1. azadzashim@gmail.com : বিডিবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
  2. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :

অসম সাহসিকতায় রাজপথে আপোষহীন ‘শরীফ আজাদ’

  • Update Time : শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯
  • ৬৩ Time View

।।সুজন কান্তি পাল।।

একজন মানুষ তখনই মানুষ হয়ে উঠে যখন সে হীনতা বর্জন করে মানবিক গুণাবলী অর্জন করে। সেই অর্জনের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষকে মানুষ হিসেবে জানা। মানুষের ভালোবাসা তার অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকে। জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকে আপন করে নেয়ার আত্মশক্তি অর্জন তাকে মহান করে তোলে। সে অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ মেধা-মননে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।

যে মানুষ সাম্প্রদায়িক, সে পশুর চাইতে অধম। তবে অনেকেই তার ব্যতিক্রম হয়ে থাকেন। আজ যার কথা বলছি সে আর কেউ নয়। যে আমার স্পর্শে এসেছিলো, যার মধ্যে আমি দেখেছি মানবতাবাদ, আপোষহীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। সে হচ্ছেন শরীফ আজাদ। অনুজপ্রতিম। রাজনীতি করতে গিয়ে আমি তাকে দেখেছি আপাদমস্তক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন বিনয়ী স্বভাবের কর্মী। রাজনীতিতে যার হাতে-খড়ি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই। ২০০৭-৮ সময়ে আমি খুব কাছ থেকেই দেখেছি এই প্রতিবাদী ছেলেটিকে। সেনাসমর্থিত সেই সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীরা যখন জেল-জুলুমের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ঠিক তখনি শরীফ আজাদরাই সেদিন জ্বলে উঠেছিলো রাজপথে অসম সাহসিকতা নিয়ে।

সেই দু:সময়ে আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম নিতে অনেকেই ভয় পেতেন। উখিয়ার বড় বড় রাজনৈতিক দলের অনেক নেতারা সেদিন আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। ঠিক তখন শরীফ আজাদদের মত কর্মীরাই কিন্তু টানেলের শেষ প্রান্তে জ্বলা নিভু-নিভু আলো হয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন আমাদের ক্ষয়িঞ্চু রাজনীতির মাঠে ও মিডিয়ায়।

যে ক্রান্তিকালে জাতীয় দিবসে আমরা শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার মতো মানুষও খুঁজে পাইনি। সে সময়ে শ্রদ্ধায় অবনত মস্তকে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েছিল শরীফ আজাদের মত ভয়হীন তারুণ্য।

দুঃসময় পেরিয়ে ২০০৮ ডিসেম্বর নিবার্চনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আসীন হয় রাষ্ট্র ক্ষমতায়। শুরু হয়ে যায় রাজনীতিতে অসুস্থ প্রতিযোগীতা। ক্ষমতাসীন দলে ভিড়তে থাকে নীতিহীন মানুষের ভিড়। নীতির এ আকালে শরীফ আজাদেরা ক্ষমতাসীন দলের ফ্যাশনেবল রাজনীতির সাথে আর তাল মিলাতে না পেরে আশ্রয় নেয় উপমহাদেশের প্রথম অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও বিপ্লবী ধারার ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে।

শুরু হয়ে যায় সংগ্রামের নতুন স্বাপ্নিক যাত্রা। ২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের উপজেলা সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বশীলতার সহিত ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বলিষ্ট নেতৃত্ব দিয়ে পরিণত হয় ছাত্র সমাজের প্রিয় মুখে। সে সময় কোটবাজার কেন্দ্রিক কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সমাজের রাঘব-বোয়ালদের বাঁকা চাহনীর শিকারে পরিণত হয় এ শরীফ আজাদ। অপর দিকে তৎ সময় তার নেতৃত্বে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত প্রজন্মের কাছে অসাধারণ আলোড়ন তোলে।

এরপর দায়িত্ব নেয় বাম ধারার যুব সংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের। ‘কোটি যুবক বেকার রেখে সোনার বাংলা হবে না’ শ্লোগানকে ধারণ করে সে থেকে যুব সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে মেধা, শ্রম ও ঘাম ঝড়িয়ে পরিণত হয় যুব সমাজের আইকনিক লিডারে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক এনজিও গুলো থেকে স্থানীয়দের ছাঁটাই ও চাকরি বঞ্চিত যুব সমাজের অধিকার আদায়ে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’র ব্যানারে গড়ে তোলে ব্যতিক্রমধর্মী এক সংগ্রাম। তার নেতৃত্বে উখিয়ার যুব সমাজ নতুন করে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছে। এ যেন এক নতুন প্রেরণা।

আজ আদর্শহীনতার এ বৈরী সময়ে দেশ যখন দূর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঠিক তখনই শরীফ আজাদেরা আদর্শের অনির্বাণ শিখা বহন করে ছুঁটছে তার অভিষ্ট লক্ষ্যপানে।

লেখক: মফস্বল বার্তা প্রধান, কক্সটিভি ও সাবেক জেলা প্রতিনিধি মোহনা টেলিভিশন।

Please Share This Post in Your Social Media

“অসম সাহসিকতায় রাজপথে আপোষহীন ‘শরীফ আজাদ’” এ একটি মন্তব্য

  1. Ashab Uddin Hero বলেছেন:

    এমন বস্তুনিষ্ঠ ও সৃজনশীল প্রতিবেদন, যাঁরা ন্যূনতম আদর্শ বুকে নিয়ে একটি নিয়মতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন লালন করেন,তাঁদেরকে উৎসাহ যোগাবে নি:সন্দেহে।
    সমাজ গঠন-পুনর্গঠনের রাজনীতি আজ বিস্মৃত।এমন সময়ে আদর্শের রাজনীতি বিড়ম্বনা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনা।
    তবে শরীফ আজাদরা সেই বিড়ম্বনাকে আপন করে নিয়েই স্রোতের প্রতিকূলে দাঁড় টানার দু:সাহস নিয়ে পথ চলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
© 2018 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | dbdnews24.com
Site Customized By NewsTech.Com