1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

উখিয়া ইউএনও’র মূল্য তালিকা মূল্যহীন! তালিকা দেখে চালকের তাচ্ছিল্যের হাসি!

  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ২৮ Time View

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন :

কক্সবাজার টু উখিয়া’র বিভিন্ন স্টেশন অবদি সিএনজি ভাড়া নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। যাত্রীর সাথে চালকের বাকবিতণ্ডা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। উভয়পক্ষ যখন চরমে ঠিক তখনই পরম দায়িত্ববোধ থেকে উখিয়ার ইউএনও সাহেব সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের চৌধুরী, খাঁন বাহাদুরদের নিয়ে বৈঠকে পুনঃ বিতর্কিত ভাড়া নির্ধারন করে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে সুপ্ত করে বহু লোকের গর্জনে ফেসবুকীয় প্রশংসা অর্জন করেছিলেন! প্রাপ্তী আর ফলাফল বলতে সেটুকুই!

কারণ, পরের বাস্তব চিত্রগুলো যে, যে লাউ সেই কধু তা আমার দুটি অভিজ্ঞতা-ই বলে দেয়। বাকিদের সাথে ঘটে যাওয়া কিংবা ঘটমান চিত্রগুলোও ঠিক একই রকম। হয়তো আরো কিছুটা বেশি।

যা-ই হউক…..
মূল্য তালিকা প্রকাশের পরদিনের ঘটনা। কক্সবাজার থেকে মরিচ্যা আসব। তাই সিএনজি স্টেশনে গিয়ে জনৈক সিএনজি চালককে কৌতুহল বশত মরিচ্যা পর্যন্ত ভাড়া কত জানতে চাইলে বলেন প্রতিজন ৬৫ টাকা! আমি বললাম, ভাড়া কমে গেছে মনে হয়? তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন, “হ্যাঁ, কমেছে! আগে ছিল ৬০ টাকা, আর নতুন তালিকা অনুযায়ী ভাড়া ৬৫ টাকা! ভাড়া কমিয়ে বরং আমাদেরই লাভ হল!” আমার একটু তাড়া ছিল বলে অন্য যাত্রীর জন্য অপেক্ষা না করে রিজার্ভে আসলে কত জানতে চাইলে সেই একই কথা। বলল, আগে ৩০০ টাকা আর এখন ৩২৫ টাকা। অগত্যা গাড়িতে চেপে বসা ছাড়া কোন উপায় ছিলনা। যেতেযেতে ভাবলাম, যাত্রীরাতো বেশ ভালভাবেই শুভঙ্কর বাবুর ফাঁকিবাজির খপ্পরে পড়ে গেল! যা-ই হউক, গন্তব্যে পৌঁছে ৫০০ টাকার নোট দিলে চালক আমাকে ২০০ টাকা ফেরত দিয়ে বললেন, অাপনার কাছ থেকে ২৫ টাকা কম নিলাম! বেচারা হয়তো বুঝতে পেরেছিল, ওটা আমার শ্বশুরবাড়ির এলাকা! নয়তো তার মনে হয়েছিল, ২৫ টাকা বেশি নেওয়াটা যাত্রীর প্রতি অবিচার হয়ে যায় কিনা। তাই আবারও কৌতুহল বশত তার কাছে জানতে চাইলাম, সবার কাছ থেকে কি এভাবে কম নেন? বলল, “মাথা খারাপ? আমি কম নিলে অন্য চালকরা ধরবেনা? তাছাড়া, ভাড়ার ব্যাপারে ইউএনও’র নির্দেশনা অাছেনা?” মনেমনে বললাম, সত্যিই তো, বেশি নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা নির্দেশনা মানায় আমরা কতই না বাধ্য! আর কম নেওয়ার ক্ষেত্রে সব নিয়মনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি! হউক না সেটা ইউএনও কিংবা অারো বড় কোন কর্তার নির্দেশনা!

গতকাল পুনরায় সিএনজি করে কক্সবাজার থেকে কোর্টবাজার আসলাম। নেমে চালকের হাতে ১০০ টাকার নোট দিলে তিনি আমাকে বিশ টাকা ফেরত দিলেন। আমি আরো মিনিট খানেক দাঁড়িয়ে থাকলাম। ভেবেছিলাম, আরো দশ টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু না। তার ভাবসাব অন্যরকম দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, ইউএনও সাহেবের স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়াতো ৭০ টাকা, তাহলে আশি টাকা রাখলেন কেন? উত্তরে মুখের উপরই বলে দিলেন, ভাড়া ৮০ টাকা। বললাম, তাহলে ইউএনও সাহেবের নির্দেশনা? বললেন, কিসের নির্দেশ? কিসের ইউএনও? গাড়ি কি ইউএনও সাহেবের? বিতন্ডা না বাড়িয়ে দশ টাকার চেয়ে ইজ্জতের মূল্য বেশি ভেবে হজম করে নিলাম। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কি দরকার ছিল ইউএনও সাহেবের এসব করার? নিজ স্বাক্ষরিত নির্দেশনার বাস্তবায়ন করতে পারবেননা যদি, তাহলে কেন এমন নির্দেশনায় স্বাক্ষর করে তা পাবলিকের জন্য প্রকাশ করলেন? একজন ইউএনও’র স্বাক্ষরিত নির্দেশনার কি কোন মূল্য নেই চালকদের কাছে? এর নেপথ্যে কি মালিক সমিতি কিংবা শ্রমিক সংগঠনের সাথে অন্যকোন কর্তাবাবুদের নতুন করে কোন গোপন হিসাবনিকাশ হয়েছে? হয়তো…। নয়তো নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান নয় কেন? ইউএনও সাহেবও হয়তো হাল ছেড়ে দিলেন?

৫/১০ টাকা যাত্রীদের জন্য হয়তো বেশি কিছু নয়। কিন্তু বিষয়টা ভবিষ্যতের জন্য চিন্তনীয়। আজ যদি এটার লাগাম টেনে দেওয়া না হয়, তাহলে কিছুদিন পর হয়তো এক লাফে সেই ভাড়া গিয়ে দাঁড়াবে ১০০ টাকায়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে তা কোন অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুরোধ কিংবা স্বাক্ষরিত নির্দেশনার প্রতি চালকদের তাচ্ছিল্যের হাসি! কিন্তু আমরা ভাবি, নেপথ্যে বিশেষ কিছু না থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। কি রয়েছে সেই নেপথ্যে?

লেখক : ব্যাংকার।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com