবাজারে যখন আয়োজন করে ইয়াবা পাচারকারীদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া চলছে তখনই ইয়াবার রং বদলে মিয়ানমার থেকে পাচার হচ্ছে লাল রঙের পরিবর্তে সাদা ও হলুদ রঙের নিষিদ্ধ ইয়াবা। সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে ইয়াবাপাচারে স্থলভাগের কিছু অংশ এবং সমুদ্রপথ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবাপাচার কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেটি পুরোপুরি বন্ধ করাও সম্ভব নয় এমনটাও মনে করেন প্রসাশন। মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে স্থলভাগে বিজিবি ও সমুদ্রপথে কোস্ট গার্ড এর পরেও পাচারকারীরা সক্রিয়। প্রসাশনকে ফাঁকি দিয়ে ঠিকই ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে। পুরো কক্সবাজারে যখন আয়োজন করে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া চলছে তখনই বদলে গেছে ইয়াবার ধারণ। একদিকে চলছে ইয়াবা গডফাদারদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া আর অন্যদিকে বদলেছে নিষিদ্ধ ইয়াবার রং। সদ্য ইয়াবা সেবনে কক্সবাজারে দু যুবকের মৃত্যুতে নাড়া দিছে সেবনকারীদের একাংশে। আর অন্যদিকে ইয়াবার অগ্রসান চলছে পুরো দেশজুড়ে। সম্প্রতি ২ সেনা সদস্য ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাও যেন অজেনার বিষয় নয়। সে সাথে উখিয়া থাইংখালীর বিশাল একটি চালান চট্রগ্রামে পুলিশের হাতে আটক অন্যদিকে টেকনাফে ২৫ কোটি টাকার ইয়াবার আরেকটি চালান আটকের পর সদ্য ২৫২ গডফাদারের চুড়ান্ত তালিকার মধ্য দিয়ে ফের নতুন করে স্হানীয়দের ভাবিয়ে তুলছে ইয়াবার কৌতূহল। তবে ইয়াবা আগের চেয়েও শতকরা ৮০ ভাগ বেড়েছে রোহিঙ্গা আসার পর থেকে। মাদক পাচার রোধে সরকারের জিরোট্রলারেজ বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কক্সবাজার থেকে ক্রাসফায়ারের আওতায় আসছে অর্ধশত যার মধ্যে সীমান্তের টেকনাফের বেশিরভাগ। পাশাপাশি ইয়াবা সহ সীমান্তে ক্রাসফায়ারে নিহিত হন ২০ জনের অধিক রোহিঙ্গারা গডফাদার ও পাচারকারী। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা শিবিরের রয়েছে ইয়াবার মজুদ আর এ মজুদকৃত ইয়াবা বিক্রি করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্হার লোকজনকে এ কাজে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে রোহিঙ্গার একটি বড় সিন্ডিকেট। রোহিঙ্গাদের ঘনিষ্ঠ একটি সুত্রমতে, অনুসন্ধানে উঠে আসে, রোহিঙ্গারা কমপক্ষে ৫০ বছরের জন্য দেশে ঘাতক নেশা ইয়াবা নিয়ে এসেছে। পাহাড়ী জনপদের প্রতিটি স্হানীয়দের বাড়িতে এগুলো মজুদ করেছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া কক্সাবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহর পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, ময়নার ঘোনা, জামতলি, কুতুপালং, মধুরছড়া, লম্বাশিয়াসহ পুরো ঝুপড়ির বসতি জুড়ে মাটি ভিতর গর্ত খুড়ে কোটি কোটি পিস ইয়াবার চালান মজুদের খবর পাওয়া গেছে।

গোপন সুত্রে পাওয়া তথ্যে আরো জানা যায়, বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রীক শতাধিক ইয়াবা গডফাদার মাটির নিচে মজুদকৃত কোটি কোটি পিস ইয়াবার চালান নীরবেই রাতদিন পাচার করে যাচ্ছে। এতে দেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িয়ে পড়ছে। বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ওমর, নুরুল হক, সিরাজ, জালাল, জি-৯ ব্লকের মাঝি রহমান, শাকের, সাদেক, জলী হোছনসহ শতাধিক রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটের নিকট মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমান ইয়াবা। স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি সিন্ডিকেট এগুলোর নেপাথ্যে রয়েছে পাচের কাজে সহোযোগিতার জন্য। ইয়াবার এ ভয়াবহ অগ্রাসন থামানো না গেলে বাংলাদেশ অন্তত আরো ৫০ বছরের জন্য পিছিয়ে যাবে। সকলকে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যেগ নিয়ে তা প্রতিরোধের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। ইয়াবার এ ভয়াবহতার কবলে পড়ে ধীরেধীরে দেশ মাদকাসক্ত রাষ্ট্রের তালিকায় শীর্ষ স্হান দখল করবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com