1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

উখিয়ার মনসুর চৌধুরী ৪৫ বছরেও আওয়ামীলীগ হতে পারেননি !

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৭৬ Time View

ডিবিডিনিউজ২৪ রিপোর্ট :

আওয়ামীলীগের তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকে। আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। এ ব্যাপারে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ২৪ অক্টোবর তিনি প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গড়া নতুন কমিটিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের পদায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি নানা কারণে বিতর্কিত এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ঠিক সেই সময় উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তূর্ণমূল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মুখে বার বার শুনা যাচ্ছে একটি প্রশ্ন, মনসুর চৌধুরী ৪৫ বছরে কি আওয়ামীলীগ হতে পারেননি ?

এক বয়োজ্যেষ্ঠ আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের উপর নেমে আসে এক কঠিন সময়। সে সময়ে কেউ মুজিব নাম উচ্চারণ করাটা ছিলো তার জগন্যতম অপরাধ। এই কঠিন সময়ে সমস্ত ভয়কে উপেক্ষা করে কবি র্নিমলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে তার কবিতায় লিখেছিলেন-

“সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।”

কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার পর কবি নিমলেন্দু গুণের উপর কি পরিমান নির্যাতত হয়েছিল সে কথা হয়তো আজকের অনেক আওয়ামীলীগীয়ানরা জানে না। জানেন না কবি র্নিমলেন্দু গুণের মত হাজার হাজার নেতা-কর্মী মুজিব আদর্শকে পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে শ্রম আর ঘাম জড়ানোর কথা। মামলা-মোকাদ্দমা কাধে নিয়ে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে রাত কাটানোর কথা।

আজ আওয়ামীলীগের সুসময়। এ সুসময়ে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের বন্ধুদের কেউ খবর রাখে না বরং পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে যারা আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছিলেন, যারা বিএনপির মতাদর্শ বিশ্বাস করতেন এবং যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সখ্যতা ছিলো তাদের উত্তরসূরীরা আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্থান পায়। এত পঁচাত্তর পরবর্তী নির্যাতিত ত্যাগি নেতা-কর্মীরা অপমানিকত হন। সে সব নেতাদের একজন আবুল মনসুর চৌধুরী। তিনি পচাত্তর পরবর্তী দু:সময়ে ৪ বছর (১৯৭৮-১৯৮২) কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সংগঠনের জন্য রক্ত দিয়ে ছিলেন, ঘাম ঝড়িয়ে ছিলেন এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছেন। জীবনের ৪৫টি বছর আওয়ামীলীগকে মনে ধারণ করে আওয়ামী পতাকাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিয়ে দলকে সংগঠিত করার কাজ করেছে। আওয়ামীলীগের কোন দু:সময়ে আওয়ামীগকে ছেড়ে অনেকের মত অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হননি এরপরও বর্তমানে কোন কমিটিতে জায়গা হয় না মুজিব আদর্শবাদী এ আওয়ামী নেতার।

তিনি জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি মুজিব আদর্শের রাজনীতির সাথে যুক্ত। দেশের রাজনীতি সহ সবকিছুতে পরিবর্তন আসলেও এই মানুষটির আদর্শগত কোন পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক আদর্শ ও জীবন যাপন আজীবন একই রকম। ছাত্র জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার জন্য চষে বেড়িয়েছেন কুতুবদিয়া থেকে টেকনাফ। সব জায়গায় তার অবাধ বিচরণ। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন সবার প্রিয় ছাত্রনেতা। জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংগঠনকে আরো বেশি সংগঠিত করার জন্য অনেক বেশি নিবেদিত হয়ে পড়েন। যার কারণে তিনি নিজের পড়াশোনাকে কাংখিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারেননি। অন্যান্য ভাইয়েরা ডাক্তার কিংবা শিল্পপতি হলেও তিনি হয়েছেন একজন জনদরদী রাজনীতিবিদ। তিনি টাকার চেয়ে মানুষের ভালবাসাকে অধিক মূল্যায়ন করতেন। কখনো মুজিব আদর্শকে বাদ দিয়ে কিছু চিন্তা করতে পারেনি এবং বিন্দুমাত্র আদর্শচ্যুত হননি। সুখে-দুখে সব সময় জিব আদর্শবাদীদের সাথে ছিলেন, পাশে আছেন। পরবর্তিতে মূল দলের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৮৫-১৯৯১ সাল পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মনসুর চৌধুরী, সবসময় সাধারণ মানুষের সাথে সদাচরণ করেন, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকেন। জীবনে ৪৫ বছরের বেশি সময় রাজনীতি করেছেন কিন্তু কখনো নিজেকে বিতর্কিত কোন কাজে জড়ায়নি। আবুল মনসুর চৌধুরী, আজীবন মানব সেবার লক্ষ্যে রাজনীতি করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রসারের কাজও করে যাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com