1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

উখিয়ায় ফোর মার্ডারের ক্লু বের করার চেষ্টা চলছে

  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩৬ Time View

শরীফ আজাদ :

উখিয়া উপজেলার রত্মাপালং ইউনিয়নে পূর্ব রত্নার কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার মা, স্ত্রী, শিশুসহ ৪ জন কে জবাই করে নৃশংস ভাবে হত্যার ক্লু বের করতে তদন্তে নেমেছেন চট্টগ্রাম থেকে আসা পিবিআই এর ফরেনসিক টিমের সদস্যরা। একই সাথে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম।

বুধবার মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া হত্যা কান্ডের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়া থানার পুলিশ মৃতদেহের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতরা হলো হলো-মৃত প্রবীণ বড়ুয়ার স্ত্রী সখী বড়ুয়া (৬৫), রোকেন বড়ুয়ার স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৬) শিশু পুত্র অনিশ বড়ুয়া (৬), শিবু বড়ুয়ার মেয়ে সনী বড়ুয়া (৫)। ঘটনাস্থল থেকে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান ডিবিডিনিউজ ২৪ ডটকমকে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির চাদের সিঁড়ি দিয়ে নীচে প্রবেশ করে ৪ টি জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। ওই সময় হত্যাকান্ডের খবর শুনে শত শত লোকের ভিড় জমে।

এদিকে একই পরিবারে শিশুসহ ৪জনকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জান চৌধুরী, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন । দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম হতে পিবিআই এর উচ্চ পর্যায়ের ফরেসিক টিম বিকাল ৩ টায় ঘটনাস্হলে এসে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করে সন্দ্ব্যায় ৭ টায় ৪ জনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠিয়ে দেন।

এর আগে সকালে সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সদস্যরা লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরি করে পুরো বাড়িতে ক্রাইম সিনের বেল্ড দিয়ে গিরে রাখেন। ওই সময় প্রশাসন ও আাইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ব্যতিত কাউকে লাশ দেখতে দেয়নি। আলামত যাতে নষ্ট না হয় সে লক্ষে এটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর। সকালে পরিদর্শনে আসা জেলা প্রশাসক কামাল হোসন বলেছেন এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনার ক্লু বের করতে প্রশাসের পক্ষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনে জড়িতদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সাথে এ হত্যাকান্ড নিয়ে কোন অবস্থাতে অতিরঞ্জিত না করে সবাইকে ধর্য্য ধরার আহবান জানান।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আমরা দ্রুত ঘটনার ক্লু বের করার চেষ্টা করতেছি এবং কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন পুলিশের ক্রাইম সিন ম্যানেজম্যান্টের বিশেষজ্ঞ ও পিআইবি ফরেনসিক টিম যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যার ক্লু বের করার চেষ্টা তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুর করেছেন।

স্থানীয় মেম্বার ডাক্তার মুক্তার আহমদ বলেন রোকেন বড়ুয়া বর্তমানে কাতারে রয়েছেন। ছুটিতে এসে দেশে এসে কয়েক মাস বাড়িতে থাকার পর দেড় মাস আগে পুনরায় কর্মস্হল কুয়েতে চলে যান। পরিবারে বয়োবৃদ্ধ মা সখি বড়ুয়া স্ত্রী মিলা বড়ুয়া ও ছেলে শিশু অনিশ একসাথে বসবাস করত।ঘটনার রাতে ভাই শিবু বড়ুয়ার ছোট কন্যা সনি বড়ুয়া দাদীর সাথে ঘুমাতে এসে হত্যার শিকার হন।

সিআইডির পরিদর্শক এ এম ফারুক বলেন, ঘটনাস্থল একটি ধারালো দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মিলা বড়ুয়াকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের পরে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে এ বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে বুধবার মধ্যরাতের পর তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান গত বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির ছাদের উপরের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে সকলকে জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কি কারনে ঘটনাটি ঘটতে পারে কেউ কিছু বলতে পারছেনা নিহতের পরিবার যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশের নিকট জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com